মহাকাশে গ্রহাণুকে ধাক্কা দিল নাসা, পৃথিবী রক্ষায় বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় জয়!

মহাকাশে গ্রহাণুকে ধাক্কা দিল নাসা, পৃথিবী রক্ষায় বিজ্ঞানের এক অভাবনীয় জয়!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

পৃথিবীকে মহাকাশীয় বিপদ থেকে রক্ষা করার এক অভাবনীয় পরীক্ষায় সফল হয়েছে নাসা (NASA)। মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির ‘ডাবল গ্রহাণু পুনর্নির্দেশ পরীক্ষা’ বা DART মিশন সফলভাবে একটি গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রমাণ করেছে যে মানবজাতি তার নিকটবর্তী মহাজাগতিক বিপদ মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। এই মিশনটি মূলত একটি পরীক্ষামূলক কৌশল যা ছোট গ্রহাণু বা অ্যাস্টেরয়েডের পথ পরিবর্তনের মাধ্যমে পৃথিবীকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

মিশনের মূল লক্ষ্য ও পরিচালনা:

DART,নাসা এবং জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি অ্যাপ্লাইড ফিজিক্স ল্যাবরেটরির একটি যৌথ প্রয়াস ছিল। এই মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল "কাইনেটিক ইমপ্যাক্টর" পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করা। অর্থাৎ, একটি মহাকাশযানকে নির্দিষ্ট গ্রহাণুর গায়ে জোরে ধাক্কা দিয়ে তার কক্ষপথ সামান্য বদলে দেওয়া সম্ভব কি না, তা পরীক্ষা করা।

লক্ষ্যবস্তু:

পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল বাইনারি গ্রহাণু সিস্টেম, ডিডিমোস এবং তার ছোট চাঁদ ডাইমরফোস-কে। যদিও এই গ্রহাণু দুটির কোনটিই পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক ছিল না, তবে তাদের গঠন এবং অবস্থান এই গবেষণার জন্য ছিল আদর্শ।

সংঘর্ষ ও  সাফল্য:

উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, ২০২১ সালের, ২৪ শে নভেম্বর। এটি কেবল প্রায় ১০ মিলিয়ন মাইল দূরের Didymos সিস্টেমে পৌঁছতে ১১ মাস সময় নিয়েছিল এবং সংঘর্ষের সময় ছিল, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ইউটিসি ২৩:১৪ মিনিট।

ডার্ট মহাকাশযানটি সফলভাবে ডাইমরফোসের গায়ে আঘাত হানার ফলে গ্রহাণুটির কক্ষপথের সময় ৩২ মিনিট কমে আসে। উল্লেখ্য যে, নাসা মাত্র ৭৩ সেকেন্ড সময় পরিবর্তনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, কিন্তু অর্জিত ফলাফল ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি।

বিজ্ঞানীদের মতে, ডাইমরফোসকে বিচ্যুত করার ক্ষেত্রে এই সাফল্য এসেছে মূলত ভরবেগ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায়। সংঘর্ষের ফলে যে ধ্বংসাবশেষ গ্রহাণুটির বিপরীত দিকে ছিটকে বেরিয়েছিল, তা ধাক্কার তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।

এই মিশনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ দেখা গেছে।

ইতালীয় মহাকাশ সংস্থা (ASI)-দের পাঠানো LICIACube নামক ছোট কিউবস্যাটটি সংঘর্ষের মুহূর্তের ছবি তোলে। ESA ও JAXA, ইউরোপীয় এবং জাপানি মহাকাশ সংস্থাগুলো এই মিশনের পরবর্তী গবেষণায় সরাসরি যুক্ত ছিল।

কেন এই মিশন গুরুত্বপূর্ণ?

এই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, ভবিষ্যতে যদি কোনো বিশালাকার গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসার হুমকি তৈরি করে, তবে সঠিক সময়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটির গতিপথ বদলে দিয়ে পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে হয়তো।

DART মিশন মহাকাশ গবেষণা ও গ্রহ-রক্ষার ক্ষেত্রে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি দেখিয়েছে, পৃথিবীকে সম্ভাব্য মহাজাগতিক বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কতটা কার্যকর হতে পারে। 


সম্পর্কিত নিউজ