{{ news.section.title }}
অবাঞ্ছিত লোম নিয়ে আর দুশ্চিন্তা নয়- নিরাপদ ও কার্যকর উপায়!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
মানুষের শরীর প্রাকৃতিকভাবেই লোমশ।ত্বককে বাইরের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে লোমের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এই স্বাভাবিক লোমই যখন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে যখন মুখ, চিবুক, গলা, বুক, পেট বা পিঠের মতো স্থানে পুরুষদের মতো মোটা ও গাঢ় লোম গজাতে শুরু করে, তখন সেটি আর স্বাভাবিক থাকে না। ধীরে ধীরে বিষয়টি রূপ নেয় একটি শারীরিক ও মানসিক সমস্যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় হারসুটিজম।
হারসুটিজম মূলত একটি হরমোনজনিত সমস্যা। নারীর শরীরে পুরুষ হরমোন হিসেবে পরিচিত এন্ড্রোজেন থাকে খুবই অল্প মাত্রায় এবং স্বাভাবিক দৈহিক ভারসাম্য রক্ষায় এর প্রয়োজনও রয়েছে। কিন্তু কোনো কারণে যখন এই হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, তখনই শুরু হয় সমস্যার সূত্রপাত। অতিরিক্ত এন্ড্রোজেন নারীর শরীরে পুরুষালি বৈশিষ্ট্যকে ধীরে ধীরে উসকে দেয়। এর অন্যতম দৃশ্যমান লক্ষণ হলো অবাঞ্ছিত লোমের বৃদ্ধি। অনেক ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বর ভারী হয়ে যাওয়া, ত্বকে ব্রণ বাড়া, চুল পড়া বা মাসিক চক্রে অনিয়মও একসঙ্গে দেখা দেয়। এই সমস্যার পেছনে একক কোনো কারণ নেই।
কারও ক্ষেত্রে এটি বংশগত হতে পারে। অর্থাৎ মা, খালা বা দাদির মধ্যে যদি এমন প্রবণতা থেকে থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মেও দেখা দিতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরের হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় গোলযোগ তৈরি হলে হারসুটিজম দেখা দেয়। দীর্ঘদিন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের ফলেও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অনেক সময় এই সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়ে, আবার কখনো হঠাৎ করেই চোখে পড়ে, যা শরীরের ভেতরে চলমান কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অবাঞ্ছিত লোম নারীদের জীবনে শুধু শারীরিক অস্বস্তিই তৈরি করে না, বরং মানসিক চাপেরও বড় একটি কারণ হয়ে ওঠে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন লোমের উপস্থিতি দেখা, নিয়মিত শেভিং বা ওয়াক্সিংয়ের ঝামেলা, ত্বকে জ্বালা বা কালচে দাগ ইত্যাদির ফলে আত্মবিশ্বাসে বিরাট প্রভাব পড়ে। সামাজিক মেলামেশা, পেশাগত জীবন এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্কেও এর ছায়া পড়তে পারে। ফলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এই সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। শেভিং, ওয়াক্সিং, থ্রেডিং কিংবা ব্লিচ, এসব পদ্ধতিতে সাময়িকভাবে লোম সরানো যায়। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই সমস্যার মূল জায়গায় পৌঁছায় না। লোমের গোড়া বা ফলিকল অক্ষত থাকায় কিছুদিন পর আবার লোম গজায়। বরং নিয়মিত ওয়াক্সিং বা থ্রেডিংয়ের ফলে ত্বকে জ্বালা, র্যাশ, ইনগ্রোন হেয়ার কিংবা দাগের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ডিপিলেটরি ক্রিম ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। এই বাস্তবতায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুক্ত হয়েছে লেজার প্রযুক্তি, যা অবাঞ্ছিত লোম অপসারণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে!
লেজার চিকিৎসা মূলত আলোর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করে কাজ করে। এই আলো ত্বকের ওপর দিয়ে প্রবেশ করে সরাসরি লোমের গোড়ায় পৌঁছে যায়। সেখানে থাকা লোম বৃদ্ধিকারী কোষ বা স্টেমসেলগুলো লেজারের তাপশক্তির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ নতুন লোম গজানোর ক্ষমতা কমে আসে।
লেজার চিকিৎসা কেন কার্যকর, তা বুঝতে হলে মেলানিন সম্পর্কে জানতে হবে। মেলানিন হলো এমন একটি রঞ্জক পদার্থ, যা আমাদের ত্বক ও চুলের রং নির্ধারণ করে। শরীরে প্রধানত দুই ধরনের মেলানিন রয়েছে।
১। ইউমেলানিন ও
২। ফিমেলানিন।
ইউমেলানিন বেশি থাকলে চুল ও লোম কালো বা গাঢ় বাদামি হয়, আর ফিমেলানিনের আধিক্যে রং হয় হালকা, সাদা বা লালচে। লেজার রশ্মি ইউমেলানিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে বলেই কালো বা গাঢ় লোমে এটি সবচেয়ে ভালো ফল দেয়। সে কারণেই হালকা রঙের বা সাদা লোমে লেজারের কার্যকারিতা তুলনামূলক কম।
ত্বকের ধরন নিয়েও অনেকের মধ্যে রয়েছে ভুল ধারণা। বাস্তবে শুষ্ক, তৈলাক্ত বা মিশ্র সব ধরনের ত্বকেই লেজার চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে যাদের ত্বক অতিসংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে লেজার দেওয়ার পর সাময়িকভাবে লালচে ভাব, হালকা জ্বালা বা উষ্ণতা অনুভূত হতে পারে। আধুনিক লেজার যন্ত্রে ত্বককে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা থাকায় এসব প্রতিক্রিয়া সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই সেরে যায়।
লেজার চিকিৎসা নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি ওঠে, তা হলো, এটি কি স্থায়ী সমাধান?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে লেজারকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বলা যায়, তবে একেবারে চিরতরে সব লোম চলে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। মানুষের শরীরে লোম বিভিন্ন ধাপে বৃদ্ধি পায়। লেজার মূলত সক্রিয় বৃদ্ধির পর্যায়ে থাকা লোমের ওপর সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর কয়েকটি সেশন প্রয়োজন হয়। লোমের ঘনত্ব, রং, ত্বকের ধরন এবং হরমোনের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সেশনের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে লোমের বৃদ্ধি এতটাই কমে যায় যে ওয়াক্সিং বা থ্রেডিংয়ের প্রয়োজন প্রায় থাকে না।
লেজার চিকিৎসার সুবিধাগুলো বেশ স্পষ্ট ও বহুমাত্রিক। এতে ত্বকে কোনো কাটাছেঁড়া করতে হয় না, সংক্রমণের থাকে না কোনো ঝুঁকি। লোমের গোড়া থেকেই বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় বলে ফল দীর্ঘস্থায়ী হয়। অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের টেক্সচার উন্নত হয়, উজ্জ্বলতা বাড়ে। নিয়মিত ওয়াক্সিংয়ের ফলে যে কালচে দাগ বা ইনগ্রোন হেয়ারের সমস্যা দেখা দেয়, লেজারে সেগুলোর ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
তবে এই চিকিৎসা নেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মানা অত্যন্ত জরুরি। যেমন:
১। লেজার সেশনের অন্তত ছয় সপ্তাহ আগে থেকে ওয়াক্সিং বা থ্রেডিং বন্ধ রাখতে হয়, যাতে লোমের গোড়া অক্ষত থাকে।
২। চিকিৎসার সময় ও পরে সূর্যের অতিরিক্ত আলো এড়িয়ে চলা দরকার, কারণ রোদে পোড়া ত্বকে লেজার প্রয়োগ করলে দাগ পড়ার আশঙ্কা বাড়ে।
৩। বাইরে বের হলে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪। যেসব স্থানে লেজার দেওয়া হবে, সেখানে ট্যাটু থাকলে লেজার না করানোই নিরাপদ।
৫। ত্বকে সক্রিয় কোনো চর্মরোগ, যেমন অ্যাকজিমা থাকলে লেজার চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৬। গর্ভাবস্থায়ও সাধারণত এই চিকিৎসা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৭। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লেজার চিকিৎসা অবশ্যই অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করানো উচিত। সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া লেজার প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পাশাপাশি ত্বকের ক্ষতিও হতে পারে।
অনেক সময় অবাঞ্ছিত লোমের পেছনে যে হরমোনগত সমস্যা থাকে, সেটির চিকিৎসা না করলে শুধু লেজার দিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয় না।
সবশেষে বলা যায়, নারীদের শরীরে অবাঞ্ছিত লোম একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, যার সঙ্গে সৌন্দর্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক ভারসাম্য গভীরভাবে জড়িত।আধুনিক লেজার প্রযুক্তি এই সমস্যার সমাধানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তবে সচেতনতা, সঠিক পরামর্শ এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিই এখানে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিয়ে, নিরাপদ ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তির পথ।
কারও ক্ষেত্রে এটি বংশগত হতে পারে। অর্থাৎ মা, খালা বা দাদির মধ্যে যদি এমন প্রবণতা থেকে থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মেও দেখা দিতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরের হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়ায় গোলযোগ তৈরি হলে হারসুটিজম দেখা দেয়। দীর্ঘদিন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের ফলেও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। অনেক সময় এই সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়ে, আবার কখনো হঠাৎ করেই চোখে পড়ে, যা শরীরের ভেতরে চলমান কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অবাঞ্ছিত লোম নারীদের জীবনে শুধু শারীরিক অস্বস্তিই তৈরি করে না, বরং মানসিক চাপেরও বড় একটি কারণ হয়ে ওঠে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন লোমের উপস্থিতি দেখা, নিয়মিত শেভিং বা ওয়াক্সিংয়ের ঝামেলা, ত্বকে জ্বালা বা কালচে দাগ ইত্যাদির ফলে আত্মবিশ্বাসে বিরাট প্রভাব পড়ে। সামাজিক মেলামেশা, পেশাগত জীবন এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্কেও এর ছায়া পড়তে পারে। ফলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এই সমস্যা মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। শেভিং, ওয়াক্সিং, থ্রেডিং কিংবা ব্লিচ, এসব পদ্ধতিতে সাময়িকভাবে লোম সরানো যায়। কিন্তু এগুলোর কোনোটিই সমস্যার মূল জায়গায় পৌঁছায় না। লোমের গোড়া বা ফলিকল অক্ষত থাকায় কিছুদিন পর আবার লোম গজায়। বরং নিয়মিত ওয়াক্সিং বা থ্রেডিংয়ের ফলে ত্বকে জ্বালা, র্যাশ, ইনগ্রোন হেয়ার কিংবা দাগের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ডিপিলেটরি ক্রিম ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। এই বাস্তবতায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুক্ত হয়েছে লেজার প্রযুক্তি, যা অবাঞ্ছিত লোম অপসারণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে!
লেজার চিকিৎসা মূলত আলোর নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করে কাজ করে। এই আলো ত্বকের ওপর দিয়ে প্রবেশ করে সরাসরি লোমের গোড়ায় পৌঁছে যায়। সেখানে থাকা লোম বৃদ্ধিকারী কোষ বা স্টেমসেলগুলো লেজারের তাপশক্তির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ নতুন লোম গজানোর ক্ষমতা কমে আসে।
লেজার চিকিৎসা কেন কার্যকর, তা বুঝতে হলে মেলানিন সম্পর্কে জানতে হবে। মেলানিন হলো এমন একটি রঞ্জক পদার্থ, যা আমাদের ত্বক ও চুলের রং নির্ধারণ করে। শরীরে প্রধানত দুই ধরনের মেলানিন রয়েছে।
১। ইউমেলানিন ও
২। ফিমেলানিন।
ইউমেলানিন বেশি থাকলে চুল ও লোম কালো বা গাঢ় বাদামি হয়, আর ফিমেলানিনের আধিক্যে রং হয় হালকা, সাদা বা লালচে। লেজার রশ্মি ইউমেলানিনকে লক্ষ্য করে কাজ করে বলেই কালো বা গাঢ় লোমে এটি সবচেয়ে ভালো ফল দেয়। সে কারণেই হালকা রঙের বা সাদা লোমে লেজারের কার্যকারিতা তুলনামূলক কম।
ত্বকের ধরন নিয়েও অনেকের মধ্যে রয়েছে ভুল ধারণা। বাস্তবে শুষ্ক, তৈলাক্ত বা মিশ্র সব ধরনের ত্বকেই লেজার চিকিৎসা করা সম্ভব। তবে যাদের ত্বক অতিসংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে লেজার দেওয়ার পর সাময়িকভাবে লালচে ভাব, হালকা জ্বালা বা উষ্ণতা অনুভূত হতে পারে। আধুনিক লেজার যন্ত্রে ত্বককে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা থাকায় এসব প্রতিক্রিয়া সাধারণত অল্প সময়ের মধ্যেই সেরে যায়।
লেজার চিকিৎসা নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি ওঠে, তা হলো, এটি কি স্থায়ী সমাধান?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে লেজারকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বলা যায়, তবে একেবারে চিরতরে সব লোম চলে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। মানুষের শরীরে লোম বিভিন্ন ধাপে বৃদ্ধি পায়। লেজার মূলত সক্রিয় বৃদ্ধির পর্যায়ে থাকা লোমের ওপর সবচেয়ে ভালো কাজ করে। তাই নির্দিষ্ট সময় পরপর কয়েকটি সেশন প্রয়োজন হয়। লোমের ঘনত্ব, রং, ত্বকের ধরন এবং হরমোনের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সেশনের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে লোমের বৃদ্ধি এতটাই কমে যায় যে ওয়াক্সিং বা থ্রেডিংয়ের প্রয়োজন প্রায় থাকে না।
লেজার চিকিৎসার সুবিধাগুলো বেশ স্পষ্ট ও বহুমাত্রিক। এতে ত্বকে কোনো কাটাছেঁড়া করতে হয় না, সংক্রমণের থাকে না কোনো ঝুঁকি। লোমের গোড়া থেকেই বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় বলে ফল দীর্ঘস্থায়ী হয়। অনেক ক্ষেত্রে ত্বকের টেক্সচার উন্নত হয়, উজ্জ্বলতা বাড়ে। নিয়মিত ওয়াক্সিংয়ের ফলে যে কালচে দাগ বা ইনগ্রোন হেয়ারের সমস্যা দেখা দেয়, লেজারে সেগুলোর ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
তবে এই চিকিৎসা নেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মানা অত্যন্ত জরুরি। যেমন:
১। লেজার সেশনের অন্তত ছয় সপ্তাহ আগে থেকে ওয়াক্সিং বা থ্রেডিং বন্ধ রাখতে হয়, যাতে লোমের গোড়া অক্ষত থাকে।
২। চিকিৎসার সময় ও পরে সূর্যের অতিরিক্ত আলো এড়িয়ে চলা দরকার, কারণ রোদে পোড়া ত্বকে লেজার প্রয়োগ করলে দাগ পড়ার আশঙ্কা বাড়ে।
৩। বাইরে বের হলে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৪। যেসব স্থানে লেজার দেওয়া হবে, সেখানে ট্যাটু থাকলে লেজার না করানোই নিরাপদ।
৫। ত্বকে সক্রিয় কোনো চর্মরোগ, যেমন অ্যাকজিমা থাকলে লেজার চিকিৎসা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৬। গর্ভাবস্থায়ও সাধারণত এই চিকিৎসা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৭। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লেজার চিকিৎসা অবশ্যই অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করানো উচিত। সঠিক মূল্যায়ন ছাড়া লেজার প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পাশাপাশি ত্বকের ক্ষতিও হতে পারে।
অনেক সময় অবাঞ্ছিত লোমের পেছনে যে হরমোনগত সমস্যা থাকে, সেটির চিকিৎসা না করলে শুধু লেজার দিয়ে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয় না।
সবশেষে বলা যায়, নারীদের শরীরে অবাঞ্ছিত লোম একটি বহুমাত্রিক সমস্যা, যার সঙ্গে সৌন্দর্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও শারীরিক ভারসাম্য গভীরভাবে জড়িত।আধুনিক লেজার প্রযুক্তি এই সমস্যার সমাধানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে, তবে সচেতনতা, সঠিক পরামর্শ এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিই এখানে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিয়ে, নিরাপদ ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তির পথ।