{{ news.section.title }}
কেন ১৮–৩৪ বয়সীদের মানসিক চাপ সবচেয়ে বেশি? কারণ ও সমাধান!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
১৮ থেকে ৩৪ বছরের বয়সসীমাকে সাধারণত জীবনের সবচেয়ে প্রাণবন্ত, সম্ভাবনাময় ও কর্মক্ষম সময় হিসেবে ধরা হয়। এই সময়েই মানুষ স্বপ্ন দেখে, ক্যারিয়ার গড়ে, সম্পর্ক তৈরি করে এবং নিজের পরিচয় নির্মাণে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, সব বয়সের তুলনায় ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যেই মানসিক চাপ বা স্ট্রেসের মাত্রা সর্বাধিক। অর্থাৎ জীবনের যে অধ্যায়টি হওয়ার কথা ছিল সবচেয়ে উদ্যমী ও আত্মবিশ্বাসী, সেই সময়টিই অনেকের কাছে পরিণত হচ্ছে চাপ, উদ্বেগ ও মানসিক অস্থিরতার এক জটিল পর্বে।
স্ট্রেস কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?
স্ট্রেস আসলে শরীর ও মনের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কোনো চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা বা চাপের মুখে পড়লে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র নিজেকে প্রস্তুত করতে কিছু হরমোন নিঃসরণ করে। স্বল্পমেয়াদে এই প্রতিক্রিয়া কখনো কখনো উপকারী। এটি মনোযোগ বাড়ায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখন তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি, বিরক্তি, উদ্বেগ, হতাশা এমনকি হৃদ্রোগ বা হরমোনজনিত জটিলতার ঝুঁকিও দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসে বেড়ে থাকে ।
বিভিন্ন সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যভিত্তিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ১৮–৩৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের একটি বড় অংশ নিয়মিত উচ্চ মাত্রার স্ট্রেস অনুভব করছেন। কাজের চাপ, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা, আর্থিক টানাপোড়েন, সম্পর্কের জটিলতা বা সামাজিক প্রত্যাশা! সব মিলিয়ে এই বয়সী মানুষদের ওপর চাপের স্তর ক্রমেই বাড়ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অভিজ্ঞতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে চাপ সামলাতে শিখলেও, তরুণ বয়সে সেই মানসিক দক্ষতা অনেকের মধ্যেই পুরোপুরি গড়ে ওঠে না।
১৮ থেকে ৩৪ বছরের সময়টা মূলত পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের সময়। এই পর্যায়ে তরুণরা একদিকে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজছেন, অন্যদিকে সমাজ ও পরিবারের কাছ থেকে পাচ্ছেন ক্যারিয়ার সেট করার চাপ। সব মিলিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক থেকেই তৈরি হয় তীব্র স্ট্রেস। কেউ কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না, কেউ আবার চাকরি পেলেও কাজের পরিবেশ বা নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
এই বয়সে প্রথমবারের মতো মানুষ নিজের আয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। ভাড়া, পড়াশোনার ঋণ, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, সবকিছু যেন একসঙ্গে এসে পড়ে। গবেষণায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের স্ট্রেসের অন্যতম বড় উৎস। ভবিষ্যতে সঞ্চয় করা যাবে কি না! জরুরি অবস্থায় অর্থ থাকবে কি না! এই চিন্তাগুলো প্রতিদিনের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দেয়।
১৮–৩৪ বছরের মধ্যে অনেকেই প্রেম, বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন। সম্পর্ক ভাঙা, প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, পারিবারিক চাপ ইত্যাদি নানান বিষয় মানসিক চাপ বাড়ায়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নতুন এক চাপ তৈরি করেছে। অন্যদের সাফল্য, ভ্রমণ, সুখী সম্পর্কের ছবি দেখে অনেকেই নিজের জীবনকে তুলনা করতে শুরু করেন। এই তুলনামূলক মানসিকতা আত্মসম্মান কমিয়ে দেয়, তৈরি করে অদৃশ্য এক মানসিক বোঝা।
এই বয়সী প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি সময় কাটায় ডিজিটাল পর্দার সামনে। কাজ, বিনোদন, যোগাযোগসহ সবকিছুই এখন স্ক্রিনকেন্দ্রিক। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকা মস্তিষ্ককে সবসময় সক্রিয় অবস্থায় রাখে, ফলে প্রকৃত বিশ্রাম পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। রাতের ঘুম কমে, মনোযোগ ভেঙে যায়, তৈরি হয় মানসিক ক্লান্তি। এই ডিজিটাল ওভারলোড স্ট্রেসকে আরও তীব্র করে তোলে।
১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়স হলো নিজের পরিচয় খোঁজার সময়। নিজের অস্তিত্ব, সক্ষমতা নিয়ে নানান প্রশ্ন প্রায়ই তরুণদের মনে ঘুরপাক খায়। এই আত্মঅনুসন্ধানের সময় অনিশ্চয়তা বেশি থাকায় স্ট্রেসের মাত্রাও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। যারা নিজের লক্ষ্য ও মূল্যবোধ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না, তাদের মধ্যে মানসিক চাপ আরও গভীর হতে দেখা যায়।
দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস শুধু মানসিক সমস্যাই নয়, শারীরিক সমস্যারও জন্ম দেয়। তরুণ বয়সে অনেকে এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু নিয়মিত মাথাব্যথা, হজমের সমস্যা, অনিয়মিত ঘুম, ক্লান্তি ইত্যাদি স্ট্রেসের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এই বয়সে যদি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কেন বয়স্কদের তুলনায় ১৮–৩৪ বছর বয়সীদের স্ট্রেস তুলনামূলক বেশি? বিশেষজ্ঞদের মনে করেন, বয়স্করা জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে চাপ সামলানোর কৌশল শিখে নেন। কিন্তু তরুণ বয়সে দায়িত্ব হঠাৎ বেড়ে যায়, অথচ মানসিক প্রস্তুতি সবসময় সমানতালে গড়ে ওঠে না। ফলে চাপের মুখে পড়লে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন।
স্ট্রেস মোকাবিলায় করণীয়:
গবেষণাগুলো শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেই থেমে নেই, বরং সমাধানের দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিয়মিত ঘুম, শারীরিক ব্যায়াম, সময় ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সমর্থন ইত্যাদি স্ট্রেস কমাতে কার্যকর। পাশাপাশি নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া এবং সবকিছু একা সামলানোর চাপ না নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ানো জরুরি।
তরুণদের শুধু সাফল্যের চাপ না দিয়ে তাদের মানসিক সুস্থতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবার, সব জায়গাতেই সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যেখানে তরুণরা নিজের চাপের কথা বলতে পারেন সংকোচ ছাড়াই।
১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়স মানেই শুধু শক্তি আর স্বপ্নের সময় নয়, এটি মানসিক চাপে ভরা এক সংবেদনশীল অধ্যায়ও। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসা তথ্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এই বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের স্ট্রেসকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সময়মতো সচেতনতা, সহায়তা ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারলে তরুণ বয়সের এই চাপ ভবিষ্যতের জন্য এক ভয়ংকর বোঝা হয়ে উঠবে না। বরং মানসিকভাবে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও স্থিতিশীল একটি প্রজন্ম গড়ে ওঠার পথ তৈরি হবে।
স্ট্রেস আসলে শরীর ও মনের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কোনো চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা বা চাপের মুখে পড়লে আমাদের স্নায়ুতন্ত্র নিজেকে প্রস্তুত করতে কিছু হরমোন নিঃসরণ করে। স্বল্পমেয়াদে এই প্রতিক্রিয়া কখনো কখনো উপকারী। এটি মনোযোগ বাড়ায় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। কিন্তু যখন এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখন তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি, বিরক্তি, উদ্বেগ, হতাশা এমনকি হৃদ্রোগ বা হরমোনজনিত জটিলতার ঝুঁকিও দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসে বেড়ে থাকে ।
বিভিন্ন সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্যভিত্তিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ১৮–৩৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের একটি বড় অংশ নিয়মিত উচ্চ মাত্রার স্ট্রেস অনুভব করছেন। কাজের চাপ, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা, আর্থিক টানাপোড়েন, সম্পর্কের জটিলতা বা সামাজিক প্রত্যাশা! সব মিলিয়ে এই বয়সী মানুষদের ওপর চাপের স্তর ক্রমেই বাড়ছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ অভিজ্ঞতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে চাপ সামলাতে শিখলেও, তরুণ বয়সে সেই মানসিক দক্ষতা অনেকের মধ্যেই পুরোপুরি গড়ে ওঠে না।
১৮ থেকে ৩৪ বছরের সময়টা মূলত পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের সময়। এই পর্যায়ে তরুণরা একদিকে নিজের পছন্দের কাজ খুঁজছেন, অন্যদিকে সমাজ ও পরিবারের কাছ থেকে পাচ্ছেন ক্যারিয়ার সেট করার চাপ। সব মিলিয়ে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক থেকেই তৈরি হয় তীব্র স্ট্রেস। কেউ কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না, কেউ আবার চাকরি পেলেও কাজের পরিবেশ বা নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
এই বয়সে প্রথমবারের মতো মানুষ নিজের আয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। ভাড়া, পড়াশোনার ঋণ, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব, সবকিছু যেন একসঙ্গে এসে পড়ে। গবেষণায় দেখা যায়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের স্ট্রেসের অন্যতম বড় উৎস। ভবিষ্যতে সঞ্চয় করা যাবে কি না! জরুরি অবস্থায় অর্থ থাকবে কি না! এই চিন্তাগুলো প্রতিদিনের মানসিক শান্তি নষ্ট করে দেয়।
১৮–৩৪ বছরের মধ্যে অনেকেই প্রেম, বিয়ে বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হন। সম্পর্ক ভাঙা, প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, পারিবারিক চাপ ইত্যাদি নানান বিষয় মানসিক চাপ বাড়ায়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নতুন এক চাপ তৈরি করেছে। অন্যদের সাফল্য, ভ্রমণ, সুখী সম্পর্কের ছবি দেখে অনেকেই নিজের জীবনকে তুলনা করতে শুরু করেন। এই তুলনামূলক মানসিকতা আত্মসম্মান কমিয়ে দেয়, তৈরি করে অদৃশ্য এক মানসিক বোঝা।
এই বয়সী প্রজন্মই সবচেয়ে বেশি সময় কাটায় ডিজিটাল পর্দার সামনে। কাজ, বিনোদন, যোগাযোগসহ সবকিছুই এখন স্ক্রিনকেন্দ্রিক। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকা মস্তিষ্ককে সবসময় সক্রিয় অবস্থায় রাখে, ফলে প্রকৃত বিশ্রাম পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। রাতের ঘুম কমে, মনোযোগ ভেঙে যায়, তৈরি হয় মানসিক ক্লান্তি। এই ডিজিটাল ওভারলোড স্ট্রেসকে আরও তীব্র করে তোলে।
১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়স হলো নিজের পরিচয় খোঁজার সময়। নিজের অস্তিত্ব, সক্ষমতা নিয়ে নানান প্রশ্ন প্রায়ই তরুণদের মনে ঘুরপাক খায়। এই আত্মঅনুসন্ধানের সময় অনিশ্চয়তা বেশি থাকায় স্ট্রেসের মাত্রাও স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। যারা নিজের লক্ষ্য ও মূল্যবোধ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পান না, তাদের মধ্যে মানসিক চাপ আরও গভীর হতে দেখা যায়।
দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেস শুধু মানসিক সমস্যাই নয়, শারীরিক সমস্যারও জন্ম দেয়। তরুণ বয়সে অনেকে এসব লক্ষণকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু নিয়মিত মাথাব্যথা, হজমের সমস্যা, অনিয়মিত ঘুম, ক্লান্তি ইত্যাদি স্ট্রেসের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এই বয়সে যদি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, কেন বয়স্কদের তুলনায় ১৮–৩৪ বছর বয়সীদের স্ট্রেস তুলনামূলক বেশি? বিশেষজ্ঞদের মনে করেন, বয়স্করা জীবনের নানা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে চাপ সামলানোর কৌশল শিখে নেন। কিন্তু তরুণ বয়সে দায়িত্ব হঠাৎ বেড়ে যায়, অথচ মানসিক প্রস্তুতি সবসময় সমানতালে গড়ে ওঠে না। ফলে চাপের মুখে পড়লে অনেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন।
স্ট্রেস মোকাবিলায় করণীয়:
গবেষণাগুলো শুধু সমস্যা চিহ্নিত করেই থেমে নেই, বরং সমাধানের দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিয়মিত ঘুম, শারীরিক ব্যায়াম, সময় ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সমর্থন ইত্যাদি স্ট্রেস কমাতে কার্যকর। পাশাপাশি নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া এবং সবকিছু একা সামলানোর চাপ না নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ানো জরুরি।
তরুণদের শুধু সাফল্যের চাপ না দিয়ে তাদের মানসিক সুস্থতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিবার, সব জায়গাতেই সহানুভূতিশীল পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যেখানে তরুণরা নিজের চাপের কথা বলতে পারেন সংকোচ ছাড়াই।
১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়স মানেই শুধু শক্তি আর স্বপ্নের সময় নয়, এটি মানসিক চাপে ভরা এক সংবেদনশীল অধ্যায়ও। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে আসা তথ্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, এই বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের স্ট্রেসকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। সময়মতো সচেতনতা, সহায়তা ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে পারলে তরুণ বয়সের এই চাপ ভবিষ্যতের জন্য এক ভয়ংকর বোঝা হয়ে উঠবে না। বরং মানসিকভাবে সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও স্থিতিশীল একটি প্রজন্ম গড়ে ওঠার পথ তৈরি হবে।