{{ news.section.title }}
আপনি জানেন কি? প্যানসি ফুলের অজানা সব রহস্য!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
শীতের হালকা রোদে কিংবা বসন্তের কোমল বাতাসে যে ফুলটি চোখে পড়লেই মনটা হঠাৎ উৎফুল্ল হয়ে ওঠে, সেটি হলো প্যানসি ফুল। ছোট আকারের হলেও এর রঙ, নকশা ও অভিব্যক্তি এতটাই বৈচিত্র্যময় যে অনেকেই একে বলেন ফুলের মুখ। পাপড়ির মাঝখানে যেন আঁকা থাকে এক ধরনের অনুভূতিময় চেহারা।কখনো মনে হয় হাসি, কখনো বা গভীর দৃষ্টি। কিন্তু প্যানসি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়,এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উদ্ভিদবিজ্ঞান, পরিবেশ, এবং মানুষের আবেগের এক দীর্ঘ ইতিহাস।
প্যানসি মূলত একটি শীতকালীন ফুল, যা Viola গণের অন্তর্ভুক্ত।"প্যান্সি" নামটি ফরাসি শব্দ pensée , "thought" থেকে এসেছে। প্রায় ১৫ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ভায়োলার নাম হিসেবে শেষ মধ্য ইংরেজিতে আমদানি করা হয়েছিল, কারণ ফুলটিকে স্মরণের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হত। এটি সাধারণত ঠান্ডা বা নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়। ছোট ঝোপাকৃতির এই উদ্ভিদটি সাধারণত ১৫–২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতাগুলো নরম ও সবুজ, আর ফুলগুলো তুলনামূলক বড় এবং বহু রঙের। প্যানসির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো একটি ফুলেই একাধিক রঙের সমন্বয় থাকে। বেগুনি, হলুদ, সাদা, নীল, লাল এমনকি কালচে রঙও দেখা যায়। অনেক প্যানসি ফুলের মাঝখানে গাঢ় রঙের দাগ থাকে, যা অনেক সময় চোখের মতো দেখা যায়।
“Pansy” শব্দটির উৎপত্তি ফরাসি শব্দ “pensée” থেকে, যার অর্থ চিন্তা বা ভাবনা। ইউরোপে এই ফুলকে দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতি, ভাবনা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। পাপড়ির গঠন এমনভাবে সাজানো যে দেখে মনে হয় ফুলটি যেন গভীর চিন্তায় মগ্ন। এই কারণেই সাহিত্য ও শিল্পকলায় প্যানসি প্রায়ই নীরব অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্যানসির রঙের বৈচিত্র্য কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। ফুলের পাপড়িতে থাকা প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ, বিশেষ করে অ্যান্থোসায়ানিন এই রঙের জন্য দায়ী। পরিবেশের তাপমাত্রা, আলো এবং মাটির উপাদানের তারতম্যের কারণে একই জাতের প্যানসিতেও ভিন্ন ভিন্ন শেড দেখা যায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় প্যানসির রঙ সাধারণত আরও উজ্জ্বল হয়। কারণ কম তাপমাত্রায় রঞ্জক পদার্থ বেশি স্থিতিশীল থাকে। এ কারণেই শীতকালে প্যানসি ফুল সবচেয়ে সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। প্যানসি এমন একটি ফুল যা হালকা ঠান্ডা পেলে আরও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। খুব বেশি গরম পড়লে ফুল ছোট হয়ে যায় বা দ্রুত ঝরে পড়ে। এ কারণে উপমহাদেশে প্যানসি ফুল মূলত শীতকালীন বাগানের পরিচিত।
মাটির ক্ষেত্রে প্যানসি চায় পানি নিষ্কাশনযোগ্য, উর্বর ও সামান্য আর্দ্র পরিবেশ। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে এর শিকড় পচে যেতে পারে। আবার একেবারে শুকনো মাটিতেও ফুল ভালো থাকে না। এই ভারসাম্যই প্যানসির সুস্থ বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।
প্যানসি ফুল প্রকৃতির পরাগায়ন ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মৌমাছি ও প্রজাপতির মতো পরাগবাহীরা প্যানসির উজ্জ্বল রঙ ও নরম গন্ধে আকৃষ্ট হয়। ফুলের মাঝখানের গাঢ় দাগ পরাগবাহীদের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগ স্থানান্তরিত হয়, যা উদ্ভিদের প্রজনন নিশ্চিত করে।
প্যানসি শহুরে বাগান, ছাদবাগান এবং ফুলের টবের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি খুব বেশি জায়গা দখল করে না। এর যত্নও তুলনামূলক সহজ। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ফুল ফোটে। বাগান পরিকল্পনায় প্যানসিকে প্রায়ই বর্ডার প্ল্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রাস্তার ধারে, পার্কে বা স্কুল-কলেজের বাগানে সারিবদ্ধ প্যানসি এক ধরনের নান্দনিক শৃঙ্খলা তৈরি করে।
ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে, প্যানসি দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতি ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। কাউকে মনে রাখা, নিঃশব্দে ভালোবাসা প্রকাশ করা বা হারানো সম্পর্কের কথা স্মরণ করার ক্ষেত্রে এই ফুলের ব্যবহার দেখা যায়। অনেক দেশে প্যানসি ফুলকে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবেও ধরা হয়। এর কারণ, ফুলটি অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ নয়, আবার একেবারে সাধারণও নয়। ঠিক যেমন নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব হয় নীরব কিন্তু গভীর।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্যানসি ফুল ও পাতার ভেষজ ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা প্রচলিত ছিল। বিশেষ করে ইউরোপে একসময় ত্বকসংক্রান্ত সমস্যা ও হালকা শ্বাসকষ্টে এই উদ্ভিদের নির্যাস ব্যবহারের কথা শোনা যায়। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসব ব্যবহার এখন আর মূলধারার চিকিৎসা হিসেবে গণ্য নয়। আজকের দৃষ্টিতে প্যানসি মূলত একটি শৌখিন ও নান্দনিক উদ্ভিদ হিসেবেই বেশি মূল্যবান।
রঙিন ফুল মানুষের মনোজগতে বেশ প্রভাব ফেলে। প্যানসির মতো উজ্জ্বল কিন্তু কোমল রঙের ফুল মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। শীতের ধূসর দিনে বারান্দা বা ছাদে ফোটা প্যানসি অনেকের জন্য মানসিক প্রশান্তির উৎস হয়ে ওঠে। কাজের ফাঁকে এক ঝলক ফুলের দিকে তাকানোই কখনো কখনো ক্লান্ত মনকে হালকা করে দেয়।
কখনো কখনো ছোট একটি রঙিন উপস্থিতিই গভীর ছাপ ফেলে যায় আমাদের মনে। শীতের সকালে বা বসন্তের বিকেলে একটি প্যানসি ফুলের দিকে তাকালে মনে হয়, প্রকৃতি যেন খুব সাধারণ ভাষায় আমাদের বলে দিচ্ছে, সৌন্দর্য আসলে জটিল নয়, বরং নিঃশব্দ ও গভীর।
“Pansy” শব্দটির উৎপত্তি ফরাসি শব্দ “pensée” থেকে, যার অর্থ চিন্তা বা ভাবনা। ইউরোপে এই ফুলকে দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতি, ভাবনা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। পাপড়ির গঠন এমনভাবে সাজানো যে দেখে মনে হয় ফুলটি যেন গভীর চিন্তায় মগ্ন। এই কারণেই সাহিত্য ও শিল্পকলায় প্যানসি প্রায়ই নীরব অনুভূতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্যানসির রঙের বৈচিত্র্য কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। ফুলের পাপড়িতে থাকা প্রাকৃতিক রঞ্জক পদার্থ, বিশেষ করে অ্যান্থোসায়ানিন এই রঙের জন্য দায়ী। পরিবেশের তাপমাত্রা, আলো এবং মাটির উপাদানের তারতম্যের কারণে একই জাতের প্যানসিতেও ভিন্ন ভিন্ন শেড দেখা যায়। ঠান্ডা আবহাওয়ায় প্যানসির রঙ সাধারণত আরও উজ্জ্বল হয়। কারণ কম তাপমাত্রায় রঞ্জক পদার্থ বেশি স্থিতিশীল থাকে। এ কারণেই শীতকালে প্যানসি ফুল সবচেয়ে সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। প্যানসি এমন একটি ফুল যা হালকা ঠান্ডা পেলে আরও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। খুব বেশি গরম পড়লে ফুল ছোট হয়ে যায় বা দ্রুত ঝরে পড়ে। এ কারণে উপমহাদেশে প্যানসি ফুল মূলত শীতকালীন বাগানের পরিচিত।
মাটির ক্ষেত্রে প্যানসি চায় পানি নিষ্কাশনযোগ্য, উর্বর ও সামান্য আর্দ্র পরিবেশ। অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে এর শিকড় পচে যেতে পারে। আবার একেবারে শুকনো মাটিতেও ফুল ভালো থাকে না। এই ভারসাম্যই প্যানসির সুস্থ বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।
প্যানসি ফুল প্রকৃতির পরাগায়ন ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মৌমাছি ও প্রজাপতির মতো পরাগবাহীরা প্যানসির উজ্জ্বল রঙ ও নরম গন্ধে আকৃষ্ট হয়। ফুলের মাঝখানের গাঢ় দাগ পরাগবাহীদের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগ স্থানান্তরিত হয়, যা উদ্ভিদের প্রজনন নিশ্চিত করে।
প্যানসি শহুরে বাগান, ছাদবাগান এবং ফুলের টবের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়। এটি খুব বেশি জায়গা দখল করে না। এর যত্নও তুলনামূলক সহজ। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ফুল ফোটে। বাগান পরিকল্পনায় প্যানসিকে প্রায়ই বর্ডার প্ল্যান্ট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রাস্তার ধারে, পার্কে বা স্কুল-কলেজের বাগানে সারিবদ্ধ প্যানসি এক ধরনের নান্দনিক শৃঙ্খলা তৈরি করে।
ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে, প্যানসি দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতি ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। কাউকে মনে রাখা, নিঃশব্দে ভালোবাসা প্রকাশ করা বা হারানো সম্পর্কের কথা স্মরণ করার ক্ষেত্রে এই ফুলের ব্যবহার দেখা যায়। অনেক দেশে প্যানসি ফুলকে বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবেও ধরা হয়। এর কারণ, ফুলটি অতিরিক্ত জাঁকজমকপূর্ণ নয়, আবার একেবারে সাধারণও নয়। ঠিক যেমন নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব হয় নীরব কিন্তু গভীর।
ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্যানসি ফুল ও পাতার ভেষজ ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা প্রচলিত ছিল। বিশেষ করে ইউরোপে একসময় ত্বকসংক্রান্ত সমস্যা ও হালকা শ্বাসকষ্টে এই উদ্ভিদের নির্যাস ব্যবহারের কথা শোনা যায়। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এসব ব্যবহার এখন আর মূলধারার চিকিৎসা হিসেবে গণ্য নয়। আজকের দৃষ্টিতে প্যানসি মূলত একটি শৌখিন ও নান্দনিক উদ্ভিদ হিসেবেই বেশি মূল্যবান।
রঙিন ফুল মানুষের মনোজগতে বেশ প্রভাব ফেলে। প্যানসির মতো উজ্জ্বল কিন্তু কোমল রঙের ফুল মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। শীতের ধূসর দিনে বারান্দা বা ছাদে ফোটা প্যানসি অনেকের জন্য মানসিক প্রশান্তির উৎস হয়ে ওঠে। কাজের ফাঁকে এক ঝলক ফুলের দিকে তাকানোই কখনো কখনো ক্লান্ত মনকে হালকা করে দেয়।
কখনো কখনো ছোট একটি রঙিন উপস্থিতিই গভীর ছাপ ফেলে যায় আমাদের মনে। শীতের সকালে বা বসন্তের বিকেলে একটি প্যানসি ফুলের দিকে তাকালে মনে হয়, প্রকৃতি যেন খুব সাধারণ ভাষায় আমাদের বলে দিচ্ছে, সৌন্দর্য আসলে জটিল নয়, বরং নিঃশব্দ ও গভীর।