{{ news.section.title }}
ঘরে তৈরি এই মাস্কেই পাবেন পার্লারের মতো চকচকে সিল্কি চুল!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ধুলোবালি, কড়া রোদ আর রাসায়নিক পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহারে আমাদের চুল এখন সময়ের আগেই তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলছে। চিরুনি চালালেই উঠে আসে একগুচ্ছ চুল কিংবা ডগা ফেটে খসখসে হয়ে যায়, এসব সমস্যা যেন এখন ঘরে ঘরেই। বাজারে চলতি দামী কন্ডিশনার বা সিরাম যখন ব্যর্থ হয়, তখন সমাধান লুকিয়ে আছে আপনার রান্নাঘরের দুটি সাধারণ উপাদানেই-ডিম ও মধু।
ডিমের গঠনেই রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন A, B, D, E এবং খনিজ উপাদান। রূপচর্চা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চুলের জন্য ডিম হলো একটি প্রাকৃতিক প্রোটিন ট্রিটমেন্ট। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন ও ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানের ভাষায়, ডিমের প্রোটিন চুলের ক্ষতিগ্রস্ত কেরাটিন স্তরকে মেরামত করে, ডিমের ভিটামিন B কমপ্লেক্স চুলের শিকড়কে শক্তিশালী করে, আর ভিটামিন D চুলের গ্রোথ সাইকেল বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, মধু হলো একটি প্রাকৃতিক হিউমেক্ট্যান্ট। এটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শুষে নিয়ে চুলের ভেতরে আটকে রাখে, ফলে চুল হয় রেশমের মতো নরম ও ঝলমলে। মধুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান মাথার ত্বকের সংক্রমণ বা খুশকি দূর করতে কাজ করে।
শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলে মধু প্রয়োগ করলে চুলের কোটিকল বা বাইরের স্তর মসৃণ হয়, ফলে চুল কম ঝরে, কম খুশকিতে ভোগে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে পায়। মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চুলকে পরিবেশ দূষণ ও ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
প্রস্তুত প্রণালী:
ডিম ও মধুর এই মাস্ক প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া খুবই সহজ। একটি মাঝারি আকারের ডিমের কুসুম বা পুরোটা ডিমও ব্যবহার করা যায়। এর সঙ্গে দুই চামচ প্রাকৃতিক মধু মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করতে হয়। এই মিশ্রণ চুলের গোড়া এবং পুরো চুলে ভালোভাবে লাগাতে হবে। এরপর অন্তত ২০–৩০ মিনিট রেখে, হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললেই চুল হয়ে ওঠে নরম, মসৃণ ও প্রাকৃতিক ঝলমলে।
চুলের ধরন অনুযায়ী ডিম ও মধুর অনুপাত সামান্য পরিবর্তন করা যেতে পারে। খুব তৈলাক্ত চুলে শুধুমাত্র কুসুম ব্যবহার করা ভালো, কারণ পুরো ডিম চুলকে অতিরিক্ত ভারি করতে পারে। আর শুষ্ক চুলের জন্য পুরো ডিম ব্যবহার করে মধু মিশালে চুলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা এবং পুষ্টি পাওয়া যায়। চাইলে কিছু ভিটামিন ই তেল বা নারকেল তেল যোগ করেও মাস্কের কার্যকারিতা আরও কয়েকগুনে বৃদ্ধি করা যায়।
মাস্ক ব্যবহারের ফ্রিকোয়েন্সিও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। সপ্তাহে ১–২ বার ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া যায়। একবারে ঘনভাবে ব্যবহার করলে কিছুদিনের মধ্যে চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা, ঘনত্ব ও মসৃণতা লক্ষ্য করা যায়।
সতর্কতা:
এই মাস্কটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু সতর্কতাও । ডিম প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি বহন করতে পারে। তাই ব্যবহারের আগে ধোয়া ও তাজা ডিম ব্যবহার করা উচিত। আর মধু সাধারণত সংক্রমণহীন, তবে খুব সংবেদনশীল চুল বা ত্বকের ক্ষেত্রে ছোট অংশে টেস্ট করে নেওয়া অধিক নিরাপদ।
চুলের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরে পাওয়ার জন্য মাস্কের সঙ্গে সুষম খাদ্য গ্রহন করাটাও জরুরি। প্রোটিন, ওমেগা-৩, আয়রন, ভিটামিন A, C ও E সমৃদ্ধ খাদ্য চুলের শিকড়কে শক্তি দেয়। পর্যাপ্ত পানি, মানসিক শান্তি ও পর্যাপ্ত ঘুমও চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কৃত্রিম প্যাকের বদলে ঘরোয়া এই মিশ্রণটি কেবল সাশ্রয়ীই নয়, এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীনভাবে আপনার চুলকে দিবে গভীর পুষ্টি। ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝেও সপ্তাহে মাত্র একদিন বা দুইদিম এই ঘরোয়া টোটকা ব্যবহারে আপনার চুলে ফিরতে পারে বিজ্ঞাপন চিত্রের মতোই এক জাদুকরী জেল্লা!