উট কেন দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া বাঁচতে পারে?

উট কেন দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া বাঁচতে পারে?
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

প্রখর রোদ, বালির ঝড়, তাপমাত্রার চরম ওঠানামা! মরুভূমির এরকম পরিবেশ মানুষের জন্য যেমন নির্মম, অধিকাংশ প্রাণীর জন্যও তেমনি অসহনীয়। তবু এই কঠিন প্রাকৃতিক পরীক্ষার ভেতর দিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে আছে একটি প্রাণী, উট। দিনের পর দিন, কখনো সপ্তাহের পর সপ্তাহ পানি না পেয়েও কীভাবে উট চলতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে উটের দেহগঠনের অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতার ভেতরে।

অনেকেই মনে করেন, উট তার কুঁজে পানি জমিয়ে রাখে। বাস্তবে বিষয়টি কিন্তু তেমন নয়। উটের কুঁজে পানি নয়, থাকে চর্বি। আর সেই চর্বিই তাকে টিকে থাকতে সাহায্য করে।

যখন খাবার ও পানি অপ্রতুল হয়, তখন উট এই চর্বি ভেঙে শক্তি উৎপাদন করে। এই চর্বি ভাঙার সময় শরীরের ভেতরে তৈরি হয় মেটাবলিক ওয়াটার অর্থাৎ বিপাকীয় প্রক্রিয়া থেকে উৎপন্ন পানি। চর্বি ভাঙলে কার্বন ডাই অক্সাইডের পাশাপাশি তৈরি হয় পানি। এই অভ্যন্তরীণ পানিই উটকে দীর্ঘ সময় বাইরের পানি ছাড়াই টিকে থাকতে সহায়তা করে থাকে।

রক্তকণিকার বিশেষ গঠন!
উটের রক্তের লোহিত কণিকা (RBC) অন্যান্য প্রাণীর মতো গোলাকার নয়, বরং ডিম্বাকৃতি। এই বিশেষ আকৃতি দুটি বড় সুবিধা দেয়।

১। শরীরের পানি কমে গেলেও রক্তকণিকা সহজে সংকুচিত হয় না।

২। হঠাৎ অনেক পানি পান করলেও রক্তকণিকা ফেটে যায় না। আর এজন্যই উট একবারে প্রচুর পানি পান করতে পারে,কখনো তা ১০০ লিটার পর্যন্ত। এই সময় রক্তের ভেতরে হঠাৎ পানির চাপ বাড়লেও তাদের রক্তকণিকা নিরাপদ থাকে।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ:
মানুষের শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেই ঘাম শুরু হয়। কিন্তু ঘাম মানেই পানি ক্ষয়। উটের শরীর এখানে অন্যরকম কৌশল নেয়। উট তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বাড়তে দেয়, যাতে ঘাম না হয়। দিনে তাপমাত্রা বাড়ে, রাতে কমে। এই ওঠানামার মাধ্যমে উট অপ্রয়োজনীয় ঘাম এড়িয়ে পানি সাশ্রয় করে।

মূত্র ও মলের মাধ্যমে পানি ক্ষয় কমানো!
উটের কিডনি অত্যন্ত দক্ষ। এটি খুব ঘন মূত্র তৈরি করে, যাতে পানি অপচয় কম হয়। একইভাবে উটের মল খুব শুকনো হয়, যা জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য। অর্থাৎ বলা যায়,শরীর থেকে পানি বের হওয়ার সব পথেই উট নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

নাকের ভেতরের গঠনও পানির সাশ্রয় করে!
উটের নাকের ভেতরে বিশেষ এক কাঠামো আছে, যা নিঃশ্বাস ছাড়ার সময় বাতাসের ভেতরের জলীয় বাষ্পকে পুনরায় শোষণ করে নেয়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও পানি অপচয় কম হয়।

শরীরের কোষ পানিশূন্যতা সহ্য করতে পারে!
অধিকাংশ প্রাণীর দেহের পানি ১০–১২% কমে গেলে গুরুতর সমস্যা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু উট তার শরীরের মোট পানির প্রায় ২৫–৩০% পর্যন্ত হারিয়েও বেঁচে থাকতে পারে। এই সহনশীলতা অন্য প্রাণীর মধ্যে খুবই বিরল।

একবার পানি পেলে দ্রুত ঘাটতি পূরণ!
দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া থাকার পরও উট যখন পানি পায়, তখন খুব দ্রুত সেই ঘাটতি পূরণ করতে পারে। অল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পানি পান করে শরীরকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।

প্রকৃতি মরুভূমির মতো কঠিন পরিবেশে টিকে থাকার জন্য উটকে এমনভাবে গড়ে তুলেছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছেও বিস্ময়কর। 


সম্পর্কিত নিউজ