{{ news.section.title }}
হাড় শক্ত করার ক্ষেত্রে শিশুর জন্য এই ভুলগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ! জেনে নিন ২ মিনিটে
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
শিশু মানে শুধু বেড়ে ওঠাই নয়, শিশু মানে ভবিষ্যৎ। আর সেই ভবিষ্যতের শারীরিক ভিত্তি তৈরি হয় শৈশবেই। আর সেই শারিরীক ভিত্তি তৈরি হয় ধীরে, এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক প্রক্রিয়ায়, হাড় গঠনের মাধ্যমে। শিশুর হাঁটা, দৌড়, লাফ, খেলাধুলা কিংবা সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতার পেছনে যে কাঠামো কাজ করে, সেটিই হাড়। কিন্তু এই হাড়ের শক্তি, ঘনত্ব ও স্থায়িত্ব হঠাৎ করে তৈরি হয় না, বরং জন্মের পর থেকেই শুরু হয় একটি দীর্ঘ ও সংবেদনশীল গঠনপ্রক্রিয়া। সামান্য অবহেলা ভবিষ্যতে ডেকে আনতে পারে হাড় দুর্বলতা, বিকৃতি বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যা। আজকের এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করব- শিশুর হাড় গঠনে ঠিক কী কী উপাদান সবচেয়ে জরুরি, কোন অভ্যাসগুলো হাড়কে শক্ত করে, আর কোন ভুলগুলো ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মানবদেহের হাড় কোনো স্থির কাঠামো নয়। এটি জীবন্ত টিস্যু। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে হাড় প্রতিনিয়ত তৈরি হয়, ভাঙে, আবার নতুন করে গড়ে ওঠে। জন্মের সময় শিশুর দেহে হাড়ের সংখ্যা বেশি থাকে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিণত কাঠামো গড়ে তোলে। এই সময়েই হাড়ের ঘনত্ব, দৈর্ঘ্য ও শক্তির ভিত্তি স্থাপন হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের জীবনের মোট হাড়ঘনত্বের বড় একটি অংশ তৈরি হয়ে যায় কৈশোরের মধ্যেই। অর্থাৎ শৈশবে যদি হাড় যথেষ্ট পুষ্টি ও যত্ন না পায়, তাহলে বড় বয়সে সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্যালসিয়াম :
হাড় গঠনের কথা বললেই প্রথম যে উপাদানটির নাম আসে, তা হলো ক্যালসিয়াম। এটি হাড় ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান। শিশুর শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে হাড় নরম হয়ে যেতে পারে, গঠন দুর্বল হয় এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশুর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি থাকা অত্যন্ত জরুরি। দুধ, দই, পনির, ছোট মাছ, তিল, শাকসবজি ইত্যাদি খাবার ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। তবে শুধু খাবারে ক্যালসিয়াম থাকলেই যথেষ্ট নয়, শরীর সেটি শোষণ করতে পারছে কি না, সেটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিন ডি :
ক্যালসিয়াম যতই থাকুক, ভিটামিন ডি ছাড়া তার কার্যকারিতা প্রায় অসম্পূর্ণ। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ ও হাড়ে জমা হতে সাহায্য করে। শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ডি ঘাটতি হলে রিকেটসের মতো রোগ দেখা দিতে পারে, যেখানে হাড় বেঁকে যাওয়া বা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। সূর্যের আলো হলো ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় রোদে থাকা শিশুর হাড় গঠনের জন্য উপকারী। পাশাপাশি ডিমের কুসুম, মাছের তেল ও কিছু শক্তিবর্ধক খাবার থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
প্রোটিন:
হাড় মানেই শুধু ক্যালসিয়াম নয়। প্রোটিন ছাড়া শক্ত হাড় গঠন সম্ভব না। হাড়ের ভেতরের জালিকাঠামো তৈরি হয় প্রোটিনের মাধ্যমে, যার ওপর ক্যালসিয়াম জমে শক্ত আকার নেয়। তাই শিশুর খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে হাড়ের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়। মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ইত্যাদি খাবার শিশুর প্রোটিন চাহিদা পূরণে সহায়ক।
শারীরিক সক্রিয়তা:
শুধু খাবার খেলেই হাড় শক্ত হয় না। হাড় শক্ত হয় সক্রিয়তায়। শিশুর দৌড়ানো, লাফানো, খেলাধুলা করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড হাড়ের ওপর স্বাস্থ্যকর চাপ সৃষ্টি করে, যা হাড়কে আরও মজবুত করে তোলে। বর্তমান সময়ে অনেক শিশু দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে আসক্ত থাকে। এই স্থির জীবনধারা হাড়ের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিদিন খোলা জায়গায় খেলাধুলা, হাঁটা কিংবা সাইকেল চালানো শিশুর হাড়ের জন্য অত্যন্ত জরুরী।
সূর্যালোক ও প্রকৃতির সংস্পর্শ:
আধুনিক জীবনযাত্রায় শিশুদের বড় একটি অংশ ঘরের ভেতরেই সময় কাটায়। অথচ প্রকৃতির সংস্পর্শ ও সূর্যালোক শিশুর হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালের বা বিকেলের হালকা রোদ শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে, যা হাড়ের জন্য অপরিহার্য। শিশুকে নিয়মিত বাইরে নিয়ে যাওয়া, খোলা আকাশের নিচে খেলতে দেওয়া শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, হাড়ের শক্তির জন্যও প্রয়োজনীয়।
ঘুম:
শিশুর হাড় গঠনের আরেকটি অবহেলিত দিক হলো পর্যাপ্ত ঘুম। গভীর ঘুমের সময় শরীরে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা হাড় ও পেশির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। অনিয়মিত বা কম ঘুম শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ঘুম নিশ্চিত করা শিশুর সামগ্রিক বৃদ্ধি, বিশেষ করে হাড় গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অপুষ্টি ও অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুডের ঝুঁকি:
শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয় ও ফাস্ট ফুড হাড়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এসব খাবারে ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় খনিজের পরিমাণ কম, বরং লবণ ও চিনির আধিক্য থাকে, যা ক্যালসিয়ামের শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন খাদ্যাভ্যাস শিশুর হাড়কে দুর্বল করে দিতে পারে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মানসিক চাপ ও হাড়ের সম্পর্ক:
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও শিশুর মানসিক চাপ ও উদ্বেগও শারীরিক বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। পরিবারের স্নেহ, নিরাপদ পরিবেশ ও ইতিবাচক মানসিক আবহ শিশুর সুস্থ হাড় গঠনের জন্য পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুর হাড় গঠন কোনো একদিনের বিষয় নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা নির্ভর করে প্রতিদিনের খাবার, চলাফেরা, ঘুম ও পরিবেশের ওপর। শৈশবেই যদি সঠিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত শারীরিক সক্রিয়তা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে হাড়জনিত সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। একজন সুস্থ, কর্মক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পেছনে যে শক্ত কঙ্কাল কাজ করে, তার ভিত্তিপ্রস্তর কিন্তু স্থাপিত হয় শিশুকালেই। তাই শিশুর হাড় গঠনের বিষয়টি অবহেলা নয়, সচেতনতার সঙ্গে গুরুত্ব দিয়েই দেখার সময় এখনই।
ক্যালসিয়াম :
হাড় গঠনের কথা বললেই প্রথম যে উপাদানটির নাম আসে, তা হলো ক্যালসিয়াম। এটি হাড় ও দাঁতের প্রধান খনিজ উপাদান। শিশুর শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে হাড় নরম হয়ে যেতে পারে, গঠন দুর্বল হয় এবং বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশুর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি থাকা অত্যন্ত জরুরি। দুধ, দই, পনির, ছোট মাছ, তিল, শাকসবজি ইত্যাদি খাবার ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। তবে শুধু খাবারে ক্যালসিয়াম থাকলেই যথেষ্ট নয়, শরীর সেটি শোষণ করতে পারছে কি না, সেটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভিটামিন ডি :
ক্যালসিয়াম যতই থাকুক, ভিটামিন ডি ছাড়া তার কার্যকারিতা প্রায় অসম্পূর্ণ। ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ ও হাড়ে জমা হতে সাহায্য করে। শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ডি ঘাটতি হলে রিকেটসের মতো রোগ দেখা দিতে পারে, যেখানে হাড় বেঁকে যাওয়া বা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। সূর্যের আলো হলো ভিটামিন ডি-এর প্রাকৃতিক উৎস। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় রোদে থাকা শিশুর হাড় গঠনের জন্য উপকারী। পাশাপাশি ডিমের কুসুম, মাছের তেল ও কিছু শক্তিবর্ধক খাবার থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
প্রোটিন:
হাড় মানেই শুধু ক্যালসিয়াম নয়। প্রোটিন ছাড়া শক্ত হাড় গঠন সম্ভব না। হাড়ের ভেতরের জালিকাঠামো তৈরি হয় প্রোটিনের মাধ্যমে, যার ওপর ক্যালসিয়াম জমে শক্ত আকার নেয়। তাই শিশুর খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে হাড়ের বৃদ্ধি ধীর হয়ে যায়। মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, বাদাম ইত্যাদি খাবার শিশুর প্রোটিন চাহিদা পূরণে সহায়ক।
শারীরিক সক্রিয়তা:
শুধু খাবার খেলেই হাড় শক্ত হয় না। হাড় শক্ত হয় সক্রিয়তায়। শিশুর দৌড়ানো, লাফানো, খেলাধুলা করা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড হাড়ের ওপর স্বাস্থ্যকর চাপ সৃষ্টি করে, যা হাড়কে আরও মজবুত করে তোলে। বর্তমান সময়ে অনেক শিশু দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে আসক্ত থাকে। এই স্থির জীবনধারা হাড়ের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিদিন খোলা জায়গায় খেলাধুলা, হাঁটা কিংবা সাইকেল চালানো শিশুর হাড়ের জন্য অত্যন্ত জরুরী।
সূর্যালোক ও প্রকৃতির সংস্পর্শ:
আধুনিক জীবনযাত্রায় শিশুদের বড় একটি অংশ ঘরের ভেতরেই সময় কাটায়। অথচ প্রকৃতির সংস্পর্শ ও সূর্যালোক শিশুর হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালের বা বিকেলের হালকা রোদ শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে, যা হাড়ের জন্য অপরিহার্য। শিশুকে নিয়মিত বাইরে নিয়ে যাওয়া, খোলা আকাশের নিচে খেলতে দেওয়া শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, হাড়ের শক্তির জন্যও প্রয়োজনীয়।
ঘুম:
শিশুর হাড় গঠনের আরেকটি অবহেলিত দিক হলো পর্যাপ্ত ঘুম। গভীর ঘুমের সময় শরীরে গ্রোথ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা হাড় ও পেশির বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। অনিয়মিত বা কম ঘুম শিশুর শারীরিক বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বয়স অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় ঘুম নিশ্চিত করা শিশুর সামগ্রিক বৃদ্ধি, বিশেষ করে হাড় গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অপুষ্টি ও অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুডের ঝুঁকি:
শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, কোমল পানীয় ও ফাস্ট ফুড হাড়ের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এসব খাবারে ক্যালসিয়াম ও প্রয়োজনীয় খনিজের পরিমাণ কম, বরং লবণ ও চিনির আধিক্য থাকে, যা ক্যালসিয়ামের শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন খাদ্যাভ্যাস শিশুর হাড়কে দুর্বল করে দিতে পারে, যার প্রভাব ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
মানসিক চাপ ও হাড়ের সম্পর্ক:
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও শিশুর মানসিক চাপ ও উদ্বেগও শারীরিক বৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা হাড়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। পরিবারের স্নেহ, নিরাপদ পরিবেশ ও ইতিবাচক মানসিক আবহ শিশুর সুস্থ হাড় গঠনের জন্য পরোক্ষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শিশুর হাড় গঠন কোনো একদিনের বিষয় নয়। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা নির্ভর করে প্রতিদিনের খাবার, চলাফেরা, ঘুম ও পরিবেশের ওপর। শৈশবেই যদি সঠিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত শারীরিক সক্রিয়তা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে ওঠে, তাহলে ভবিষ্যতে হাড়জনিত সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। একজন সুস্থ, কর্মক্ষম ও আত্মবিশ্বাসী প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পেছনে যে শক্ত কঙ্কাল কাজ করে, তার ভিত্তিপ্রস্তর কিন্তু স্থাপিত হয় শিশুকালেই। তাই শিশুর হাড় গঠনের বিষয়টি অবহেলা নয়, সচেতনতার সঙ্গে গুরুত্ব দিয়েই দেখার সময় এখনই।