{{ news.section.title }}
অ্যান্টি-এজিং থেকে ডায়াবেটিস কন্ট্রোল, সবই পারে পেয়ারা! বিস্তারিত....
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
বাংলার ঘরে ঘরে পরিচিত একটি ফল, পেয়ারা। দেখতে খুবই সাধারণ, দামেও নাগালের মধ্যে, কিন্তু পুষ্টিগুণের দিক থেকে এই ফলটি যে কতটা অসাধারণ, তা অনেকেই ভালোভাবে জানেন না। পেয়ারা মূলত মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার ফল।কিন্তু ১৭শ শতাব্দী থেকে এটি এশিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে এর ১০০টিরও বেশি প্রজাতি রয়েছে। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, পেয়ারা একটি প্রাকৃতিক পুষ্টি-প্যাকেজ। এতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ, হজম শক্তি বৃদ্ধি, হৃদ্স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শরীরের সামগ্রিক ভারসাম্য বজায় রাখার উপাদান।
পেয়ারার ভেতরে কী আছে ?
পেয়ারার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর পুষ্টি ঘনত্ব। অল্প পরিমাণ পেয়ারায় এমন কিছু উপাদান থাকে, যা দৈনিক প্রয়োজনের বড় অংশ পূরণ করতে সক্ষম।
পেয়ারায় রয়েছে-
⇨ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি।
⇨ পর্যাপ্ত ডায়েটারি ফাইবার।
⇨ ভিটামিন এ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।
⇨ পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম।
⇨ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
⇨ প্রাকৃতিক শর্করা, যা ধীরে শক্তি দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা দৈনিক ভিটামিন সি-এর চাহিদার চেয়েও বেশি সরবরাহ করতে পারে। এ কারণে পেয়ারাকে বলা হয় ইমিউনিটি বুস্টার ফল।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পেয়ারার ভূমিকা:
পেয়ারার সবচেয়ে আলোচিত পুষ্টিগুণ হলো এর ভিটামিন সি-এর আধিক্য। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে, শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়ায় এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে-
⇨ সর্দি-কাশি ও মৌসুমি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
⇨ শরীর দ্রুত ক্ষত সারাতে পারে।
⇨ কোষের ক্ষয় কম হয়।
⇨ ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ায় এটি শরীরের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকিও কমে।
হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যে পেয়ারা:
পেয়ারার আরেকটি বড় শক্তি হলো ডায়েটারি ফাইবার। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। পেয়ারার ফাইবার-
⇨ কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
⇨ অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।
⇨ হজমজনিত গ্যাস ও অস্বস্তি কমায়।
বিশেষ করে পেয়ারার বীজ ও খোসার কাছাকাছি অংশে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই অতিরিক্ত পরিশোধন বা রস করে খাওয়ার বদলে পুরো ফল হিসেবে খেলে এর উপকারিতা বেশি পাওয়া যায়।
হৃদ্স্বাস্থ্যে পেয়ারার প্রভাব:
হৃদ্রোগ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যায় রুপান্তরিত হয়েছে। পেয়ারা এই ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পেয়ারায় থাকা-
⇨ পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
⇨ ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
⇨ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ধমনীতে প্রদাহ কমায়।
নিয়মিত পেয়ারা খাওয়া রক্তনালির নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে পেয়ারা!
অনেকে মনে করেন ফল মানেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু পেয়ারার ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম। পেয়ারার গ্লাইসেমিক সূচক তুলনামূলকভাবে কম, অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায় না। এর ফাইবার শর্করার শোষণ ধীর করে দেয়, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
এই কারণে পেয়ারা-
⇨ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।
⇨ হঠাৎ শর্করা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়।
তবে পরিমাণের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
ত্বক ও চুলের জন্য পেয়ারার উপকারিতা:
পেয়ারার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিনসমূহ ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ত্বকের ক্ষেত্রে-
⇨ ত্বকের কোষের ক্ষয় কমায়।
⇨ বলিরেখা ও অকাল বার্ধক্যের গতি ধীর করে।
⇨ ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে
চুলের ক্ষেত্রে-
⇨ চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে।
⇨ চুল পড়া কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এই কারণেই অনেক প্রাকৃতিক ত্বক ও চুলের যত্নে পেয়ারা ও পেয়ারার পাতা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
চোখের স্বাস্থ্যে পেয়ারা:
পেয়ারায় থাকা ভিটামিন এ ও ক্যারোটিনয়েড চোখের জন্য উপকারী। এগুলো চোখের রেটিনার স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার ফলে-
⇨ চোখের শুষ্কতা কমাতে পারে।
⇨ বয়সজনিত দৃষ্টিক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে পেয়ারার ভূমিকা:
যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাঁদের জন্য পেয়ারা একটি ভালো পছন্দ। কারণ ক্যালরি কম, ফাইবার বেশি, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় পেয়ারা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
পেয়ারার পাতা ও তার গুরুত্ব:
শুধু ফল নয়, পেয়ারার পাতায়ও রয়েছে পুষ্টিগুণ। ঐতিহ্যগতভাবে পেয়ারার পাতা বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহার হয়ে আসছে। পেয়ারার পাতায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং প্রদাহনাশক গুণ। এ কারণে পেয়ারার পাতা কখনো কখনো হজম সমস্যা, মুখের স্বাস্থ্য এবং ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয়।
কখন এবং কীভাবে পেয়ারা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী?
পেয়ারা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখাটা জরুরি। যেমন-
⇨ খুব কাঁচা পেয়ারা বেশি খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে।
⇨ খোসা ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত।
⇨ অতিরিক্ত লবণ-মরিচ দিয়ে খেলে পুষ্টিগুণের উপকারিতা কমে যেতে পারে।
⇨ সকালের দিকে বা হালকা নাশতার সময় পেয়ারা খাওয়া শরীরের জন্য বেশি উপকারী বলে ধরা হয়।
পেয়ারা নিয়ে কিছু ভুল ধারণাও রয়েছে আমাদের সমাজে!
অনেকে মনে করেন পেয়ারা খেলে ঠান্ডা লাগে বা পেট খারাপ হয়। বাস্তবে বিষয়টি নির্ভর করে পরিমাণ ও শরীরের অবস্থার ওপর। সঠিক পরিমাণে এবং পরিপক্ব অবস্থায় পেয়ারা খেলে সাধারণত এসব সমস্যা দেখা যায় না।
স্বাস্থ্যকর হতে হলেই যে দামি বা বিদেশি খাবারের প্রয়োজন নেই, তা পেয়ারা প্রমান করে। আমাদের আশপাশেই রয়েছে এমন কিছু ফল, যা পুষ্টিতে ভরপুর, সহজলভ্য এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হজমশক্তি, হৃদ্স্বাস্থ্য, ত্বক, চুল এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সব ক্ষেত্রেই পেয়ারা চুপচাপ কাজ করে যায়। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই সাধারণ ফলটিকে গুরুত্ব দিলে দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মন দুটোই উপকৃত হয়। ছোট একটি পেয়ারা, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে আছে সুস্থ জীবনের বিশাল এক সম্ভাবনা।
পেয়ারার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর পুষ্টি ঘনত্ব। অল্প পরিমাণ পেয়ারায় এমন কিছু উপাদান থাকে, যা দৈনিক প্রয়োজনের বড় অংশ পূরণ করতে সক্ষম।
পেয়ারায় রয়েছে-
⇨ প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি।
⇨ পর্যাপ্ত ডায়েটারি ফাইবার।
⇨ ভিটামিন এ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।
⇨ পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম।
⇨ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
⇨ প্রাকৃতিক শর্করা, যা ধীরে শক্তি দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা দৈনিক ভিটামিন সি-এর চাহিদার চেয়েও বেশি সরবরাহ করতে পারে। এ কারণে পেয়ারাকে বলা হয় ইমিউনিটি বুস্টার ফল।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পেয়ারার ভূমিকা:
পেয়ারার সবচেয়ে আলোচিত পুষ্টিগুণ হলো এর ভিটামিন সি-এর আধিক্য। ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে, শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়ায় এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। নিয়মিত পেয়ারা খেলে-
⇨ সর্দি-কাশি ও মৌসুমি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
⇨ শরীর দ্রুত ক্ষত সারাতে পারে।
⇨ কোষের ক্ষয় কম হয়।
⇨ ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ায় এটি শরীরের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকিও কমে।
হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্যে পেয়ারা:
পেয়ারার আরেকটি বড় শক্তি হলো ডায়েটারি ফাইবার। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে। পেয়ারার ফাইবার-
⇨ কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
⇨ অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে।
⇨ হজমজনিত গ্যাস ও অস্বস্তি কমায়।
বিশেষ করে পেয়ারার বীজ ও খোসার কাছাকাছি অংশে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই অতিরিক্ত পরিশোধন বা রস করে খাওয়ার বদলে পুরো ফল হিসেবে খেলে এর উপকারিতা বেশি পাওয়া যায়।
হৃদ্স্বাস্থ্যে পেয়ারার প্রভাব:
হৃদ্রোগ এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যায় রুপান্তরিত হয়েছে। পেয়ারা এই ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পেয়ারায় থাকা-
⇨ পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
⇨ ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে।
⇨ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ধমনীতে প্রদাহ কমায়।
নিয়মিত পেয়ারা খাওয়া রক্তনালির নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে পেয়ারা!
অনেকে মনে করেন ফল মানেই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু পেয়ারার ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম। পেয়ারার গ্লাইসেমিক সূচক তুলনামূলকভাবে কম, অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায় না। এর ফাইবার শর্করার শোষণ ধীর করে দেয়, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল থাকে।
এই কারণে পেয়ারা-
⇨ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।
⇨ হঠাৎ শর্করা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়।
তবে পরিমাণের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
ত্বক ও চুলের জন্য পেয়ারার উপকারিতা:
পেয়ারার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিনসমূহ ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ত্বকের ক্ষেত্রে-
⇨ ত্বকের কোষের ক্ষয় কমায়।
⇨ বলিরেখা ও অকাল বার্ধক্যের গতি ধীর করে।
⇨ ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে
চুলের ক্ষেত্রে-
⇨ চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে।
⇨ চুল পড়া কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
এই কারণেই অনেক প্রাকৃতিক ত্বক ও চুলের যত্নে পেয়ারা ও পেয়ারার পাতা ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
চোখের স্বাস্থ্যে পেয়ারা:
পেয়ারায় থাকা ভিটামিন এ ও ক্যারোটিনয়েড চোখের জন্য উপকারী। এগুলো চোখের রেটিনার স্বাস্থ্য রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার ফলে-
⇨ চোখের শুষ্কতা কমাতে পারে।
⇨ বয়সজনিত দৃষ্টিক্ষয়ের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে পেয়ারার ভূমিকা:
যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তাঁদের জন্য পেয়ারা একটি ভালো পছন্দ। কারণ ক্যালরি কম, ফাইবার বেশি, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি দেয়। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় পেয়ারা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
পেয়ারার পাতা ও তার গুরুত্ব:
শুধু ফল নয়, পেয়ারার পাতায়ও রয়েছে পুষ্টিগুণ। ঐতিহ্যগতভাবে পেয়ারার পাতা বিভিন্ন সমস্যায় ব্যবহার হয়ে আসছে। পেয়ারার পাতায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং প্রদাহনাশক গুণ। এ কারণে পেয়ারার পাতা কখনো কখনো হজম সমস্যা, মুখের স্বাস্থ্য এবং ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয়।
কখন এবং কীভাবে পেয়ারা খাওয়া সবচেয়ে উপকারী?
পেয়ারা খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখাটা জরুরি। যেমন-
⇨ খুব কাঁচা পেয়ারা বেশি খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে।
⇨ খোসা ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া উচিত।
⇨ অতিরিক্ত লবণ-মরিচ দিয়ে খেলে পুষ্টিগুণের উপকারিতা কমে যেতে পারে।
⇨ সকালের দিকে বা হালকা নাশতার সময় পেয়ারা খাওয়া শরীরের জন্য বেশি উপকারী বলে ধরা হয়।
পেয়ারা নিয়ে কিছু ভুল ধারণাও রয়েছে আমাদের সমাজে!
অনেকে মনে করেন পেয়ারা খেলে ঠান্ডা লাগে বা পেট খারাপ হয়। বাস্তবে বিষয়টি নির্ভর করে পরিমাণ ও শরীরের অবস্থার ওপর। সঠিক পরিমাণে এবং পরিপক্ব অবস্থায় পেয়ারা খেলে সাধারণত এসব সমস্যা দেখা যায় না।
স্বাস্থ্যকর হতে হলেই যে দামি বা বিদেশি খাবারের প্রয়োজন নেই, তা পেয়ারা প্রমান করে। আমাদের আশপাশেই রয়েছে এমন কিছু ফল, যা পুষ্টিতে ভরপুর, সহজলভ্য এবং বৈজ্ঞানিকভাবেও উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে শুরু করে হজমশক্তি, হৃদ্স্বাস্থ্য, ত্বক, চুল এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সব ক্ষেত্রেই পেয়ারা চুপচাপ কাজ করে যায়। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই সাধারণ ফলটিকে গুরুত্ব দিলে দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মন দুটোই উপকৃত হয়। ছোট একটি পেয়ারা, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে আছে সুস্থ জীবনের বিশাল এক সম্ভাবনা।