কেন নারীর অনুভূতি বদলায়? স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারানোর মূল কারণগুলো!

কেন নারীর অনুভূতি বদলায়? স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারানোর মূল কারণগুলো!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

বিয়ে হলো দুটি মানুষের মধ্যে একটি সামাজিক ও আইনগতভাবে স্বীকৃত বন্ধন, যা একটি দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করে এবং দুটি মানুষের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিয়ে মানেই আজীবনের ভালোবাসা, এই ধারণা বহু সংস্কৃতিতেই প্রচলিত। কিন্তু বাস্তব জীবনেও কি তা- ই হয়? উত্তরটা আসলে দদুল্যমান! সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক দাম্পত্য সম্পর্কেই দেখা যায় যে নারীরা ধীরে ধীরে স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। আবেগে, কথোপকথনে, এমনকি শারীরিক ঘনিষ্ঠতাতেও অনেক সময় অনাগ্রহী হয়ে উঠেন অনেকেই। এই বিষয়টি কিন্তু হঠাৎ করেই ঘটে যায় না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বশেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে ছোট ছোট অবহেলা, অসম্মান ও না-বলা কষ্ট জমতে জমতে একসময় সম্পর্ককে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয়।

এই প্রতিবেদনে কোনো দোষারোপ নয়, বরং বাস্তবতার আলোকে বোঝার চেষ্টা যে কী কী কারণে একজন নারী তার স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন, এবং এই পরিবর্তনের পেছনে কী ধরনের মানসিক ও সামাজিক প্রভাব কাজ করে।

আবেগগত অবহেলাই মূলত নীরব দূরত্বের সূচনা! 

নারীদের জন্য সম্পর্কের ভিত্তি শুধু দায়িত্ব বা সামাজিক কাঠামো নয়, বরং আবেগগত সংযোগও। অনেক নারীই অভিযোগ করেন, বিয়ের শুরুর দিকে যে মনোযোগ, কথা শোনা, অনুভূতির মূল্য দেওয়া ছিল, সময়ের সঙ্গে তা হারিয়ে যায়। দিন শেষে স্ত্রী কিছু বলতে চাইলে স্বামী যদি ফোন, টিভি বা কাজের অজুহাতে অনাগ্রহ দেখান, তাহলে ধীরে ধীরে তার ভেতরে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। এই শূন্যতা থেকেই শুরু হয় দূরত্ব। আবেগগতভাবে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া একজন সঙ্গীর প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা একজন নারীদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

সম্মানের অভাবে হয় ভালোবাসার নীরব ক্ষয়!

ভালোবাসা টিকে থাকে সম্মানের ওপর। অনেক ক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীর মতামতকে তেমন গুরুত্ব দেয়না, সিদ্ধান্তে একচ্ছত্র আচরণ, বা প্রকাশ্যে বা গোপনে অপমানজনক কথাও  বলে থাকেন অনেক স্বামী। এই বিষয়গুলো নারীর মনে নিরবে নিভৃতে গভীর ক্ষত তৈরি করে। একজন নারী যখন অনুভব করেন যে তিনি কেবল একজন দায়িত্ব পালনকারী মানুষ, কিন্তু সম্মানযোগ্য সঙ্গী নন, তখন তার আবেগ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়। ভালোবাসা জোর করে ধরে রাখা যায় না, বিশেষ করে যখন আত্মসম্মান বারবার আঘাত পায়।

একতরফা সম্পর্কের বোঝা!

অনেক দাম্পত্য সম্পর্কে দেখা যায়, সংসার, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, সামাজিক দায়িত্ব সবকিছুর মানসিক ও শারীরিক ভার প্রধানত নারীর ওপরই পড়ে। অথচ সঙ্গীর কাছ থেকে এই পরিশ্রমের স্বীকৃতি বা সহযোগিতা খুব কমই আসে। যখন একজন নারী বুঝতে পারেন যে সম্পর্কটি একতরফা হয়ে গেছে বা যাচ্ছে, যেখানে তিনি শুধু দিচ্ছেন আর পাচ্ছেন খুবই কম, তখন তার ভেতরে নিজের অজান্তেই জমতে শুরু করে ক্লান্তি ও বিরক্তি। এই মানসিক ক্লান্তি ধীরে ধীরে তার আগ্রহকেও নিভিয়ে দেয়।

যোগাযোগের অভাবে না বলা কথার পাহাড় জমে!

সম্পর্কে সমস্যার শুরু হয় তখনই, যখন কথা বলা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হয় বা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। অনেক স্বামীই মনে করেন, ঝামেলা না বাড়াতে চুপ থাকাই হয়তো উত্তম পন্থা। কিন্তু এই চুপ থাকা নারীর কাছে দূরত্বের সংকেত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কষ্ট বা প্রত্যাশা নিয়ে খোলাখুলি কথা না হলে সেগুলো জমে যায়। একসময় এই না-বলা কথাগুলোই সম্পর্কের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। তখন স্বামীর উপস্থিতি শারীরিক হলেও মানসিকভাবে তিনি হয়ে যান অপরিচিত এক দূরের মানুষ।

শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় উদাসীনতা!

শারীরিক সম্পর্ক শুধু দৈহিক চাহিদা নয়, এটি আবেগগত সংযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক নারী অভিযোগ করেন, স্বামী হয় এই বিষয়ে অতিরিক্ত উদাসীন, নয়তো পুরো বিষয়টিকে রুটিন দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। আবেগহীন, একঘেয়ে বা চাপের মধ্যে থাকা শারীরিক সম্পর্ক নারীর আগ্রহ কমিয়ে দেয়। যখন একজন নারী অনুভব করেন যে তার অনুভূতি, আরাম বা চাহিদা এখানে গুরুত্ব পাচ্ছে না, তখন তিনি ধীরে ধীরে এই ঘনিষ্ঠতা থেকেও নিজেকে সরিয়ে ফেলেন।

কৃতজ্ঞতার অভাব, ছোট স্বীকৃতির বড় প্রভাব!

“তুমি ভালো করেছ”-এই ছোট্ট একটি বাক্য অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু অনেক সংসারে নারীর কাজকে স্বাভাবিক  দায়িত্ব হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। রান্না, সন্তান লালন, সংসার সামলানো সবকিছু যেন তার করতেই হবে, এর জন্য আলাদা করে ধন্যবাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই কৃতজ্ঞতার অভাব নারীর মনে প্রশ্ন তোলে, এই সম্পর্কের মধ্যে তার মূল্যটা আসলে কতটুকু এবং কোথায়? যখন সে নিজেকে অদৃশ্য মনে করতে শুরু করে, তখন আগ্রহও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।

নিরাপত্তাহীনতা ও বিশ্বাসের সংকট!

বিশ্বাস একটি সম্পর্কের মেরুদণ্ড। সন্দেহ, মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভাঙা কিংবা অতীতের কোনো আঘাত ইত্যাদি বিষয়গুলো নারীর মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।একবার যদি বিশ্বাসে চিড় ধরে, তবে ভালোবাসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কারণ তখন প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি কথার পেছনে নারী লুকানো অর্থ খুঁজতে শুরু করেন। এই মানসিক চাপ আগ্রহকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়।

নিজের পরিচয় হারানোর অনুভূতি!

বিয়ের পর অনেক নারী ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্ন, আগ্রহ ও পরিচয়কে পেছনে সরিয়ে দেন। যদি স্বামী এই আত্মত্যাগকে সম্মান না করেন বা নারীর ব্যক্তিসত্তাকে সমর্থন না দেন, তবে একসময় নারীর মস্তিষ্ক নিজের অজান্তেই তাকে আটকে পড়া অনুভূতি দিতে শুরু করে। এই অবস্থায় স্বামী তার কাছে আর ভালোবাসার মানুষ নয়, বরং নিজের সীমাবদ্ধতার রেখা হয়ে ওঠেন। তখন সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

অবহেলিত মানসিক স্বাস্থ্য!

নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের চাপ, অবসাদ বা মানসিক ক্লান্তি যদি স্বামী বুঝতে না চান বা হালকাভাবে নেন, তাহলে নারী একা বোধ করতে শুরু করেন। এই একাকিত্ব সম্পর্কের ভেতরেই জন্ম নেয়, যা সবচেয়ে কষ্টকর। এমন অবস্থায় আগ্রহ নয়, বরং দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতাই জোরালো হয়।

পরিবর্তনের অনীহা!

সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও স্বামী  নিজের পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন অনুভব করেন না। অনেক নারী বলেন, তারা অভিযোগ করেছেন, বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখেননি। এই পর্যায়ে এসে নারী ধীরে ধীরে আশা ছেড়ে দেন। আশা শেষ মানেই সম্পর্কের প্রতি আগ্রহের শেষ অধ্যায় শুরু।

নারীরা সাধারণত একদিনে তার প্রিয় মানুষটি বা তার স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন না। এটি হয় ধাপে ধাপে। অবহেলা থেকে দূরত্ব, দূরত্ব থেকে নীরবতা, আর নীরবতা থেকে আবেগের মৃত্যু। এই পরিবর্তন ঠেকানো সম্ভব, যদি সময়মতো শোনা যায়, বোঝা যায় এবং সম্মান দেওয়া হয়। সম্পর্ক বড় বড় প্রতিশ্রুতিতে টিকে থাকে না, বরং দৈনন্দিন ছোট আচরণের মধ্য দিয়েই সম্পর্ক তার জায়গা দখল করে নেয়। কারণ ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়, এটি যত্ন, সম্মান ও সচেতন চর্চার ফল।কেন নারীর অনুভূতি বদলায়? স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারানোর মূল কারণগুলো!

বিয়ে হলো দুটি মানুষের মধ্যে একটি সামাজিক ও আইনগতভাবে স্বীকৃত বন্ধন, যা একটি দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করে এবং দুটি মানুষের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিয়ে মানেই আজীবনের ভালোবাসা, এই ধারণা বহু সংস্কৃতিতেই  প্রচলিত। কিন্তু বাস্তব জীবনেও কি তা- ই হয়? উত্তরটা আসলে দদুল্যমান! সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক দাম্পত্য সম্পর্কেই দেখা যায় যে নারীরা ধীরে ধীরে স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। আবেগে, কথোপকথনে, এমনকি শারীরিক ঘনিষ্ঠতাতেও অনেক সময় অনাগ্রহী হয়ে উঠেন অনেকেই। এই বিষয়টি কিন্তু হঠাৎ করেই ঘটে যায় না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বশেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, যেখানে ছোট ছোট অবহেলা, অসম্মান ও না-বলা কষ্ট জমতে জমতে একসময় সম্পর্ককে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দেয়।

এই প্রতিবেদনে কোনো দোষারোপ নয়, বরং বাস্তবতার আলোকে বোঝার চেষ্টা যে কী কী কারণে একজন নারী তার স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারাতে পারেন, এবং এই পরিবর্তনের পেছনে কী ধরনের মানসিক ও সামাজিক প্রভাব কাজ করে।

আবেগগত অবহেলাই মূলত নীরব দূরত্বের সূচনা! 

নারীদের জন্য সম্পর্কের ভিত্তি শুধু দায়িত্ব বা সামাজিক কাঠামো নয়, বরং আবেগগত সংযোগও। অনেক নারীই অভিযোগ করেন, বিয়ের শুরুর দিকে যে মনোযোগ, কথা শোনা, অনুভূতির মূল্য দেওয়া ছিল, সময়ের সঙ্গে তা হারিয়ে যায়। দিন শেষে স্ত্রী কিছু বলতে চাইলে স্বামী যদি ফোন, টিভি বা কাজের অজুহাতে অনাগ্রহ দেখান, তাহলে ধীরে ধীরে তার ভেতরে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। এই শূন্যতা থেকেই শুরু হয় দূরত্ব। আবেগগতভাবে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া একজন সঙ্গীর প্রতি আগ্রহ ধরে রাখা একজন নারীদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

সম্মানের অভাবে হয় ভালোবাসার নীরব ক্ষয়!

ভালোবাসা টিকে থাকে সম্মানের ওপর। অনেক ক্ষেত্রে স্বামী তার স্ত্রীর মতামতকে তেমন গুরুত্ব দেয়না, সিদ্ধান্তে একচ্ছত্র আচরণ, বা প্রকাশ্যে বা গোপনে অপমানজনক কথাও  বলে থাকেন অনেক স্বামী। এই বিষয়গুলো নারীর মনে নিরবে নিভৃতে গভীর ক্ষত তৈরি করে। একজন নারী যখন অনুভব করেন যে তিনি কেবল একজন দায়িত্ব পালনকারী মানুষ, কিন্তু সম্মানযোগ্য সঙ্গী নন, তখন তার আবেগ ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়। ভালোবাসা জোর করে ধরে রাখা যায় না, বিশেষ করে যখন আত্মসম্মান বারবার আঘাত পায়।

একতরফা সম্পর্কের বোঝা!

অনেক দাম্পত্য সম্পর্কে দেখা যায়, সংসার, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, সামাজিক দায়িত্ব সবকিছুর মানসিক ও শারীরিক ভার প্রধানত নারীর ওপরই পড়ে। অথচ সঙ্গীর কাছ থেকে এই পরিশ্রমের স্বীকৃতি বা সহযোগিতা খুব কমই আসে। যখন একজন নারী বুঝতে পারেন যে সম্পর্কটি একতরফা হয়ে গেছে বা যাচ্ছে, যেখানে তিনি শুধু দিচ্ছেন আর পাচ্ছেন খুবই কম, তখন তার ভেতরে নিজের অজান্তেই জমতে শুরু করে ক্লান্তি ও বিরক্তি। এই মানসিক ক্লান্তি ধীরে ধীরে তার আগ্রহকেও নিভিয়ে দেয়।

যোগাযোগের অভাবে না বলা কথার পাহাড় জমে!

সম্পর্কে সমস্যার শুরু হয় তখনই, যখন কথা বলা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হয় বা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। অনেক স্বামীই মনে করেন, ঝামেলা না বাড়াতে চুপ থাকাই হয়তো উত্তম পন্থা। কিন্তু এই চুপ থাকা নারীর কাছে দূরত্বের সংকেত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কষ্ট বা প্রত্যাশা নিয়ে খোলাখুলি কথা না হলে সেগুলো জমে যায়। একসময় এই না-বলা কথাগুলোই সম্পর্কের মাঝে দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। তখন স্বামীর উপস্থিতি শারীরিক হলেও মানসিকভাবে তিনি হয়ে যান অপরিচিত এক দূরের মানুষ।

শারীরিক ঘনিষ্ঠতায় উদাসীনতা!

শারীরিক সম্পর্ক শুধু দৈহিক চাহিদা নয়, এটি আবেগগত সংযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অনেক নারী অভিযোগ করেন, স্বামী হয় এই বিষয়ে অতিরিক্ত উদাসীন, নয়তো পুরো বিষয়টিকে রুটিন দায়িত্ব হিসেবে দেখেন। আবেগহীন, একঘেয়ে বা চাপের মধ্যে থাকা শারীরিক সম্পর্ক নারীর আগ্রহ কমিয়ে দেয়। যখন একজন নারী অনুভব করেন যে তার অনুভূতি, আরাম বা চাহিদা এখানে গুরুত্ব পাচ্ছে না, তখন তিনি ধীরে ধীরে এই ঘনিষ্ঠতা থেকেও নিজেকে সরিয়ে ফেলেন।

কৃতজ্ঞতার অভাব, ছোট স্বীকৃতির বড় প্রভাব!

“তুমি ভালো করেছ”-এই ছোট্ট একটি বাক্য অনেক বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু অনেক সংসারে নারীর কাজকে স্বাভাবিক  দায়িত্ব হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। রান্না, সন্তান লালন, সংসার সামলানো সবকিছু যেন তার করতেই হবে, এর জন্য আলাদা করে ধন্যবাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এই কৃতজ্ঞতার অভাব নারীর মনে প্রশ্ন তোলে, এই সম্পর্কের মধ্যে তার মূল্যটা আসলে কতটুকু এবং কোথায়? যখন সে নিজেকে অদৃশ্য মনে করতে শুরু করে, তখন আগ্রহও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।

নিরাপত্তাহীনতা ও বিশ্বাসের সংকট!

বিশ্বাস একটি সম্পর্কের মেরুদণ্ড। সন্দেহ, মিথ্যা বলা, প্রতিশ্রুতি ভাঙা কিংবা অতীতের কোনো আঘাত ইত্যাদি বিষয়গুলো নারীর মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।একবার যদি বিশ্বাসে চিড় ধরে, তবে ভালোবাসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কারণ তখন প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি কথার পেছনে নারী লুকানো অর্থ খুঁজতে শুরু করেন। এই মানসিক চাপ আগ্রহকে সমূলে ধ্বংস করে দেয়।

নিজের পরিচয় হারানোর অনুভূতি!

বিয়ের পর অনেক নারী ধীরে ধীরে নিজের স্বপ্ন, আগ্রহ ও পরিচয়কে পেছনে সরিয়ে দেন। যদি স্বামী এই আত্মত্যাগকে সম্মান না করেন বা নারীর ব্যক্তিসত্তাকে সমর্থন না দেন, তবে একসময় নারীর মস্তিষ্ক নিজের অজান্তেই তাকে আটকে পড়া অনুভূতি দিতে শুরু করে। এই অবস্থায় স্বামী তার কাছে আর ভালোবাসার মানুষ নয়, বরং নিজের সীমাবদ্ধতার রেখা হয়ে ওঠেন। তখন সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়।

অবহেলিত মানসিক স্বাস্থ্য!

নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবহেলা সম্পর্কের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের চাপ, অবসাদ বা মানসিক ক্লান্তি যদি স্বামী বুঝতে না চান বা হালকাভাবে নেন, তাহলে নারী একা বোধ করতে শুরু করেন। এই একাকিত্ব সম্পর্কের ভেতরেই জন্ম নেয়, যা সবচেয়ে কষ্টকর। এমন অবস্থায় আগ্রহ নয়, বরং দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতাই জোরালো হয়।

পরিবর্তনের অনীহা!

সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয় তখনই, যখন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও স্বামী  নিজের পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন অনুভব করেন না। অনেক নারী বলেন, তারা অভিযোগ করেছেন, বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কোনো পরিবর্তন দেখেননি। এই পর্যায়ে এসে নারী ধীরে ধীরে আশা ছেড়ে দেন। আশা শেষ মানেই সম্পর্কের প্রতি আগ্রহের শেষ অধ্যায় শুরু।

নারীরা সাধারণত একদিনে তার প্রিয় মানুষটি বা তার স্বামীর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন না। এটি হয় ধাপে ধাপে। অবহেলা থেকে দূরত্ব, দূরত্ব থেকে নীরবতা, আর নীরবতা থেকে আবেগের মৃত্যু। এই পরিবর্তন ঠেকানো সম্ভব, যদি সময়মতো শোনা যায়, বোঝা যায় এবং সম্মান দেওয়া হয়। সম্পর্ক বড় বড় প্রতিশ্রুতিতে টিকে থাকে না, বরং দৈনন্দিন ছোট আচরণের মধ্য দিয়েই সম্পর্ক তার জায়গা দখল করে নেয়। কারণ ভালোবাসা শুধু অনুভূতি নয়, এটি যত্ন, সম্মান ও সচেতন চর্চার ফল।

সম্পর্কিত নিউজ