{{ news.section.title }}
মন ভালো নেই? কাঁচামরিচ খেলে মন প্রফুল্ল হতে পারে- জানাচ্ছে গবেষণা
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
হঠাৎ করেই কি মনটা ভারী লাগছে! কাজের আগ্রহ নেই! চারপাশের সবকিছুই কেমন যেন নিষ্প্রাণ লাগছে! এমন অনুভূতি জীবনে কমবেশি আমাদের সবারই আসে। কিন্তু জানেন কি, রান্নাঘরের একেবারে সাধারণ একটি উপাদান এই মন খারাপের মুহূর্তে শরীর ও মস্তিষ্কে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা অল্প সময়ের মধ্যেই আপনাকে করে তুলতে পারে প্রফুল্ল, সতেজ ও উদ্দীপনাময়?
বিষয়টি কোনো লোককথা বা ঘরোয়া বিশ্বাস নয়। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান, পুষ্টিবিজ্ঞান এবং মানবদেহের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার আলোকে কাঁচামরিচ ও মন ভালো থাকার সম্পর্কটি বেশ পরিষ্কারভাবেই ব্যাখ্যা করা যায়।
ঝালের মূল রহস্য হলো ক্যাপসাইসিন!
কাঁচামরিচের ঝালের জন্য দায়ী প্রধান উপাদানটির নাম,Capsaicin। এই ক্যাপসাইসিনই কাঁচামরিচকে শুধু ঝালই করে না, বরং মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ক্যাপসাইসিন মুখে লাগামাত্র শরীর সেটিকে এক ধরনের হালকা ব্যথা বা উত্তেজনা হিসেবে শনাক্ত করে। তখন শরীর স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিছু বিশেষ রাসায়নিক নিঃসরণ শুরু করে, যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো Endorphin, Dopamine, Serotonin।এই তিনটি রাসায়নিককে একসাথে বলা হয় মানুষের ভালো লাগার রাসায়নিক পদার্থ।
এন্ডোরফিন, প্রাকৃতিক সুখের ওষুধ!
এন্ডোরফিন হলো শরীরের নিজস্ব ব্যথানাশক ও আনন্দবর্ধক রাসায়নিক। যখন আপনি কাঁচামরিচ খান এবং ঝাল অনুভব করেন, তখন শরীর মনে করে আপনি সামান্য চাপ বা ব্যথার মধ্যে পড়েছেন। এই অবস্থায় শরীর নিজেকে স্বস্তি দিতে এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে। এর ফলে হালকা উত্তেজনার পর আনন্দের অনুভূতি হয়, তাছাড়া মন খারাপের ভার কিছুটা হলেও হালকা হয়। শরীর ও মনের মধ্যে এক ধরনের রিলিজ অনুভব হয়। এই কারণেই অনেক মানুষ ঝাল খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ হাসিখুশি বা চনমনে হয়ে ওঠেন।
ডোপামিন ও সেরোটোনিন,মন ভালো থাকার দুই স্তম্ভ!
মন খারাপ, হতাশা বা ক্লান্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মাত্রার। ডোপামিন জড়িত আনন্দ, উদ্দীপনা ও লক্ষ্য অর্জনের অনুভূতির সঙ্গে সেরোটোনিন জড়িত। মানসিক স্থিতি, শান্তি ও ইতিবাচক আবেগের সঙ্গে
কাঁচামরিচ খেলে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়, রক্ত চলাচল বাড়ে এবং মস্তিষ্ক এই দুই নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণে উৎসাহিত হয়। ফলে মনোযোগ বাড়ে, নেতিবাচক চিন্তার চাপ কিছুটা কমে, শরীরে আসে হালকা উষ্ণতা ও চনমনে ভাব।
কাঁচামরিচ খাওয়ার পর যে গরম লাগা বা ঘাম আসা অনুভূতি হয়, সেটিও মন ভালো হওয়ার সঙ্গে যুক্ত। এই সময় হৃদস্পন্দন সামান্য বাড়ে, রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। ফলে শরীর এক ধরনের সতর্ক অবস্থায় চলে যায়। এই অবস্থায় দীর্ঘ সময়ের মানসিক জড়তা বা অবসাদ অনেক সময় সাময়িকভাবে হলেও কাটতে শুরু করে।
মন খারাপের পেছনে শারীরিক ক্লান্তিও একটি বড় কারণ!
অনেক সময় আমরা ভাবি মন খারাপ মানেই মানসিক সমস্যা। কিন্তু বাস্তবে হালকা ক্লান্তি, কম রক্তচাপ, অলস হজম প্রক্রিয়া, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি কারণেও মন ভারী লাগতে পারে। কাঁচামরিচ হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করে, পাকস্থলীতে রস নিঃসরণ বাড়ায় এবং শরীরকে একটু চাঙ্গা করে তোলে। ফলে মন খারাপের পেছনে থাকা শারীরিক অলসতা কাটতেও এটি ভূমিকা রাখে।
ঝাল ও মানসিক চাপের সম্পর্কটা কী?
চাপ বা স্ট্রেসের সময় শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই হরমোন বেশি থাকলে মন খারাপ, বিরক্তি ও অস্থিরতা বাড়ে।ঝাল খাবার খেলে-
⇨ শরীর স্ট্রেসকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নেয়।
⇨ সাময়িক উত্তেজনার পর রিল্যাক্সেশন আসে।
⇨ কর্টিসলের প্রভাব কিছুটা প্রশমিত হয়।
এই কারণেই অনেকে চাপের সময় ঝাল খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
কেন সবাই একইভাবে উপকার পায় না?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে বলা দরকার, কাঁচামরিচ কোনো যাদুকরী ওষুধ নয়। সবার শরীর ও স্নায়ুতন্ত্র একরকম প্রতিক্রিয়া দেখায় না। যাদের গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা আছে, অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির প্রবণতা রয়েছে, যাদের অন্ত্র সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরী। এই ক্ষেত্রে বেশি কাঁচামরিচ উল্টো অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, যা মন ভালো করার বদলে বিরক্তি বাড়াতে পারে।
কতটুকু কাঁচামরিচ যথেষ্ট?
মন ভালো করার জন্য খুব বেশি ঝাল খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং খাবারের সঙ্গে ১টি মাঝারি কাঁচামরিচ, সালাদে সামান্য কাঁচামরিচ কুচি ভর্তা বা চাটনিতে অল্প ঝাল- এ পরিমাণই যথেষ্ট স্নায়বিক উদ্দীপনা তৈরির জন্য।
মন ভালো রাখতে কাঁচামরিচের পাশাপাশি কী করবেন?
কাঁচামরিচ একা সব সমাধান নয়। তবে এটি হতে পারে একটি ছোট সহায়ক উপাদান। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা হাঁটা, কিছুক্ষণ গভীর শ্বাস, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা! তাহলে মন খারাপ কাটানোর প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকর হয়।
মন খারাপ হলে কাঁচামরিচ খাওয়ার পরামর্শ শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, এর পেছনে রয়েছে জটিল স্নায়ুবৈজ্ঞানিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া। ক্যাপসাইসিন শরীরকে সামান্য চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে, আর শরীর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজস্ব আনন্দের রাসায়নিক নিঃসরণ করে। অবশ্যই, দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা বা মানসিক সমস্যার সমাধান কাঁচামরিচ নয়। তবে দৈনন্দিন ক্লান্তি, মনমরা ভাব বা সাময়িক হতাশার মুহূর্তে রান্নাঘরের এই ছোট সবুজ অস্ত্রটি আপনার মনের দরজায় হালকা কড়া নাড়তেই পারে। ঝাল লাগবে, চোখে পানি আসতে পারে, কিন্তু সেই পানির ফোঁটার আড়ালেই হয়তো লুকিয়ে আছে সামান্য হাসি, একটু উদ্দীপনা আর নতুন করে শুরু করার শক্তি।
ঝালের মূল রহস্য হলো ক্যাপসাইসিন!
কাঁচামরিচের ঝালের জন্য দায়ী প্রধান উপাদানটির নাম,Capsaicin। এই ক্যাপসাইসিনই কাঁচামরিচকে শুধু ঝালই করে না, বরং মানুষের স্নায়ুতন্ত্রে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ক্যাপসাইসিন মুখে লাগামাত্র শরীর সেটিকে এক ধরনের হালকা ব্যথা বা উত্তেজনা হিসেবে শনাক্ত করে। তখন শরীর স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে কিছু বিশেষ রাসায়নিক নিঃসরণ শুরু করে, যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো Endorphin, Dopamine, Serotonin।এই তিনটি রাসায়নিককে একসাথে বলা হয় মানুষের ভালো লাগার রাসায়নিক পদার্থ।
এন্ডোরফিন, প্রাকৃতিক সুখের ওষুধ!
এন্ডোরফিন হলো শরীরের নিজস্ব ব্যথানাশক ও আনন্দবর্ধক রাসায়নিক। যখন আপনি কাঁচামরিচ খান এবং ঝাল অনুভব করেন, তখন শরীর মনে করে আপনি সামান্য চাপ বা ব্যথার মধ্যে পড়েছেন। এই অবস্থায় শরীর নিজেকে স্বস্তি দিতে এন্ডোরফিন নিঃসরণ করে। এর ফলে হালকা উত্তেজনার পর আনন্দের অনুভূতি হয়, তাছাড়া মন খারাপের ভার কিছুটা হলেও হালকা হয়। শরীর ও মনের মধ্যে এক ধরনের রিলিজ অনুভব হয়। এই কারণেই অনেক মানুষ ঝাল খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ হাসিখুশি বা চনমনে হয়ে ওঠেন।
ডোপামিন ও সেরোটোনিন,মন ভালো থাকার দুই স্তম্ভ!
মন খারাপ, হতাশা বা ক্লান্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মাত্রার। ডোপামিন জড়িত আনন্দ, উদ্দীপনা ও লক্ষ্য অর্জনের অনুভূতির সঙ্গে সেরোটোনিন জড়িত। মানসিক স্থিতি, শান্তি ও ইতিবাচক আবেগের সঙ্গে
কাঁচামরিচ খেলে স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়, রক্ত চলাচল বাড়ে এবং মস্তিষ্ক এই দুই নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণে উৎসাহিত হয়। ফলে মনোযোগ বাড়ে, নেতিবাচক চিন্তার চাপ কিছুটা কমে, শরীরে আসে হালকা উষ্ণতা ও চনমনে ভাব।
কাঁচামরিচ খাওয়ার পর যে গরম লাগা বা ঘাম আসা অনুভূতি হয়, সেটিও মন ভালো হওয়ার সঙ্গে যুক্ত। এই সময় হৃদস্পন্দন সামান্য বাড়ে, রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়, মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। ফলে শরীর এক ধরনের সতর্ক অবস্থায় চলে যায়। এই অবস্থায় দীর্ঘ সময়ের মানসিক জড়তা বা অবসাদ অনেক সময় সাময়িকভাবে হলেও কাটতে শুরু করে।
মন খারাপের পেছনে শারীরিক ক্লান্তিও একটি বড় কারণ!
অনেক সময় আমরা ভাবি মন খারাপ মানেই মানসিক সমস্যা। কিন্তু বাস্তবে হালকা ক্লান্তি, কম রক্তচাপ, অলস হজম প্রক্রিয়া, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি কারণেও মন ভারী লাগতে পারে। কাঁচামরিচ হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় করে, পাকস্থলীতে রস নিঃসরণ বাড়ায় এবং শরীরকে একটু চাঙ্গা করে তোলে। ফলে মন খারাপের পেছনে থাকা শারীরিক অলসতা কাটতেও এটি ভূমিকা রাখে।
ঝাল ও মানসিক চাপের সম্পর্কটা কী?
চাপ বা স্ট্রেসের সময় শরীরে কর্টিসল নামের হরমোন বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই হরমোন বেশি থাকলে মন খারাপ, বিরক্তি ও অস্থিরতা বাড়ে।ঝাল খাবার খেলে-
⇨ শরীর স্ট্রেসকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নেয়।
⇨ সাময়িক উত্তেজনার পর রিল্যাক্সেশন আসে।
⇨ কর্টিসলের প্রভাব কিছুটা প্রশমিত হয়।
এই কারণেই অনেকে চাপের সময় ঝাল খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
কেন সবাই একইভাবে উপকার পায় না?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে বলা দরকার, কাঁচামরিচ কোনো যাদুকরী ওষুধ নয়। সবার শরীর ও স্নায়ুতন্ত্র একরকম প্রতিক্রিয়া দেখায় না। যাদের গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা আছে, অতিরিক্ত অ্যাসিডিটির প্রবণতা রয়েছে, যাদের অন্ত্র সংবেদনশীল তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরী। এই ক্ষেত্রে বেশি কাঁচামরিচ উল্টো অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, যা মন ভালো করার বদলে বিরক্তি বাড়াতে পারে।
কতটুকু কাঁচামরিচ যথেষ্ট?
মন ভালো করার জন্য খুব বেশি ঝাল খাওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং খাবারের সঙ্গে ১টি মাঝারি কাঁচামরিচ, সালাদে সামান্য কাঁচামরিচ কুচি ভর্তা বা চাটনিতে অল্প ঝাল- এ পরিমাণই যথেষ্ট স্নায়বিক উদ্দীপনা তৈরির জন্য।
মন ভালো রাখতে কাঁচামরিচের পাশাপাশি কী করবেন?
কাঁচামরিচ একা সব সমাধান নয়। তবে এটি হতে পারে একটি ছোট সহায়ক উপাদান। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় পর্যাপ্ত পানি পান, হালকা হাঁটা, কিছুক্ষণ গভীর শ্বাস, প্রিয় মানুষের সঙ্গে কথা! তাহলে মন খারাপ কাটানোর প্রক্রিয়াটি আরও কার্যকর হয়।
মন খারাপ হলে কাঁচামরিচ খাওয়ার পরামর্শ শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, এর পেছনে রয়েছে জটিল স্নায়ুবৈজ্ঞানিক ও রাসায়নিক প্রক্রিয়া। ক্যাপসাইসিন শরীরকে সামান্য চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে, আর শরীর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজস্ব আনন্দের রাসায়নিক নিঃসরণ করে। অবশ্যই, দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্নতা বা মানসিক সমস্যার সমাধান কাঁচামরিচ নয়। তবে দৈনন্দিন ক্লান্তি, মনমরা ভাব বা সাময়িক হতাশার মুহূর্তে রান্নাঘরের এই ছোট সবুজ অস্ত্রটি আপনার মনের দরজায় হালকা কড়া নাড়তেই পারে। ঝাল লাগবে, চোখে পানি আসতে পারে, কিন্তু সেই পানির ফোঁটার আড়ালেই হয়তো লুকিয়ে আছে সামান্য হাসি, একটু উদ্দীপনা আর নতুন করে শুরু করার শক্তি।