{{ news.section.title }}
'১২৭ আওয়ার্স’: বেঁচে থাকার মানসিক শক্তি!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
মানুষের জীবন কখন যে এক মুহূর্তে সম্পূর্ণ পাল্টে যায়, তা কেউই আগে থেকে জানতে পারে না। একটি সাধারণ ভ্রমণ, একা সময় কাটানোর ইচ্ছা কিংবা প্রকৃতির কাছে নিজেকে সঁপে দেওয়ার সিদ্ধান্ত, সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু কখনো কখনো সেই স্বাভাবিক সিদ্ধান্তই মানুষকে দাঁড় করিয়ে দেয় জীবনের সবচেয়ে চরম পরীক্ষার সামনে। ঠিক এমনই এক বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘127 Hours’, যা কেবল একটি সারভাইভাল গল্প নয়, বরং মানুষের মানসিক শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও বেঁচে থাকার প্রবল আকাঙ্ক্ষার এক গভীর দলিল।
এই চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা সহজ নয়। এখানে নেই অতিরিক্ত সংলাপের আরাম, নেই বড় কোনো অ্যাকশন দৃশ্যের বাহুল্য। তবু দর্শক এক মুহূর্তের জন্যও চোখ ফেরাতে পারেন না। কারণ এই গল্পের প্রতিটি মিনিটে প্রশ্ন একটাই, শুধু বেঁচে থাকার জন্য, মানুষ কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে!
‘127 Hours’ নির্মিত হয়েছে এক সত্য ঘটনা অবলম্বনে। একজন তরুণ পর্বতারোহী একা অভিযানে বের হয়ে হঠাৎ ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় আটকা পড়েন। কোনো সহায়তা নেই, যোগাযোগের কোনো উপায় নেই, চারপাশে শুধুই পাথর আর নীরবতা। সময় গড়াতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন। এই দীর্ঘ ১২৭ ঘণ্টা শুধু সময়ের হিসাব নয়, এটি মানুষের মানসিক শক্তির এক দীর্ঘ যুদ্ধ। চলচ্চিত্রটি শুরু হয় দ্রুত গতিতে, উজ্জ্বল রঙে, জীবনের প্রতি এক ধরনের উচ্ছ্বাস নিয়ে। দর্শক শুরুতে এক তরুণের স্বাধীনচেতা জীবন, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা দেখতে পান। কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই সেই উচ্ছ্বাস ভেঙে পড়ে এক ভয়াবহ বাস্তবতায়!
এই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো, একাকিত্বের বাস্তব চিত্রায়ণ। এখানে একাকিত্ব শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। দীর্ঘ সময় একা থাকলে মানুষের চিন্তা কীভাবে নিজের ভেতরেই ঘুরপাক খেতে শুরু করে, তা নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে এখানে।
প্রথম দিকে আশা থাকে, হয়তো কেউ আসবে, সাহায্য করবে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আশার জায়গা দখল করে নেয় ভয়, হতাশা, রাগ, অনুশোচনা এবং অবশেষে আত্মসমালোচনা। এই মানসিক ওঠানামা খুব মানবিকভাবে দেখানো হয়েছে। দর্শক বুঝতে পারেন, বিপদের মুহূর্তে মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে তার নিজের মনই।
‘127 Hours’-এর মূল বক্তব্য লুকিয়ে আছে একটি বিষয়েই আর তা হলো মানসিক শক্তি। এখানে কোনো সুপারহিরো নেই, নেই অলৌকিক কিছুও। আছে শুধু একজন সাধারণ মানুষ, যার শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে, কিন্তু মন এখনো হাল ছাড়তে রাজি নয়। খাবার-পানির অভাব, শারীরিক যন্ত্রণা, ঘুমের ঘোর সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যখন প্রায় অসহনীয়, তখন চরিত্রটি নিজের স্মৃতি, পরিবার, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আঁকড়ে ধরে থাকে। এই স্মৃতিগুলো শুধু আবেগ নয়, এগুলোই হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার জ্বালানি।
চলচ্চিত্রটি খুব পরিষ্কারভাবে দেখায়, মানুষ তখনই টিকে থাকে, যখন তার সামনে বেঁচে থাকার একটি অর্থ থাকে। সেই অর্থ কখনো পরিবার, কখনো অসম্পূর্ণ স্বপ্ন, আবার কখনো ভবিষ্যতের অনিশ্চিত কিন্তু সম্ভাবনাময় একটি জীবন।
এই সিনেমায় শরীর ও মনের লড়াই খুবই স্পষ্ট। শরীর আর পারছি না বললেও, মন বলতে থাকে-আরেকটু চেষ্টা করো। এই দ্বন্দ্বই সিনেমাটির মুল ফোকাস। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকার ফলে শরীর ধীরে ধীরে তার সীমা দেখাতে শুরু করে। কিন্তু মন তখন নতুন নতুন পথ খোঁজে, কীভাবে বেঁচে থাকা যায়! কীভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়! আর এই জায়গায় চলচ্চিত্রটি দর্শককে একটি কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়, মানুষ আসলে কতটা সহনশীল? এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। তবে সিনেমাটি ইঙ্গিত দেয়, মানুষের সহনশীলতার সীমা অনেক সময় তার নিজের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি হয়ে থাকে।
‘127 Hours’ কোনো বড় পরিসরের সিনেমা নয়। বেশির ভাগ সময় একই জায়গায় গল্প এগোয়। তবু একঘেয়েমি আসে না, বরং দর্শক আরও গভীরভাবে গল্পের ভেতরে ঢুকে পড়েন। ক্যামেরার ব্যবহার এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লোজ-আপ শট, হঠাৎ নীরবতা, আবার কখনো দ্রুত কাটে দর্শক যেন চরিত্রটির মাথার ভেতরে ঢুকে পড়েন। সময়ের ধীরগতিও এখানে একটি আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। "১২৭ ঘণ্টার" প্রতিটি মুহূর্ত দর্শক অনুভব করতে পারেন। সাউন্ড ডিজাইনও উল্লেখযোগ্য। কখনো প্রকৃতির নিস্তব্ধতা, কখনো হৃদস্পন্দনের শব্দ! এসবকিছু যেন মানসিক চাপ আরও তীব্র করে তোলে।
অনেক অনুপ্রেরণামূলক সিনেমায় বাস্তবতার চেয়ে নাটকীয়তা বেশি থাকে। ‘127 Hours’ সেই পথে হাঁটে না। এখানে অনুপ্রেরণা আসে চুপচাপ এবং ধীরে ধীরে। কোনো বড় বক্তৃতা নেই, নেই কৃত্রিম আবেগ। এই বাস্তবতাই সিনেমাটিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। দর্শক জানেন, এটি সত্য ঘটনা। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি যন্ত্রণা আরও বাস্তব মনে হয়।
আজকের দ্রুতগতির জীবনে আমরা প্রায়ই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ছোট ব্যর্থতা, চাপ, হতাশা, এসব আমাদের ভিতর থেলে ভেঙে দেয়। ‘127 Hours’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের মানসিক শক্তি অবিশ্বাস্য রকমের দৃঢ় হতে পারে, যদি সে নিজের ভেতরের ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে।
‘127 Hours’ নির্মিত হয়েছে এক সত্য ঘটনা অবলম্বনে। একজন তরুণ পর্বতারোহী একা অভিযানে বের হয়ে হঠাৎ ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় আটকা পড়েন। কোনো সহায়তা নেই, যোগাযোগের কোনো উপায় নেই, চারপাশে শুধুই পাথর আর নীরবতা। সময় গড়াতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন। এই দীর্ঘ ১২৭ ঘণ্টা শুধু সময়ের হিসাব নয়, এটি মানুষের মানসিক শক্তির এক দীর্ঘ যুদ্ধ। চলচ্চিত্রটি শুরু হয় দ্রুত গতিতে, উজ্জ্বল রঙে, জীবনের প্রতি এক ধরনের উচ্ছ্বাস নিয়ে। দর্শক শুরুতে এক তরুণের স্বাধীনচেতা জীবন, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা দেখতে পান। কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যবধানেই সেই উচ্ছ্বাস ভেঙে পড়ে এক ভয়াবহ বাস্তবতায়!
এই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো, একাকিত্বের বাস্তব চিত্রায়ণ। এখানে একাকিত্ব শুধু শারীরিক নয়, মানসিকও। দীর্ঘ সময় একা থাকলে মানুষের চিন্তা কীভাবে নিজের ভেতরেই ঘুরপাক খেতে শুরু করে, তা নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে এখানে।
প্রথম দিকে আশা থাকে, হয়তো কেউ আসবে, সাহায্য করবে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই আশার জায়গা দখল করে নেয় ভয়, হতাশা, রাগ, অনুশোচনা এবং অবশেষে আত্মসমালোচনা। এই মানসিক ওঠানামা খুব মানবিকভাবে দেখানো হয়েছে। দর্শক বুঝতে পারেন, বিপদের মুহূর্তে মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু হতে পারে তার নিজের মনই।
‘127 Hours’-এর মূল বক্তব্য লুকিয়ে আছে একটি বিষয়েই আর তা হলো মানসিক শক্তি। এখানে কোনো সুপারহিরো নেই, নেই অলৌকিক কিছুও। আছে শুধু একজন সাধারণ মানুষ, যার শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে, কিন্তু মন এখনো হাল ছাড়তে রাজি নয়। খাবার-পানির অভাব, শারীরিক যন্ত্রণা, ঘুমের ঘোর সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যখন প্রায় অসহনীয়, তখন চরিত্রটি নিজের স্মৃতি, পরিবার, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে আঁকড়ে ধরে থাকে। এই স্মৃতিগুলো শুধু আবেগ নয়, এগুলোই হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার জ্বালানি।
চলচ্চিত্রটি খুব পরিষ্কারভাবে দেখায়, মানুষ তখনই টিকে থাকে, যখন তার সামনে বেঁচে থাকার একটি অর্থ থাকে। সেই অর্থ কখনো পরিবার, কখনো অসম্পূর্ণ স্বপ্ন, আবার কখনো ভবিষ্যতের অনিশ্চিত কিন্তু সম্ভাবনাময় একটি জীবন।
এই সিনেমায় শরীর ও মনের লড়াই খুবই স্পষ্ট। শরীর আর পারছি না বললেও, মন বলতে থাকে-আরেকটু চেষ্টা করো। এই দ্বন্দ্বই সিনেমাটির মুল ফোকাস। দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকার ফলে শরীর ধীরে ধীরে তার সীমা দেখাতে শুরু করে। কিন্তু মন তখন নতুন নতুন পথ খোঁজে, কীভাবে বেঁচে থাকা যায়! কীভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়! আর এই জায়গায় চলচ্চিত্রটি দর্শককে একটি কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়, মানুষ আসলে কতটা সহনশীল? এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। তবে সিনেমাটি ইঙ্গিত দেয়, মানুষের সহনশীলতার সীমা অনেক সময় তার নিজের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি হয়ে থাকে।
‘127 Hours’ কোনো বড় পরিসরের সিনেমা নয়। বেশির ভাগ সময় একই জায়গায় গল্প এগোয়। তবু একঘেয়েমি আসে না, বরং দর্শক আরও গভীরভাবে গল্পের ভেতরে ঢুকে পড়েন। ক্যামেরার ব্যবহার এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লোজ-আপ শট, হঠাৎ নীরবতা, আবার কখনো দ্রুত কাটে দর্শক যেন চরিত্রটির মাথার ভেতরে ঢুকে পড়েন। সময়ের ধীরগতিও এখানে একটি আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। "১২৭ ঘণ্টার" প্রতিটি মুহূর্ত দর্শক অনুভব করতে পারেন। সাউন্ড ডিজাইনও উল্লেখযোগ্য। কখনো প্রকৃতির নিস্তব্ধতা, কখনো হৃদস্পন্দনের শব্দ! এসবকিছু যেন মানসিক চাপ আরও তীব্র করে তোলে।
অনেক অনুপ্রেরণামূলক সিনেমায় বাস্তবতার চেয়ে নাটকীয়তা বেশি থাকে। ‘127 Hours’ সেই পথে হাঁটে না। এখানে অনুপ্রেরণা আসে চুপচাপ এবং ধীরে ধীরে। কোনো বড় বক্তৃতা নেই, নেই কৃত্রিম আবেগ। এই বাস্তবতাই সিনেমাটিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। দর্শক জানেন, এটি সত্য ঘটনা। তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি যন্ত্রণা আরও বাস্তব মনে হয়।
আজকের দ্রুতগতির জীবনে আমরা প্রায়ই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। ছোট ব্যর্থতা, চাপ, হতাশা, এসব আমাদের ভিতর থেলে ভেঙে দেয়। ‘127 Hours’ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানুষের মানসিক শক্তি অবিশ্বাস্য রকমের দৃঢ় হতে পারে, যদি সে নিজের ভেতরের ইচ্ছাশক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে।