এপিআই না জানলে কি ক্যারিয়ার অসম্পূর্ণ?সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মূল চাবিকাঠি জানুন!

এপিআই না জানলে কি ক্যারিয়ার অসম্পূর্ণ?সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের মূল চাবিকাঠি জানুন!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

মনে করুন, আপনি একটি রেস্টুরেন্টে খেতে গেছেন। সেখানে আপনি সরাসরি রান্নাঘরে না যেয়ে ওয়েটারের কাছে অর্ডার দেন এবং ওয়েটার সেই খাবার রান্নাঘর থেকে এনে আপনার টেবিলে পৌঁছে দেয়। সফটওয়্যারের জগতের সাথে তুলনা করলে, এই ওয়েটারই হলো API। বা অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস। ব্যবহারকারী হিসেবে আমরা একে সরাসরি দেখতে পাইনা। কিন্তু ডিজিটাল বিশ্বের প্রতিটি সফটওয়্যার একে অপরের সাথে যোগাযোগের জন্য এই এপিআই-এর ওপরই নির্ভরশীল।

এপিআই (API) আসলে কী?

সফটওয়্যার শুধুমাত্র কোডের একটি সংগ্রহ নয়। এটি একটি জটিল সিস্টেম যেখানে বিভিন্ন মডিউল, সার্ভার, ডাটাবেস, এবং ইউজার ইন্টারফেস একসাথে কাজ করে। এই অংশগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ না থাকলে সফটওয়্যার থাকে অসম্পূর্ণ। ঠিক যেমন একটি শহর, যেখানে সব অবকাঠামো আছে, কিন্তু রাস্তা নেই, মানুষ কোনো জায়গায় পৌঁছাতে পারবে না। API হলো যোগাযোগের সেই  সেতু।অর্থাৎ এপিআই হলো দুটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগের একটি সেতুবন্ধন বা মাধ্যম।  

একজন মানুষ যেভাবে ইউজার ইন্টারফেস (UI) ব্যবহার করে কম্পিউটারের সাথে কথা বলে, ঠিক তেমনি একটি সফটওয়্যার অন্য একটি সফটওয়্যারের সাথে কথা বলতে বা ডেটা আদান-প্রদান করতে এপিআই ব্যবহার করে। এটি মূলত একটি নিয়মাবলী বা চুক্তির মতো, যা নির্ধারণ করে দেয় কীভাবে একটি সিস্টেম অন্য সিস্টেমের কাছে অনুরোধ পাঠাবে এবং কীভাবে তার উত্তর আসবে।

এপিআই-এর ধারণাটি ১৯৪০-এর দশকে তৈরি হলেও, ‘API’ শব্দটি জনপ্রিয় হয় ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে।

কেন একজন ডেভেলপার বা প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট মানুষের জন্য API জানা অপরিহার্য?

কারণ, আজকের দিনের কোনো সফটওয়্যারই এককভাবে সব কাজ করে না। আপনি যখন একটি অ্যাপে গুগল ম্যাপ দেখেন, উবারে পেমেন্ট করেন বা ফেসবুকে লগ-ইন করেন! এর প্রতিটি ধাপেই কাজ করে আলাদা আলাদা API। এটি মূলত দুটি ভিন্ন সফটওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগের ভাষা হিসেবে কাজ করে। ​প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, API না জানলে একজন ডেভেলপারের পক্ষে আধুনিক ও স্কেলেবল  সফটওয়্যার তৈরি করা একেবারেই সম্ভব নয়। কারণ এটি কোড লেখার সময় বাঁচায়, খরচ কমায় এবং সফটওয়্যারকে দেয় সীমাহীন সক্ষমতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) থেকে শুরু করে ক্লাউড কম্পিউটিং সবকিছুর মূল চাবিকাঠি এখন API-এর হাতে। তাই বলাই বাহুল্য যে, বর্তমান সময়ে কোডিংয়ের জ্ঞান থাকলেও API-এর ধারণা ছাড়া একজন পূর্ণাঙ্গ ডেভেলপার হওয়া সম্ভব নয়।

​নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা:

এপিআই-এর মাধ্যমে একটি সিস্টেমের ভেতরের জটিল প্রক্রিয়াগুলো লুকিয়ে রাখা হয়। প্রোগ্রামার শুধু সেই অংশটুকুই ব্যবহার করেন যা তার প্রয়োজন। এটি একটি ফিল্টারের মতো কাজ করে। বাইরের কোনো প্রোগ্রাম পুরো সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ পায় না, শুধুমাত্র অনুমোদিত ডেটাটুকুই পায়। সিস্টেমে অপ্রত্যাশিত বা ভুল ডেটা প্রবেশ প্রতিরোধ করে।

API ছাড়া ডেটা সরাসরি এক মডিউল থেকে অন্য মডিউলে গেলে নিরাপত্তার ঝুঁকি অনেকাংশেই বেড়ে যায়। এপিআই কে একটি ‘চুক্তি’ হিসেবে ধরা হয়। যদি কোনো কোম্পানি তাদের এপিআই অপরিবর্তিত রাখে, তবে ডেভেলপারদের আস্থা বাড়ে এবং সেই সিস্টেমের ব্যবহারও বৃদ্ধি পায়।

বহুসেবা ও ইন্টিগ্রেশনের ক্ষমতা:

বর্তমান সফটওয়্যারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ইন্টিগ্রেশন। যেমন, একটি অ্যাপের মাধ্যমেই আপনি হোটেল বুক করতে পারেন, ফ্লাইট বুক করতে পারেন, এবং গাড়ি ভাড়া নিতে পারেন। প্রতিটি সার্ভিস আলাদা কোম্পানি চালায়, আলাদা ডাটাবেস ব্যবহার করে। এখানে API ছাড়া এই সব সার্ভিস একত্রিত করা সম্ভব নয়। API হলো সেই ভাষা যা সমস্ত সার্ভিসকে একসাথে কাজ করতে শেখায়।

API ছাড়া সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর দৃষ্টিকোণ:

API না থাকলে, অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ধীরে বা পুরোপুরি কাজ করবে না। তথ্য বা ফিচারেরও অভাব থাকবে।ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা অসম্পূর্ণ বা নীরস মনে হবে। API ছাড়া মূলত সফটওয়্যার সঠিকভাবে ব্যবহারযোগ্য হয় না।

API হলো সফটওয়্যারের রক্তনালি যা, মডিউলগুলোকে সংযুক্ত রাখে,তথ্য নিরাপদভাবে আদান-প্রদান নিশ্চিত করে,বহুসেবা ও সার্ভিস ইন্টিগ্রেশন সহজ করে, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা পূর্ণাঙ্গ রাখে। API ছাড়া সফটওয়্যার শুধু কোডের সংগ্রহ চলতে পারে। কিন্তু কার্যকরী ও ব্যবহারযোগ্য হয় না। তাই বর্তমান সময়ে একটি অ্যাপ বা সফটওয়্যার তৈরি করতে গেলে যদি আপনি API-এর ব্যবহার না জানেন, তবে তা অনেকটা ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়া স্মার্টফোনের মতোই অকেজো।


সম্পর্কিত নিউজ