{{ news.section.title }}
নন-স্টিক প্যানে রান্না করেন? একটি আঁচড়েই খাবারে ঢুকছে ৯,০০০ বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
রান্নাঘরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে নন-স্টিক প্যান প্রায় প্রতিটি ঘরেই জায়গা করে নিয়েছে। তেল কম লাগে, খাবার লেগে যায় না, পরিষ্কার করাও বেশ সহজ। এসব সুবিধাগুলোর কারণেই আধুনিক জীবনে নন-স্টিক প্যান যেন সময় বাঁচানোর উপাদান,স্বস্তির উপায়। কিন্তু এই স্বস্তির আড়ালেই কি লুকিয়ে আছে এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি?
সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও গবেষণাগুলো বলছে, নন-স্টিক প্যানের গায়ে মাত্র একটি ছোট স্ক্র্যাচ বা আঁচড় আপনার খাবারে ছড়িয়ে দিতে পারে প্রায় ৯,০০০ পর্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা। যেগুলো চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীরের ভেতরে ঢুকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই তথ্য শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, আধুনিক গবেষণায় ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক আর দূরের কোনো সমুদ্র সমস্যা নয়, এটি এখন আমাদের রান্নাঘরেই উপস্থিত
নন-স্টিক প্যান কী দিয়ে তৈরি?
নন-স্টিক প্যানের ভেতরের কালো বা গাঢ় আবরণটি সাধারণত এক ধরনের কৃত্রিম রাসায়নিক আবরণ, যা খাবারকে পৃষ্ঠে আটকে থাকতে দেয় না। এই আবরণটি মূলত প্লাস্টিকজাত উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে, যা অত্যন্ত পাতলা স্তরে ধাতব প্যানের ওপর বসানো হয়। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই আবরণটি অক্ষত থাকে না। দৈনন্দিন ব্যবহারে ধাতব খুন্তি, চামচ, কাঁটা বা শক্ত স্ক্রাবার দিয়ে ঘষলে নন-স্টিকের ওপর সূক্ষ্ম আঁচড় পড়ে। অনেক সময় আমরা সেগুলো তেমন গুরুত্বই দিই না। কারণ, প্যান তখনও ব্যবহারযোগ্যই মনে হয়। কিন্তু এই ছোট আঁচড়ই হতে পারে বিপদের সূচনা!
একটি স্ক্র্যাচ কীভাবে হাজার হাজার কণার উৎস হয়?
নন-স্টিক আবরণটি একটানা মসৃণ স্তর হলেও, আঁচড় পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্তর ভেঙে যায়। ভাঙা অংশ থেকে অতি সূক্ষ্ম কণা আলাদা হয়ে যায়।সেগুলো রান্নার সময় তাপের প্রভাবে খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এই কণাগুলোকেই বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। এগুলো আকারে এতটাই ছোট যে খালি চোখে প্রায় দেখাই যায়না ।
গবেষণায় দেখা গেছে, একটি মাত্র দৃশ্যমান স্ক্র্যাচ থেকেই কয়েক হাজার ক্ষুদ্র কণা আলাদা হয়ে যেতে পারে। এগুলোর অনেকগুলোই সরাসরি খাবারের মধ্যে চলে যায়, আবার কিছু বাতাসে ভেসে বা ধোঁয়ার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা বুঝতে পারিনা কিন্তু খাবারের সঙ্গে সেগুলো শরীরের ভেতরে ঢুকে যায়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক কেন এত ভয়ংকর?
মাইক্রোপ্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শরীর এগুলো সহজে বের করে দিতে পারে না। এগুলো খুব ছোট হওয়ায় পাচনতন্ত্র দিয়ে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহ, লিভার কিংবা অন্য অঙ্গেও পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক নিজে শুধু একটি প্লাস্টিক কণা না। এগুলো অনেক সময় বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক বহন করে থাকে। তাপের সংস্পর্শে এদের রাসায়নিক গঠন আরও সক্রিয় হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই কণাগুলো শরীরে জমতে থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, প্রদাহজনিত সমস্যা, এমনকি কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। যদিও এই ক্ষতির অনেকটাই ধীরে ধীরে হয় এবং তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যায় না, তবু বিজ্ঞানীরা একে ‘নীরব ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
কেন রান্নাঘরেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের সংস্পর্শ নতুন কিছু নয়। বোতল, প্যাকেট, আসবাবপত্র প্রায় সবখানেই প্লাস্টিকের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু রান্নাঘরের ঝুঁকিটি আলাদা, কারণ এখানে তাপ জড়িত। উচ্চ তাপে নন-স্টিক আবরণ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কণা ছাড়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে যখন প্যান খালি অবস্থায় চুলায় বসানো হয় বা খুব বেশি তাপে রান্না করা হয়। অথবা পুরোনো বা বহুবার স্ক্র্যাচ পড়া প্যান ব্যবহার করা হয়। তখন মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ানোর সম্ভাবনা কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
কেন বিষয়টি এতদিন আমাদের গুরুত্বের বাহিরে ছিল?
নন-স্টিক প্যানের সুবিধাগুলো এতটাই চোখে পড়ার মতো যে ঝুঁকিগুলো দীর্ঘদিন আড়ালেই থেকে গেছে। তাছাড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক এমন কিছু নয় যা আমরা দেখতে পাই বা খাওয়ার সময় বুঝতে পারি বা অনুভব করতে পারি। এর না আছে কোনো গন্ধ আর না আছে কোনো স্বাদ। তাই সন্দেহেরও অবকাশ নেই। আরেকটি বড় কারণ হলো, ক্ষতিটা তাৎক্ষণিক হয় না। কেউ নন-স্টিক প্যানে রান্না করে সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই কণাগুলো শরীরে ঢুকতে থাকলে কী হতে পারে, সেই প্রশ্নটাই আজ বিজ্ঞানীদের চিন্তার কেন্দ্রে।
সব নন-স্টিক প্যান কি সমান ঝুঁকিপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ও ভালো মানের নন-স্টিক প্যান তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ, যতক্ষণ না তাতে আঁচড় পড়ে। সমস্যা শুরু হয় পুরোনো, ক্ষতিগ্রস্ত প্যান থেকে। যেসব প্যানে আবরণ উঠে যেতে দেখা যায়, রং ফ্যাকাশে বা দাগযুক্ত হয়ে গেছে এবং একাধিক দৃশ্যমান স্ক্র্যাচ রয়েছে, সেগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
তাহলে কি নন-স্টিক প্যান ব্যবহার বন্ধ করা উচিত?
এখানেই উঠে আসে বাস্তব প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত হয়ে সব নন-স্টিক প্যান ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সচেতন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
কিছু সতর্কতা মানলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।সেগুলো হলো -
⇨ ধাতব চামচ বা খুন্তির বদলে কাঠ বা সিলিকনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা
⇨ প্যানের ভেতর শক্ত স্ক্রাবার দিয়ে ঘষা এড়িয়ে চলা
⇨ খুব বেশি তাপে রান্না না করা।
⇨ স্ক্র্যাচ পড়া প্যান দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, প্যানটি আগের মতো নিরাপদ নেই মনে হলে, সেটি বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া।
বিকল্প কী হতে পারে?
অনেকে এখন বিকল্প হিসেবে ঢালাই লোহার প্যান, স্টিল বা সিরামিক কোটেড প্যানের দিকে ঝুঁকছেন। এগুলোরও নিজস্ব ব্যবহারবিধি ও সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ানোর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হয়। তবে যেকোনো পাত্রই হোক, সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রান্নাঘরের নিরাপত্তা কোনো একক পণ্যের ওপর নির্ভর করে না, এটি নির্ভর করে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর।
নন-স্টিক প্যান আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই কিন্তু সেই সুবিধার সঙ্গে যদি অজান্তেই আমরা প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শরীরে ঢুকিয়ে দিই, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই,এই সহজতার দাম কতটা চড়া? একটি ছোট স্ক্র্যাচ, যা আমরা এতদিন তুচ্ছ বলে এড়িয়ে গেছি, সেটিই হয়তো হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির দরজা। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা। রান্নাঘরে চোখে না দেখা বিপদগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এখন আর বিলাসিতা নয়,এটি সময়ের দাবি।
নন-স্টিক প্যান কী দিয়ে তৈরি?
নন-স্টিক প্যানের ভেতরের কালো বা গাঢ় আবরণটি সাধারণত এক ধরনের কৃত্রিম রাসায়নিক আবরণ, যা খাবারকে পৃষ্ঠে আটকে থাকতে দেয় না। এই আবরণটি মূলত প্লাস্টিকজাত উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে, যা অত্যন্ত পাতলা স্তরে ধাতব প্যানের ওপর বসানো হয়। সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন এই আবরণটি অক্ষত থাকে না। দৈনন্দিন ব্যবহারে ধাতব খুন্তি, চামচ, কাঁটা বা শক্ত স্ক্রাবার দিয়ে ঘষলে নন-স্টিকের ওপর সূক্ষ্ম আঁচড় পড়ে। অনেক সময় আমরা সেগুলো তেমন গুরুত্বই দিই না। কারণ, প্যান তখনও ব্যবহারযোগ্যই মনে হয়। কিন্তু এই ছোট আঁচড়ই হতে পারে বিপদের সূচনা!
একটি স্ক্র্যাচ কীভাবে হাজার হাজার কণার উৎস হয়?
নন-স্টিক আবরণটি একটানা মসৃণ স্তর হলেও, আঁচড় পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্তর ভেঙে যায়। ভাঙা অংশ থেকে অতি সূক্ষ্ম কণা আলাদা হয়ে যায়।সেগুলো রান্নার সময় তাপের প্রভাবে খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। এই কণাগুলোকেই বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। এগুলো আকারে এতটাই ছোট যে খালি চোখে প্রায় দেখাই যায়না ।
গবেষণায় দেখা গেছে, একটি মাত্র দৃশ্যমান স্ক্র্যাচ থেকেই কয়েক হাজার ক্ষুদ্র কণা আলাদা হয়ে যেতে পারে। এগুলোর অনেকগুলোই সরাসরি খাবারের মধ্যে চলে যায়, আবার কিছু বাতাসে ভেসে বা ধোঁয়ার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা বুঝতে পারিনা কিন্তু খাবারের সঙ্গে সেগুলো শরীরের ভেতরে ঢুকে যায়।
মাইক্রোপ্লাস্টিক কেন এত ভয়ংকর?
মাইক্রোপ্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো শরীর এগুলো সহজে বের করে দিতে পারে না। এগুলো খুব ছোট হওয়ায় পাচনতন্ত্র দিয়ে প্রবেশ করে রক্তপ্রবাহ, লিভার কিংবা অন্য অঙ্গেও পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক নিজে শুধু একটি প্লাস্টিক কণা না। এগুলো অনেক সময় বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক বহন করে থাকে। তাপের সংস্পর্শে এদের রাসায়নিক গঠন আরও সক্রিয় হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই কণাগুলো শরীরে জমতে থাকলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, প্রদাহজনিত সমস্যা, এমনকি কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। যদিও এই ক্ষতির অনেকটাই ধীরে ধীরে হয় এবং তাৎক্ষণিক লক্ষণ দেখা যায় না, তবু বিজ্ঞানীরা একে ‘নীরব ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন।
কেন রান্নাঘরেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্লাস্টিকের সংস্পর্শ নতুন কিছু নয়। বোতল, প্যাকেট, আসবাবপত্র প্রায় সবখানেই প্লাস্টিকের ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু রান্নাঘরের ঝুঁকিটি আলাদা, কারণ এখানে তাপ জড়িত। উচ্চ তাপে নন-স্টিক আবরণ আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কণা ছাড়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। বিশেষ করে যখন প্যান খালি অবস্থায় চুলায় বসানো হয় বা খুব বেশি তাপে রান্না করা হয়। অথবা পুরোনো বা বহুবার স্ক্র্যাচ পড়া প্যান ব্যবহার করা হয়। তখন মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ানোর সম্ভাবনা কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
কেন বিষয়টি এতদিন আমাদের গুরুত্বের বাহিরে ছিল?
নন-স্টিক প্যানের সুবিধাগুলো এতটাই চোখে পড়ার মতো যে ঝুঁকিগুলো দীর্ঘদিন আড়ালেই থেকে গেছে। তাছাড়া মাইক্রোপ্লাস্টিক এমন কিছু নয় যা আমরা দেখতে পাই বা খাওয়ার সময় বুঝতে পারি বা অনুভব করতে পারি। এর না আছে কোনো গন্ধ আর না আছে কোনো স্বাদ। তাই সন্দেহেরও অবকাশ নেই। আরেকটি বড় কারণ হলো, ক্ষতিটা তাৎক্ষণিক হয় না। কেউ নন-স্টিক প্যানে রান্না করে সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই কণাগুলো শরীরে ঢুকতে থাকলে কী হতে পারে, সেই প্রশ্নটাই আজ বিজ্ঞানীদের চিন্তার কেন্দ্রে।
সব নন-স্টিক প্যান কি সমান ঝুঁকিপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন ও ভালো মানের নন-স্টিক প্যান তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ, যতক্ষণ না তাতে আঁচড় পড়ে। সমস্যা শুরু হয় পুরোনো, ক্ষতিগ্রস্ত প্যান থেকে। যেসব প্যানে আবরণ উঠে যেতে দেখা যায়, রং ফ্যাকাশে বা দাগযুক্ত হয়ে গেছে এবং একাধিক দৃশ্যমান স্ক্র্যাচ রয়েছে, সেগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
তাহলে কি নন-স্টিক প্যান ব্যবহার বন্ধ করা উচিত?
এখানেই উঠে আসে বাস্তব প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত হয়ে সব নন-স্টিক প্যান ফেলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে সচেতন ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
কিছু সতর্কতা মানলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।সেগুলো হলো -
⇨ ধাতব চামচ বা খুন্তির বদলে কাঠ বা সিলিকনের সরঞ্জাম ব্যবহার করা
⇨ প্যানের ভেতর শক্ত স্ক্রাবার দিয়ে ঘষা এড়িয়ে চলা
⇨ খুব বেশি তাপে রান্না না করা।
⇨ স্ক্র্যাচ পড়া প্যান দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, প্যানটি আগের মতো নিরাপদ নেই মনে হলে, সেটি বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া।
বিকল্প কী হতে পারে?
অনেকে এখন বিকল্প হিসেবে ঢালাই লোহার প্যান, স্টিল বা সিরামিক কোটেড প্যানের দিকে ঝুঁকছেন। এগুলোরও নিজস্ব ব্যবহারবিধি ও সীমাবদ্ধতা আছে, কিন্তু মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ানোর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম বলে মনে করা হয়। তবে যেকোনো পাত্রই হোক, সঠিক ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। রান্নাঘরের নিরাপত্তা কোনো একক পণ্যের ওপর নির্ভর করে না, এটি নির্ভর করে আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর।
নন-স্টিক প্যান আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই কিন্তু সেই সুবিধার সঙ্গে যদি অজান্তেই আমরা প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শরীরে ঢুকিয়ে দিই, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই,এই সহজতার দাম কতটা চড়া? একটি ছোট স্ক্র্যাচ, যা আমরা এতদিন তুচ্ছ বলে এড়িয়ে গেছি, সেটিই হয়তো হয়ে উঠতে পারে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির দরজা। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা। রান্নাঘরে চোখে না দেখা বিপদগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া এখন আর বিলাসিতা নয়,এটি সময়ের দাবি।