খারাপ মুডে চা কাজ করে কেন? এর পেছনের বিজ্ঞান!

খারাপ মুডে চা কাজ করে কেন? এর পেছনের বিজ্ঞান!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

চা শুধু একটি পানীয় না, হাজার বছরের ঐতিহ্য, বিজ্ঞান ও সুস্থতার মিলনস্থলও। চা-পাতা, ফ্লাওয়ার বা গ্রিন টি, প্রত্যেকটি প্রকারের চায়ের রয়েছে আলাদা কার্যকারিতা, যা শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চা-ফুল (Herbal Tea):

চা-ফুল বা হার্বাল টি মূলত ফুল, পাতা, বীজ বা অন্যান্য উদ্ভিদ উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়। এতে ক্যাফেইন থাকে না, তাই এটি শিশু, গর্ভবতী মা বা ক্যাফেইন সংবেদনশীলদের জন্য নিরাপদ।


স্বাস্থ্য উপকারিতা:

⇨ হজম শক্তি বৃদ্ধি: পুদিনা, ক্যামোমিল বা জিনজার চা হজম শক্তি বাড়ায়, গ্যাস ও পেটে ভার অনুভূতিকে কমায়।

⇨ মানসিক চাপ কমানো: ক্যামোমিল চা একটি প্রাকৃতিক সিডেটিভ, যা ঘুমের গুণমান বাড়ায়।

⇨ ডিটক্স এফেক্ট: ল্যাভেন্ডার বা রোজমেরি চা শরীরের টক্সিন বের করতে সহায়তা করে।

⇨ ইমিউন সাপোর্ট: হার্বাল টি-তে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।


 হার্বাল চা-তে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কোষ ক্ষয় রোধ করে, প্রদাহ কমায় ও হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নত করে।


ব্ল্যাক টি (Black Tea):

ব্ল্যাক টি সম্পূর্ণভাবে অক্সিডাইজড চা পাতা দিয়ে তৈরি হয়। এতে রয়েছে ক্যাফেইন এবং পলিফেনলস, যা শরীর ও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।


স্বাস্থ্য উপকারিতা:

⇨ হৃদযন্ত্রের জন্য: ব্ল্যাক টি রক্তনালীর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

⇨ এনার্জি বুস্ট: ক্যাফেইন শরীর ও মস্তিষ্ককে সতেজ রাখে।

⇨ মেদ হ্রাস: নিয়মিত ব্ল্যাক টি গ্রহণ ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।

⇨ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে: পলিফেনলস রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।


গ্রিন টি (Green Tea):

গ্রিন টি তৈরি হয় অপরিশোধিত বা হালকা অক্সিডাইজড চা পাতার থেকে। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, বিশেষত EGCG (Epigallocatechin gallate), যা শরীরের কোষকে ক্ষয় ও বার্ধক্য থেকে রক্ষা করে।


স্বাস্থ্য উপকারিতা:

⇨ কোলেস্টেরল কমানো: গ্রিন টি রক্তে LDL কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।

⇨ ওজন নিয়ন্ত্রণ: মেটাবলিজম বাড়িয়ে ফ্যাট বার্নে সহায়তা করে।

⇨ ক্যান্সার প্রতিরোধে  ভূমিকা: EGCG কোষের ক্ষয় রোধ করতে পারে।

⇨ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য: ডিমেনশিয়া ও আলঝেইমার প্রতিরোধে সহায়তা।


সতর্কতা: অতিরিক্ত গ্রিন টি খেলে কফেইন ও ট্যানিনের কারণে হজমে সমস্যা বা অনিদ্রা হতে পারে।

হোয়াইট টি (White Tea):

হোয়াইট টি হলো সবচেয়ে কম প্রক্রিয়াজাত চা। এতে থাকে উচ্চ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও মিনারেল।


উপকারিতা:

⇨ ত্বকের জন্য উপকারী: ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কমাতে সহায়তা করে।

⇨ হৃদরোগ ঝুঁকি কমানো: রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা।

⇨ অ্যান্টি-এজিং এফেক্ট: বয়সের ছাপ কমায়।


ওলং টি (Oolong Tea):

ওলং টি ব্ল্যাক ও গ্রিন টির মধ্যে পড়ে। এটি আংশিক অক্সিডাইজড।


স্বাস্থ্য উপকারিতা:

⇨ ওজন নিয়ন্ত্রণ: মেটাবলিজম ও ফ্যাট বার্ন বাড়ায়।

⇨ হজম সহায়তা: খাবারের পরে হজম সহজ হয়।

⇨ হাড়ের স্বাস্থ্য: ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়ায়।

স্পেশাল হেলথ টি :

বর্তমানে বাজারে পাওয়া যায় মিশ্রিত স্বাস্থ্য চা!যেমন: জিনজার-লেমন, গ্রীন টি-মিন্ট।


উপকারিতা:

⇨ ডিটক্স এফেক্ট: লিভার ও কিডনিকে সাহায্য করে টক্সিন বের করতে।

⇨ ইমিউন সাপোর্ট: ভিটামিন C ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।

⇨ মানসিক সতেজতা: ধ্যান বা কাজের সময় মানসিক ফোকাস বাড়ায়।

চায়ের মধ্যে পলিফেনলস রয়েছে, যা প্রদাহ কমায়, হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষা দেয়। ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে, তবে পরিমাণে সীমিত হওয়া উচিত।

হার্বাল চা ও গ্রিন টি ডিহাইড্রেশন কমায়, চা মূলত শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

চা খাওয়ার টিপস!

☞ সঠিক তাপমাত্রায় গ্রহণ করা! গ্রিন টি বা হোয়াইট টি খুব গরম না খেয়ে ৭৫–৮০°C-এ পান করা ভালো।

☞ নিয়মিত কিন্তু পরিমিত গ্রহণ! দিনে ২–৩ কাপ যথেষ্ট।

☞ কম সুগার ব্যবহার করা! অতিরিক্ত চিনির বদলে হালকা হানি বা লেবু ব্যবহার করুন।

☞ খাবারের পরে ব্ল্যাক টি হজম বাড়াতে পারে।

চা-ফুল, হার্বাল, ব্ল্যাক, গ্রিন, হোয়াইট, ওলং ইত্যাদি প্রত্যেকটি চায়ের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা আছে। সঠিকভাবে নির্বাচন করলে এটি শুধু শরীরকে সুস্থ রাখে না, বরং মানসিক চাপ কমায়, মনকে সতেজ করে, হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

সম্পর্কিত নিউজ