{{ news.section.title }}
পানিতে রক্ত পড়লেই কি হাঙর ছুটে আসে! দূরত্ব ভেদ করা এই শক্তির পেছনে কোন রহস্য আছে?
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
সমুদ্রের গভীরে নীরব এক শিকারি, নাম তার হাঙর। সচরাচর চোখে না পড়লেও, তাকে এড়িয়ে চলা খুবই কঠিন। কারণ হাঙর দেখে না, শোনে না, হাঙর আগে গন্ধ পায়। বহুল প্রচলিত একটি কথা আছে, হাঙর নাকি মাইল দূর থেকেও রক্তের গন্ধ পায়। প্রশ্ন হলো, এটা কি নিছক গল্প, নাকি সত্যি? উত্তরটা চমকপ্রদ- এটা শুধু বাস্তব নয়, বরং প্রকৃতির সবচেয়ে সূক্ষ্ম সংবেদনশীল ব্যবস্থাগুলোর একটি।
হাঙ্গর বা হাঙর, ইংরেজিতে Shark, তরুণাস্থিবিশিষ্ট এক ধরনের সামুদ্রিক মাছের প্রায় ২২৫টি প্রজাতির জন্য ব্যবহৃত সাধারণ নাম। এদের শরীরে কোনো হাঁড় নেই।পৃথিবীর প্রায় সকল সাগর-মহাসাগরে এদের অস্তিত্ব থাকলেও মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং অর্ধ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে দেখা যায় এদের প্রাচুর্য ।
মানুষের কাছে ঘ্রাণ একটি সহায়ক ইন্দ্রিয়। কিন্তু হাঙরের কাছে ঘ্রাণই প্রধান দিকনির্দেশক। সমুদ্রের ঘোলা, অন্ধকার পরিবেশে চোখ সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। সেখানে টিকে থাকার জন্য হাঙর বিকশিত করেছে তার অসাধারণ ঘ্রাণশক্তি। হাঙরের মস্তিষ্কের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে ঘ্রাণ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। অর্থাৎ, তাদের পুরো স্নায়ুতন্ত্রই তৈরি হয়েছে গন্ধ শনাক্ত করার জন্য।
হাঙরের নাক আমাদের মতো সাধারণ নয়। তাদের নাসারন্ধ্রও শ্বাস নেওয়ার জন্য নয়, এগুলো সম্পূর্ণভাবে গন্ধ শনাক্তের যন্ত্র। হাঙরের নাকের ভেতরে অসংখ্য সূক্ষ্ম রিসেপ্টর কোষ, জটিল ভাঁজযুক্ত নালিপথ, পানির প্রবাহ ধীর করে গন্ধ বিশ্লেষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই গঠন পানির মধ্যে ভেসে থাকা অতি সামান্য রাসায়নিক সংকেতও ধরতে সক্ষম।
রক্ত যখন পানিতে পড়ে, তখন তা ছড়িয়ে পড়ে অণুতে অণুতে। সমুদ্রের স্রোত এই অণুগুলোকে বহুদূরে নিয়ে যায়। হাঙরের ঘ্রাণরিসেপ্টর এতটাই সংবেদনশীল যে, কোটি কোটির মধ্যে একটি রক্তের অণুও শনাক্ত করতে পারে। মানুষের চোখে যা অদৃশ্য, হাঙরের নাকে তা স্পষ্ট সংকেত। স্রোত, তাপমাত্রা ও পানির গভীরতার ওপর নির্ভর করে এই দূরত্ব বদলায়।
হাঙরের আরেকটি বিস্ময়কর ক্ষমতা হলো- দুটি নাসারন্ধ্র দিয়ে আলাদা আলাদা সংকেত গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে কোন দিক থেকে গন্ধ আসছে, তা তারা বুঝতে পারে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে গন্ধের তীব্রতার পার্থক্য ধরতে পারে। সোজা উৎসের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া এটি অনেকটা স্টেরিও শব্দ শোনার মতো, একটি প্রাকৃতিক জিপিএস।
জনপ্রিয় ধারণা থাকলেও, হাঙর শুধু রক্তে আকৃষ্ট হয় না। বরং তারা আরও সূক্ষ্ম সংকেত ধরে-
⇨ আহত মাছের শরীর থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক।
⇨পেশির সংকোচনে তৈরি বৈদ্যুতিক সংকেত।
⇨ অস্বাভাবিক সাঁতারের কম্পন।
⇨ রক্ত এখানে একটি শক্তিশালী সংকেত মাত্র, একমাত্র নয়।
পরিষ্কার পানিতে চোখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু গভীর বা ঘোলা পানিতে নাকই হাঙরের রাজা। অনেক সময় হাঙর আগে গন্ধ পায় তারপর স্রোত অনুসরণ করে কাছে আসে। শেষে চোখ ও অন্যান্য ইন্দ্রিয় দিয়ে লক্ষ্য নিশ্চিত করে। অর্থাৎ, শিকার প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ঘটে।
হাঙরের রক্ত শনাক্ত করার ক্ষমতা মানুষকে আতঙ্কিত করে। কিন্তু বাস্তবে হাঙরের আক্রমণ খুবই বিরল। কারণ-
⇨ মানুষ হাঙরের স্বাভাবিক খাদ্য নয়।
⇨ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কৌতূহল বা ভুল শনাক্তকরণ থেকেই কামড়।
⇨ একবার বুঝতে পারলে, হাঙর সাধারণত সরে যায়।
রক্তের গন্ধ পেলেই হাঙর মানুষকে নিশানা বানাবে-এই ধারণা অতিরঞ্জিত।
হাঙরের রক্ত শনাক্ত করার ক্ষমতা কোনো ভৌতিক গল্প নয়, এটি লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের ফল। এই ক্ষমতা তাদের করে তোলে নিখুঁতভাবে অভিযোজিত এক প্রাণী। সমুদ্রের গভীরে এক ফোঁটা রক্ত হয়তো আমাদের কাছে তুচ্ছ, কিন্তু হাঙরের কাছে সেটাই বেঁচে থাকার সংকেত।
মানুষের কাছে ঘ্রাণ একটি সহায়ক ইন্দ্রিয়। কিন্তু হাঙরের কাছে ঘ্রাণই প্রধান দিকনির্দেশক। সমুদ্রের ঘোলা, অন্ধকার পরিবেশে চোখ সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। সেখানে টিকে থাকার জন্য হাঙর বিকশিত করেছে তার অসাধারণ ঘ্রাণশক্তি। হাঙরের মস্তিষ্কের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে ঘ্রাণ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। অর্থাৎ, তাদের পুরো স্নায়ুতন্ত্রই তৈরি হয়েছে গন্ধ শনাক্ত করার জন্য।
হাঙরের নাক আমাদের মতো সাধারণ নয়। তাদের নাসারন্ধ্রও শ্বাস নেওয়ার জন্য নয়, এগুলো সম্পূর্ণভাবে গন্ধ শনাক্তের যন্ত্র। হাঙরের নাকের ভেতরে অসংখ্য সূক্ষ্ম রিসেপ্টর কোষ, জটিল ভাঁজযুক্ত নালিপথ, পানির প্রবাহ ধীর করে গন্ধ বিশ্লেষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই গঠন পানির মধ্যে ভেসে থাকা অতি সামান্য রাসায়নিক সংকেতও ধরতে সক্ষম।
রক্ত যখন পানিতে পড়ে, তখন তা ছড়িয়ে পড়ে অণুতে অণুতে। সমুদ্রের স্রোত এই অণুগুলোকে বহুদূরে নিয়ে যায়। হাঙরের ঘ্রাণরিসেপ্টর এতটাই সংবেদনশীল যে, কোটি কোটির মধ্যে একটি রক্তের অণুও শনাক্ত করতে পারে। মানুষের চোখে যা অদৃশ্য, হাঙরের নাকে তা স্পষ্ট সংকেত। স্রোত, তাপমাত্রা ও পানির গভীরতার ওপর নির্ভর করে এই দূরত্ব বদলায়।
হাঙরের আরেকটি বিস্ময়কর ক্ষমতা হলো- দুটি নাসারন্ধ্র দিয়ে আলাদা আলাদা সংকেত গ্রহণ করতে পারে। এর ফলে কোন দিক থেকে গন্ধ আসছে, তা তারা বুঝতে পারে। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে গন্ধের তীব্রতার পার্থক্য ধরতে পারে। সোজা উৎসের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। তাছাড়া এটি অনেকটা স্টেরিও শব্দ শোনার মতো, একটি প্রাকৃতিক জিপিএস।
জনপ্রিয় ধারণা থাকলেও, হাঙর শুধু রক্তে আকৃষ্ট হয় না। বরং তারা আরও সূক্ষ্ম সংকেত ধরে-
⇨ আহত মাছের শরীর থেকে নিঃসৃত রাসায়নিক।
⇨পেশির সংকোচনে তৈরি বৈদ্যুতিক সংকেত।
⇨ অস্বাভাবিক সাঁতারের কম্পন।
⇨ রক্ত এখানে একটি শক্তিশালী সংকেত মাত্র, একমাত্র নয়।
পরিষ্কার পানিতে চোখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু গভীর বা ঘোলা পানিতে নাকই হাঙরের রাজা। অনেক সময় হাঙর আগে গন্ধ পায় তারপর স্রোত অনুসরণ করে কাছে আসে। শেষে চোখ ও অন্যান্য ইন্দ্রিয় দিয়ে লক্ষ্য নিশ্চিত করে। অর্থাৎ, শিকার প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ঘটে।
হাঙরের রক্ত শনাক্ত করার ক্ষমতা মানুষকে আতঙ্কিত করে। কিন্তু বাস্তবে হাঙরের আক্রমণ খুবই বিরল। কারণ-
⇨ মানুষ হাঙরের স্বাভাবিক খাদ্য নয়।
⇨ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কৌতূহল বা ভুল শনাক্তকরণ থেকেই কামড়।
⇨ একবার বুঝতে পারলে, হাঙর সাধারণত সরে যায়।
রক্তের গন্ধ পেলেই হাঙর মানুষকে নিশানা বানাবে-এই ধারণা অতিরঞ্জিত।
হাঙরের রক্ত শনাক্ত করার ক্ষমতা কোনো ভৌতিক গল্প নয়, এটি লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের ফল। এই ক্ষমতা তাদের করে তোলে নিখুঁতভাবে অভিযোজিত এক প্রাণী। সমুদ্রের গভীরে এক ফোঁটা রক্ত হয়তো আমাদের কাছে তুচ্ছ, কিন্তু হাঙরের কাছে সেটাই বেঁচে থাকার সংকেত।