ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
ছবির ক্যাপশান, ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

নেপালে টানা ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ এবং সহিংসতায় প্রাণহানির পর প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। স্থানীয় সময় সোমবার থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলন দ্রুত উত্তাল রূপ নেয়। আন্দোলনের মূল কেন্দ্র ছিল রাজধানী কাঠমান্ডু, তবে দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মূলত দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রতিবাদে ‘জেন জি’ তরুণদের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাজপথে নেমে আসেন ছাত্র-জনতা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সরকারি হিসেবে জানা গেছে, দুই দিনের সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার রাজধানীর কিছু এলাকায় অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করে। তবে তা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি এবং অদক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ দীর্ঘদিন ধরেই জমে ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তে সেই ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। এর জেরে শুরু হয় সরকারবিরোধী এই আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগে গড়ায়।

কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে দেশজুড়ে নতুন নেতৃত্ব এবং স্থিতিশীলতার দাবি জোরালো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলও নেপালের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকট নেপালের রাজনীতিতে একটি বড় মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ