{{ news.section.title }}
চাপ, দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা..! টিকে থাকার আসল শক্তি কোথায়?
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
আমাদের জীবন খুবই ছোট্ট এবং খুবই গভীর। এই গভীর, ছোট্ট জীবনটা কখনোই স্থির নয়। প্রতিদিনই বদলায় পরিস্থিতি, সম্পর্ক, কাজের ধরন, সামাজিক বাস্তবতা। কখনো এই পরিবর্তন আসে ধীরে, কখনো বা হঠাৎ ঝড়ের মতো। এই পরিবর্তনের মুখে কেউ ভেঙে পড়ে, কেউ বা আবার ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে যায়। পার্থক্যটা তৈরি করে একটি গভীর কিন্তু প্রায় অদৃশ্য মানসিক শক্তি, মনস্তাত্ত্বিক নমনীয়তা (Psychological Flexibility) , অর্থাৎ মানিয়ে নেওয়ার মানসিক সক্ষমতা। আধুনিক মনোবিজ্ঞানে এই ধারণাটি আজ শুধু আলোচনার বিষয়ই নয়, এটি মানসিক সুস্থতা, কর্মক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের অন্যতম মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, এই মানসিক নমনীয়তা আসলে কী, কেন এটি এত জরুরি, আর না থাকলে কী ধরনের সংকট তৈরি হয়?
মনস্তাত্ত্বিক নমনীয়তা (Psychological Flexibility) কী?
মনস্তাত্ত্বিক নমনীয়তা (Psychological Flexibility) মানে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের চিন্তা, আবেগ ও আচরণকে সামঞ্জস্য করার ক্ষমতা। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ সব কিছু চুপচাপ মেনে নিবে বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে না। বরং এর অর্থ হলো বাস্তবতাকে অস্বীকার না করা, অস্বস্তিকর অনুভূতির মধ্যেও সচেতন থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবোধ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। এটি এক ধরনের মানসিক ভারসাম্য, যেখানে মানুষ আবেগের দাস না হয়ে আবেগকে বুঝে নিয়ে কাজ করতে পারে। জীবনের চাপপূর্ণ ঘটনাগুলির সম্মুখীন হলে মানসিক নমনীয়তা নেতিবাচক অনুভূতির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক এবং ইতিবাচক মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। অর্থাৎ, মনস্তাত্ত্বিক নমনীয়তা চাপ এবং নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক ফলাফলের মধ্যে একটি বাফার হিসাবে কাজ করে । যারা মানসিকভাবে বেশি নমনীয়, তারা সাধারণত জীবনের চাপের মুহূর্তগুলোতে হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক কষ্ট অন্যদের তুলনায় কম অনুভব করেন। মনস্তাত্ত্বিক নমনীয়তার ভিত্তি হলো বোঝতে পারা,যে আমরা যে জিনিসগুলিকে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে করি সেগুলি বেশিরভাগ সময়ই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যাঁদের মানসিক নমনীয়তা কম, তাঁদের চিন্তার ধরন সাধারণত কঠোর ধরনের হয়ে থাকে। তাঁরা যেকোনো ব্যাপারে এভাবে ভাবেন- "এটা এমনই হওয়া উচিত”, “আমি এটা সহ্য করতে পারছি না”, “এই পরিস্থিতি বদলানো অসম্ভব”।
কিন্তু এই ধরনের চিন্তা মানুষকে আটকে দেয়।অন্যদিকে, মানসিকভাবে নমনীয় মানুষ বলে থাকেন- “এটা কঠিন, কিন্তু আমি শিখতে পারি”, “আমার অস্বস্তি আছে, তবু আমি এগোতে পারি”, “আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলেও নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারি”। এই পার্থক্যই মানসিক স্থিতির ভিত্তি গড়ে তোলে।
কর্মক্ষেত্র, প্রযুক্তি, সামাজিক সম্পর্ক সবদিক থেকেই আজকের জীবন দ্রুত বদলাচ্ছে। এক দশক আগের দক্ষতা বা মানসিক প্রস্তুতি অনেক ক্ষেত্রেই এখন আর যথেষ্ট নয়। মানসিক নমনীয়তা না থাকলে পরিবর্তন মানেই ভয়, অনিশ্চয়তা মানেই উদ্বেগ আর ব্যর্থতা মানেই নিজেকে অযোগ্য ভাবা। মানসিক নমনীয়তা, পরিবর্তনকে শত্রু না ভেবে বাস্তবতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখায়।
মানসিক চাপ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। কিন্তু সবাই সমানভাবে চাপ সামলাতে পারে না। গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কম মানসিক নমনীয়তা থাকলে চাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়,
নেতিবাচক চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে, উদ্বেগ ও হতাশা গভীর হয়। অন্যদিকে, মানসিক নমনীয়তা থাকলে মানুষ চাপকে সমস্যা হিসেবে দেখলেও নিজেকে সমস্যা মনে করে না। সে বুঝতে পারে চাপ একটি অভিজ্ঞতা, পরিচয় নয়।
আবেগ এড়িয়ে যাওয়া নয়, গ্রহণ করাই কিন্তু শক্তি! একটি বড় ভুল ধারণা হলো, মানসিক শক্তি মানে আবেগ না অনুভব করা। বাস্তবে মানসিক নমনীয়তা (Psychological Flexibility)ঠিক উল্টো কথা বলে। দুঃখ, ভয় বা হতাশা অনুভব করা স্বাভাবিক। আবেগকে দমন করলে তা আরও শক্তিশালী হয় আর গ্রহণ করলে আবেগ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। মানসিক নমনীয়তা মানুষকে আবেগের সঙ্গে যুদ্ধ করতে নয়, আবেগকে সঙ্গে নিয়ে চলতে শেখায়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানসিক নমনীয়তার প্রভাব-
কঠিন সিদ্ধান্তের সময় মানুষ প্রায়ই ভয় বা আবেগে আটকে যায়। মানসিক নমনীয়তা (Psychological Flexibility) এখানে একটি ভারসাম্য তৈরি করে। এই ক্ষমতা থাকলে মানুষ তাৎক্ষণিক আরাম নয়, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। ভুল সিদ্ধান্তের ভয় থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনকি সিদ্ধান্তের ফল মেনে নিয়ে শেখার মানসিকতাও রাখতে পারে। ফলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সে সহজেই নিজের নিয়ন্ত্রণ হারায় না।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কেও মানসিক নমনীয়তা-
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কেও মানসিক নমনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষমতা না থাকলে মতবিরোধ মানেই সম্পর্ক ভাঙন, সমালোচনা মানেই আত্মসম্মানে আঘাত, আর পরিবর্তন মানেই দূরত্ব হয়ে যেত। মানসিকভাবে নমনীয় মানুষ জানে, সম্পর্ক মানেই সব সময় একমত হওয়া নয়, বরং পার্থক্যের মধ্যেও সংযোগ বজায় রাখা।
কর্মক্ষেত্রে মানসিক নমনীয়তা-
কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন, চাপ ও অনিশ্চয়তা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। মানসিক নমনীয়তা কর্মজীবনে নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করে, ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগে রূপ দেয় এবং কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ বাড়ায়। এ কারণে আধুনিক কর্মসংস্কৃতিতে এই মানসিক ক্ষমতাকে সফট স্কিল নয়, বরং কোর স্কিল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Psychological Flexibility কি শেখা যায়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ একটি প্রশ্ন যা এখন আপনার মাথায়ও হয়তো ঘর পাক খাচ্ছে! আর তা হলো, এই মানসিক শক্তি কি জন্মগত, নাকি অর্জনযোগ্য?
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর উত্তর হলো, এটি অভ্যাসের ফল। সচেতন অনুশীলনের মাধ্যমে যেকেউ এই ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে -
⇨ নিজের চিন্তা ও আবেগ লক্ষ্য করার অভ্যাস
⇨ সব চিন্তাকে সত্য ধরে না নেওয়া
⇨ মূল্যবোধভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া
এগুলো ধীরে ধীরে মানসিক নমনীয়তা তৈরি করে।
পরিবর্তন থামবে না, অনিশ্চয়তা কমবে না। কিন্তু মানিয়ে নেওয়ার মানসিক শক্তি থাকলে মানুষ পরিস্থিতির শিকার নয়, বরং সচেতন অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠে। আজকের অস্থির ও দ্রুত বদলে যাওয়া বিশ্বে মানসিক নমনীয়তা বা Psychological Flexibility তাই কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানসিক সুস্থতা, স্থায়িত্ব ও অর্থপূর্ণ জীবনের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।
মনস্তাত্ত্বিক নমনীয়তা (Psychological Flexibility) মানে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের চিন্তা, আবেগ ও আচরণকে সামঞ্জস্য করার ক্ষমতা। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ সব কিছু চুপচাপ মেনে নিবে বা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে না। বরং এর অর্থ হলো বাস্তবতাকে অস্বীকার না করা, অস্বস্তিকর অনুভূতির মধ্যেও সচেতন থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবোধ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। এটি এক ধরনের মানসিক ভারসাম্য, যেখানে মানুষ আবেগের দাস না হয়ে আবেগকে বুঝে নিয়ে কাজ করতে পারে। জীবনের চাপপূর্ণ ঘটনাগুলির সম্মুখীন হলে মানসিক নমনীয়তা নেতিবাচক অনুভূতির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক এবং ইতিবাচক মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। অর্থাৎ, মনস্তাত্ত্বিক নমনীয়তা চাপ এবং নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক ফলাফলের মধ্যে একটি বাফার হিসাবে কাজ করে । যারা মানসিকভাবে বেশি নমনীয়, তারা সাধারণত জীবনের চাপের মুহূর্তগুলোতে হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক কষ্ট অন্যদের তুলনায় কম অনুভব করেন। মনস্তাত্ত্বিক নমনীয়তার ভিত্তি হলো বোঝতে পারা,যে আমরা যে জিনিসগুলিকে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং মনে করি সেগুলি বেশিরভাগ সময়ই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যাঁদের মানসিক নমনীয়তা কম, তাঁদের চিন্তার ধরন সাধারণত কঠোর ধরনের হয়ে থাকে। তাঁরা যেকোনো ব্যাপারে এভাবে ভাবেন- "এটা এমনই হওয়া উচিত”, “আমি এটা সহ্য করতে পারছি না”, “এই পরিস্থিতি বদলানো অসম্ভব”।
কিন্তু এই ধরনের চিন্তা মানুষকে আটকে দেয়।অন্যদিকে, মানসিকভাবে নমনীয় মানুষ বলে থাকেন- “এটা কঠিন, কিন্তু আমি শিখতে পারি”, “আমার অস্বস্তি আছে, তবু আমি এগোতে পারি”, “আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলেও নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারি”। এই পার্থক্যই মানসিক স্থিতির ভিত্তি গড়ে তোলে।
কর্মক্ষেত্র, প্রযুক্তি, সামাজিক সম্পর্ক সবদিক থেকেই আজকের জীবন দ্রুত বদলাচ্ছে। এক দশক আগের দক্ষতা বা মানসিক প্রস্তুতি অনেক ক্ষেত্রেই এখন আর যথেষ্ট নয়। মানসিক নমনীয়তা না থাকলে পরিবর্তন মানেই ভয়, অনিশ্চয়তা মানেই উদ্বেগ আর ব্যর্থতা মানেই নিজেকে অযোগ্য ভাবা। মানসিক নমনীয়তা, পরিবর্তনকে শত্রু না ভেবে বাস্তবতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে শেখায়।
মানসিক চাপ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। কিন্তু সবাই সমানভাবে চাপ সামলাতে পারে না। গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কম মানসিক নমনীয়তা থাকলে চাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়,
নেতিবাচক চিন্তা ঘুরপাক খেতে থাকে, উদ্বেগ ও হতাশা গভীর হয়। অন্যদিকে, মানসিক নমনীয়তা থাকলে মানুষ চাপকে সমস্যা হিসেবে দেখলেও নিজেকে সমস্যা মনে করে না। সে বুঝতে পারে চাপ একটি অভিজ্ঞতা, পরিচয় নয়।
আবেগ এড়িয়ে যাওয়া নয়, গ্রহণ করাই কিন্তু শক্তি! একটি বড় ভুল ধারণা হলো, মানসিক শক্তি মানে আবেগ না অনুভব করা। বাস্তবে মানসিক নমনীয়তা (Psychological Flexibility)ঠিক উল্টো কথা বলে। দুঃখ, ভয় বা হতাশা অনুভব করা স্বাভাবিক। আবেগকে দমন করলে তা আরও শক্তিশালী হয় আর গ্রহণ করলে আবেগ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। মানসিক নমনীয়তা মানুষকে আবেগের সঙ্গে যুদ্ধ করতে নয়, আবেগকে সঙ্গে নিয়ে চলতে শেখায়।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে মানসিক নমনীয়তার প্রভাব-
কঠিন সিদ্ধান্তের সময় মানুষ প্রায়ই ভয় বা আবেগে আটকে যায়। মানসিক নমনীয়তা (Psychological Flexibility) এখানে একটি ভারসাম্য তৈরি করে। এই ক্ষমতা থাকলে মানুষ তাৎক্ষণিক আরাম নয়, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেয়। ভুল সিদ্ধান্তের ভয় থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এমনকি সিদ্ধান্তের ফল মেনে নিয়ে শেখার মানসিকতাও রাখতে পারে। ফলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সে সহজেই নিজের নিয়ন্ত্রণ হারায় না।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কেও মানসিক নমনীয়তা-
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্কেও মানসিক নমনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষমতা না থাকলে মতবিরোধ মানেই সম্পর্ক ভাঙন, সমালোচনা মানেই আত্মসম্মানে আঘাত, আর পরিবর্তন মানেই দূরত্ব হয়ে যেত। মানসিকভাবে নমনীয় মানুষ জানে, সম্পর্ক মানেই সব সময় একমত হওয়া নয়, বরং পার্থক্যের মধ্যেও সংযোগ বজায় রাখা।
কর্মক্ষেত্রে মানসিক নমনীয়তা-
কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তন, চাপ ও অনিশ্চয়তা এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। মানসিক নমনীয়তা কর্মজীবনে নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করে, ব্যর্থতাকে শেখার সুযোগে রূপ দেয় এবং কর্মদক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ বাড়ায়। এ কারণে আধুনিক কর্মসংস্কৃতিতে এই মানসিক ক্ষমতাকে সফট স্কিল নয়, বরং কোর স্কিল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Psychological Flexibility কি শেখা যায়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ একটি প্রশ্ন যা এখন আপনার মাথায়ও হয়তো ঘর পাক খাচ্ছে! আর তা হলো, এই মানসিক শক্তি কি জন্মগত, নাকি অর্জনযোগ্য?
মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর উত্তর হলো, এটি অভ্যাসের ফল। সচেতন অনুশীলনের মাধ্যমে যেকেউ এই ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে -
⇨ নিজের চিন্তা ও আবেগ লক্ষ্য করার অভ্যাস
⇨ সব চিন্তাকে সত্য ধরে না নেওয়া
⇨ মূল্যবোধভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া
এগুলো ধীরে ধীরে মানসিক নমনীয়তা তৈরি করে।
পরিবর্তন থামবে না, অনিশ্চয়তা কমবে না। কিন্তু মানিয়ে নেওয়ার মানসিক শক্তি থাকলে মানুষ পরিস্থিতির শিকার নয়, বরং সচেতন অংশগ্রহণকারী হয়ে ওঠে। আজকের অস্থির ও দ্রুত বদলে যাওয়া বিশ্বে মানসিক নমনীয়তা বা Psychological Flexibility তাই কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানসিক সুস্থতা, স্থায়িত্ব ও অর্থপূর্ণ জীবনের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি।