ইনডোর প্ল্যান্ট কেয়ার: শীতকালীন সতর্কতা !

ইনডোর প্ল্যান্ট কেয়ার: শীতকালীন সতর্কতা !
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

রান্নাঘরের একটা কিনারায় বা টেবিলের উপর রাখা গাছের ছোট্ট চারাটি সৌন্দর্য এবং রুচিশীলতারই প্রতীক। অনেকেই তাই শখ করে ঘরের ভেতর ছোট গাছের চারা রাখেন। সারা বছর এই গাছের যত্ন নিতে হয় না খুব একটা। তবে শীতকালে পরিবেশ-প্রকৃতি বদলে যায়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় ঘরের আর্দ্রতার বেশ পরিবর্তন হয়। ঘরের ভেতর টবে লাগানো গাছের বেঁচে থাকার জন্য শীতকালে বাড়তি যত্নের দরকার পড়ে।


শীতের আগমন মানেই  প্রকৃতির এক স্নিগ্ধ পরিবর্তন। কনকনে ঠান্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা আর শিশির ভেজা সকাল যেন সকলের মনেই এনে দেয় এক কোমলতা। আমাদের শরীর, মন এবং ত্বকের মতোই আমাদের প্রিয় প্ল্যান্টটিও চায় একটু বাড়তি যত্ন! যারা বাড়ির ভেতরে সবুজ ভালোবাসেন, তাদের জন্য শীত মানেই যেন নতুন এক চিন্তা, কীভাবে ইনডোর প্ল্যান্টকে এই ঠান্ডা, শুকনো বাতাস ও কম আলোতে সুস্থ রাখা যায়! অনেকেই মনে করেন, শুধু পানি দিলেই হবে। কিন্তু প্রকৃতির এই ধ্রুবতাগুলি মনে রাখলে শীতকালে গাছের জীবনধারার উপর বিরুপ প্রভাব পড়ে। শীতকাল ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য একটি সাবধানতার মরশুম। হঠাৎ ঠান্ডা, হিটার থেকে শুকনো বাতাস বা আলো কমে যাওয় গাছকে বিপদে ফেলে। তাই গাছের যত্ন কেবল পানির চাহিদা মিটানো নয়, পরিবেশের মাপ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়ও। 

গাছের যত্ন নেয়ার কথা উঠলে প্রথমেই আসে পানি দেয়ার ব্যাপারটা। শীতকালে ইনডোর প্ল্যান্টে একটু কম পানি দেয়াই উত্তম। আর পানি দিলেও যেন গাছের গোড়ায় পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যেসব গাছের পাতা মোটা বা মোমযুক্ত সেগুলোর তুলনায় পাতলা পাতার ও ঝোপালো গাছের পানি তুলনামূলক বেশি লাগে। তাই পরিমিত  পানি দেয়াই উত্তম। পাতার আগা খয়েরি ও গোড়ার অংশ হলুদ হয়ে গেলে বুঝতে হবে অতিরিক্ত পানি দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে টবের মাটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে।

তাপমাত্রা :

প্রতিটি ইনডোর প্ল্যান্টের জন্যই  একটি আদর্শ তাপমাত্রার সীমা থাকে। শীতকালে এই সীমা বজায় রাখা জরুরি।শীতের দিনে ঘরের বাইরে থেকে ঠাণ্ডা বাতাস ভেতরে আসে। যেখানে বেশি বাতাস আসে, সেখান থেকে গাছ সরিয়ে রাখুন।বদ্ধ জায়গায় গাছ  না রাখাই উত্তম। এতে গাছের বৃদ্ধি কমে, আবার ফাঙ্গাসও জন্ম নেয়।গাছের শিকড়, পাতা ও ডাল শীতের সঙ্গে জড়িত স্ট্রেসে ভেঙে যেতে পারে। তাপমাত্রা যদি খুব কম থাকে, তবে পাতার কোণা শুকিয়ে যায়, পাতা ঝরে পড়ে, এমনকি শিকড়ও নষ্ট হয়।

হিটিং সমস্যা :

শিতে গাছের রয়েছে হিটিং সমস্যাও। হিটার ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস খুব বেশি শুকনো হয়ে যায়। ফলে পাতার রন্ধ্রের মাধ্যমে পানি দ্রুত হারিয়ে যায়। বিজ্ঞানের তথ্যানুসারে , অধিকাংশ ইনডোর গাছ ১৮–২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা পছন্দ করে। শীতকালে  ঘরের তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে প্ল্যান্টের বৃদ্ধির হার কমে যায়।আবার অনেকেই ঠাণ্ডার কারণে মনে করেন, একটু উষ্ণ পানি দিলে বুঝি গাছের আরাম হবে। এতে উপকারের বদলে গাছের  শিকড়ের ক্ষতি হয়, এমনকি  মরেও যেতে পারে। তাই সব সময় রুম টেম্পারেচার পানি দেয়া উচিৎ ।

ধুলোবালি:

গাছের পাতায় ধুলাবালি জমতে দেয়া যাবে না। নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে গাছের পাতাগুলো মুছে দিতে হবে। বড় আর বেশি পাতাযুক্ত গাছ মোছামুছি অসুবিধা হলে, সপ্তাহে একবার বাথরুমে নিয়ে ধুয়ে দিতে পারেন। তবে বারবার গাছের জায়গা বদল না করাই ভালো। একই স্থানে থাকলে গাছের বৃদ্ধিতে সুবিধা হয়। 

আলো :

ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য আলো একটি শক্তিশালী শক্তি। আর শীতের দিনে সূর্যের সময়কাল থাকে কম।আলো কমে গেলে গাছের খাবার তৈরির ক্ষমতা কমে যায়,ফলে ফটোসিন্থেসিস কমে যায়। আবার লাইটের অভাবে পাতা পাতলা  বা এলোমেলো লম্বা হয়ে বেড়ে যায়। জানালার কাছে রাখলে কিছু আলো পাওয়া যায়, কিন্তু ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে রাখতে হবে।বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি প্রাকৃতিক আলো যথেষ্ট না হয়, তবে ফ্লোরোসেন্ট বা LED গ্রো লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে, যা গাছের হরেক ধরনের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ঠান্ডা বা গরম পানির সতর্কতা  :

শীতের সময়ে অনেকেই আবার পানি কমিয়ে দেয়, কিন্তু পাঞ্জ খুব বেশি বা খুব কম, উভয়ই বিপজ্জনক।শীতকালে মাটির পানি দ্রুত শুকায় না। অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় নষ্ট হয়ে যায়। আবার  হিটার ও শীতকালে ঘরের বাতাস শুকনো হয়। গাছের পাতার নাকফোটা শুকিয়ে যায়, নতুন কুঁড়ি ঝরে পড়ে।তাই মাটি পরীক্ষা করে পানি দেওয়া ভালো। আর্দ্রতা বাড়াতে নীচে পানিভর্তি  ট্রে রাখা যেতে পারে। হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে গাছের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

পোকামাকড়ের সতর্কতা

শীতকালে  ইনডোর প্লান্টের জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ তৈরি করার ব্যাপারটি পোকামাকড়ের জন্য  স্বর্গ হয়ে উঠতে পারে। থ্রিপসের মতো কিছু পোকামাকড় শরৎকাল পছন্দ করে, অন্যরা সারা বছর ধরে  গাছগুলিতে আনন্দের সাথে বাসা বাঁধবে।  

ইনডোর প্ল্যান্ট যত্ন মানে কেবল সৌন্দর্য সংরক্ষণ নয়; এটি ধৈর্য, পর্যবেক্ষণ, ব্যালান্স এবং জীবনের সূক্ষ্ম ভারসাম্য। যে বাড়িতে এই মনোযোগ আছে, সেই বাড়িতে গাছ শুধু বেঁচে থাকে না, বরং ঘরে শীতের মাঝেও প্রাণ ও সবুজের এক অনন্য শক্তি যোগ করে।

 

সম্পর্কিত নিউজ