{{ news.section.title }}
১ দিনেই ২৬ চাকরির পরীক্ষা, বিপাকে পরীক্ষার্থীরা! দেখুন তালিকা
- Author, জাগরণ ডেস্ক
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
দেশের প্রতিনিয়ত বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। কোটা সংস্কার থেকে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন, এর প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা সরকারের পতন। হাসিনা সরকারের পতনের পরেই দেশের চাকুরির প্রতিযোগিতা যেমন বেড়েছে তেমনি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।বিগত ৫ বছরের তুলনায় গতো ১ বছরে দেশের চাকুরির বাজারে রেকর্ড সংখ্যক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।গতো কয়েকমাসে আমরা দেখেছি সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দিনপ্রতি ৫-১৫ টি পর্যন্ত চাকুরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।এবার সকল রেকর্ড ভেঙ্গে একদিনেই ২৬টি পরীক্ষা নেওয়ার সীদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়োগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর।৩১ জানুয়ারি ২০২৬ দিনটি মুলত চাকুরি প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে ব্যস্ততম দিন।
এদিন যেসকল প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, সমন্বিত ৮ ব্যাংক, সমন্বিত ৬ ব্যাংক, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ ভাইভা, পোস্টমাস্টার জেনারেল এর কার্যালয় চট্টগ্রাম, সেতু বিভাগ, দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশনের ২টি পরীক্ষা, দুদক, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট বিভাগ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় লালমনিরহাট,বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিমা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ,কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ৪৯ তম বিসিএস স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চট্টগ্রাম ওয়াসা, গ্রন্থাগার অধিদপ্তর,বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর অধিদপ্তর, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার,বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইন্সটিটিউট।
উপরোক্ত ২৬ টি দপ্তরের বিভিন্ন পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ৩১ জানুয়ারি ২০২৬। একইদিনে বিভিন্ন সময়ে এতো সংখ্যক পরীক্ষার বিষয়ে আমরা একাধিক চাকুরি প্রার্থীর সাথে কথা বলেছি।তারা বিষয়টিকে যতোটা সাদরে গ্রহণ করেছে,তার থেকে বেশি অর্থখরচ ও ভোগান্তি হিসেবে বিবেচিত করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও চাকুরি পরীক্ষার্থী মারুফ আসাদ এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, এটা আমাদের সাথে একটা প্রহসন।প্রতিটি নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন করতে আমাদের ২০০-৩০০ টাকা খরচ করতে হয়েছে।৩১ তারিখ আমার ৬ টি পরীক্ষা আছে।আমি কিভাবে একইদিনে ছয়টি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবো?সর্বোচ্চ দুটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার মতো সময় থাকবে হাতে।তবুও একই দিনে দুটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যেকোনো শিক্ষার্থীর জন্য মানসিক যন্ত্রণা দায়ক বিষয়ক। কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীবান্ধব সীদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো:সুমন জানিয়েছেন, সরকারকে আমি স্বাগতম জানাই দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মাঝেও দ্রুতগতিতে নিয়োগ পরীক্ষা গুলো গ্রহণের জন্য। কিন্তু একদিনে ২৬ টি পরীক্ষা যেকোনো চাকুরি প্রার্থীর জন্য আনন্দের নয়,হতাশার একটি দিনই বলে আমি মনে করি।আমার এই তারিখে ৪ টি পরীক্ষা।কোনটি ছেড়ে কোনটিতে বসবো এই সীদ্ধান্ত নিতেই হিমশিম খাচ্ছি, সেখানে একদিনে কিভাবে ৪ পরীক্ষায় বসবো সেটা নিয়ে আমি গোলকধাঁধায় আছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মনসুর আহমেদ জানান, সরকার দেশ থেকে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমাতে দ্রুততম সময়ে নিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে।দেশে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পেতে থাকা বেকারের সংখ্যা কমাতে নিয়োগ পরীক্ষা দ্রুত সময়ে নেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় নেই। একই দিনে ২৬ পরীক্ষার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন কর্তৃপক্ষের উচিত পরীক্ষা গুলোয় আবেদন ফি আরো কমিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ করা।যাতে একই দিনে একাধিক পরীক্ষা হলেও তাদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয়।