গরম গরম বাদামের হালুয়া, তৈরি করুন খুব সহজভাবে-রেসিপি এখানে!

গরম গরম বাদামের হালুয়া, তৈরি করুন খুব সহজভাবে-রেসিপি এখানে!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

বাদামের হালুয়া বা বাদামের বরফি বাঙালিদের অত্যন্ত প্রিয় একটি মিষ্টান্ন। এটি যেমন পুষ্টিকর, স্বাদেও তেমনি অতুলনীয়। সাধারণত উৎসব-পার্বণ, শবে বরাত বা বিকেলের নাস্তায় অতিথি আপ্যায়নে এই রাজকীয় স্বাদের হালুয়া তৈরি করা হয়। আজকের প্রতিবেদনে বাদামের হালুয়ার রেসিপি শুধু “কীভাবে বানাবেন” তা নয়, বরং কেন এই ধাপগুলো গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।

বাদামের হালুয়া অনেকের কাছেই শুধুই একটি শীতকালীন মিষ্টান্ন। সঠিক উপকরণ, সঠিক অনুপাত এবং ধৈর্য ধরে রান্না বাদামের হালুয়ার স্বাদকে গভীর করে তোলে।

ভালো হালুয়ার ভিত্তি হলো ভালো বাদাম। কাঁচা, প্রাকৃতিক ও প্রক্রিয়াজাত নয় এমন বাদাম বেছে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকদিনের পুরোনো বা সংরক্ষিত বাদামে তেলের গুণগত মান নষ্ট হতে পারে, যা হালুয়ার স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই কমিয়ে দেয়। বাদাম কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে রং যেন খুব ফ্যাকাশে বা অতিরিক্ত গাঢ় না হয়। বাদামের গায়ে যেন তেলতেলে ভাব বা দুর্গন্ধ না থাকে। ভাঙা বা কুঁচকে যাওয়া বাদাম এড়িয়ে চলাই উত্তম। 

প্রথম পর্যায়ে সঠিক বাদাম বাছাই করা মানে পুরো হালুয়ার মান নির্ধারণ করে দেওয়া।

বাদাম ভিজিয়ে রাখা :
অনেকেই তাড়াহুড়ো করে বাদাম না ভিজিয়েই রান্না শুরু করেন। কিন্তু ভিজিয়ে রাখা বাদামের হালুয়া তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি।

বাদাম অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়।

এতে কী হয়?
এতে বাদাম নরম হয়, ফলে সহজে বাটা যায়।

শুধু তাই নয়, ভেতরের উপাদানগুলোও শরীরের জন্য সহজে শোষণযোগ্য হয়। হজমের সমস্যা কমে।

ভেজানো বাদামের খোসা ছাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এই খোসা অনেক সময় হালুয়ার স্বাদ তেতো করে এবং হজমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। ধৈর্য ধরে খোসা ছাড়ানো মানে হালুয়ার গুণগত মান এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

খোসা ছাড়ানো এবং ব্লেন্ডিং প্রসেস :
খোসা ছাড়ানো বাদাম বাটার পর্যায়ে  ভুল হলে হালুয়ার টেক্সচার নষ্ট হয়ে যায়। বাদাম বাটার সময় অল্প অল্প করে দুধ ব্যবহার করা ভালো। একবারে বেশি দুধ দিলে পেস্ট পাতলা হয়ে যায়, ফলে রান্নার সময় জমাট বাঁধতে সমস্যা হয়। আদর্শ বাদাম পেস্ট হবে মিহি, দানাদার ভাব থাকবে না এবং খুব পাতলা বা খুব শক্ত হবে না। এই পেস্টই হালুয়ার মূল কাঠামো তৈরি করে।

বাদাম পেস্ট ঘিতে ভাজা:
পুরু তলার পাত্র ব্যবহার করা খুব জরুরি। পাতলা পাত্রে রান্না করলে বাদাম সহজেই লেগে যেতে পারে।

ঘি গরম করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে, ঘি যেন ধোঁয়া না ওঠে। খুব বেশি গরম হলে বাদাম পুড়ে যেতে পারে।

তাই মাঝারি আঁচই সবচেয়ে নিরাপদ। ঘি শুধু স্বাদ দেয় না, এটি বাদামের পুষ্টি বহনকারী মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।

বাদামের পেস্ট ঘিতে দেওয়ার পর শুরু হয় সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ ধাপ। এই সময় নিয়মিত নাড়তে হবে। তাড়াহুড়ো করলে হালুয়া কাঁচা থেকে যাবে, আবার বেশি আঁচে দিলে বাদামের স্বাভাবিক তেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই ধাপে কাঁচা বাদামের গন্ধ ধীরে ধীরে কমে আসবে। বাদামের নিজস্ব মিষ্টি সুবাস বেরোতে শুরু করবে। রং সামান্য গাঢ় হবে। এই পর্যায়ে হালুয়ার ভিত্তি শক্ত হয়ে আসে।

দুধ যোগ করা: 
বাদাম ভালোভাবে ভাজা হলে ধীরে ধীরে দুধ যোগ করতে হবে। একবারে বেশি দুধ দিলে মিশ্রণ পাতলা হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে নেড়েও সঠিক ঘনত্ব পাওয়া কঠিন হয়। দুধ যোগ করার পর আঁচ কমিয়ে দিতে হবে এবং নিয়মিত নাড়তে হবে। মিশ্রণ যেন নিচে লেগে না যায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

এই ধাপে দুধ শুকিয়ে বাদাম ও ঘির সঙ্গে মিশে এক ধরনের মসৃণ, ভারী মিশ্রণ তৈরি হয়। 

মিষ্টি যোগ করা: 
বাদামের হালুয়ায় অতিরিক্ত মিষ্টি একেবারেই প্রয়োজন নেই। বাদামের নিজস্ব মিষ্টতা এবং দুধের স্বাভাবিক স্বাদ মিলেই অনেকটা স্বাদ তৈরি হয়ে যায়।

মিষ্টি যোগ করার সময় মনে রাখতে হবে, একসঙ্গে সব মিষ্টি না দেওয়া। অল্প অল্প করে দিয়ে স্বাদ যাচাই করা। মিষ্টি দেওয়ার পর হালুয়া আরও কিছুটা পাতলা হতে পারে, যা স্বাভাবিক। চিনি বা গুড় যোগ করার পর আবার কিছুক্ষণ নেড়ে নিতে হবে, যাতে মিশ্রণ আবার ঘন হয়ে আসে।

এলাচ ও সুবাস: 

সবশেষে এলাচ গুঁড়া যোগ করা হয়। এটি শুধু সুবাসের জন্য নয়, হজমে সহায়ক হিসেবেও কাজ করে। খুব বেশি এলাচ দিলে বাদামের স্বাদ ঢেকে যেতে পারে, তাই এক চিমটি যথেষ্ট। এলাচ মেশানোর পর আঁচ বন্ধ করে কিছুক্ষণ ঢেকে রাখলে হালুয়া নিজের ভেতরেই আরও ভালোভাবে সেট হয়ে যায়।

পরিবেশন ও সংরক্ষণ:

বাদামের হালুয়া গরম অবস্থায় সবচেয়ে উপকারী ও সুস্বাদু। ঠান্ডা হলে এটি আরও শক্ত হয়। চাইলে অল্প পরিমাণ বানিয়ে দুই–তিন দিনের মধ্যে খেয়ে নেওয়াই ভালো। ফ্রিজে রাখলে শক্ত হয়ে যেতে পারে।

সেক্ষেত্রে খাওয়ার আগে হালকা গরম করে নেয়া ভালো। 

বাদামের হালুয়া তৈরির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ, যা কোনো বাজার থেকে কেনা যায় না, তা হলো ধৈর্য। সময় নিয়ে, বুঝে, ধাপে ধাপে রান্না করলেই এই ঐতিহ্যবাহী খাবার হয়ে ওঠে শরীর ও মনের শক্তির নির্ভরযোগ্য উৎস। শীতের সকালে বা সন্ধ্যায় এক বাটি ঘরে তৈরি বাদামের হালুয়া মানে শুধু মিষ্টি খাওয়া নয়, এটি মানে নিজের শরীরকে সচেতনভাবে শক্তি জোগানো।

সম্পর্কিত নিউজ