{{ news.section.title }}
ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাস আতঙ্ক, ৩ মৃত্যুতে নতুন প্রশ্ন, কতটা ঝুঁকিতে বিশ্ব?
আটলান্টিক মহাসাগরে একটি স্বপ্নের অভিযাত্রা শেষ পর্যন্ত রূপ নিয়েছে স্বাস্থ্য আতঙ্কে। এমভি হন্ডিয়াস নামের একটি এক্সপেডিশন ক্রুজ শিপে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন অসুস্থ হওয়ায় যাত্রীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
জাহাজটি আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। ভ্রমণসূচিতে ছিল অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল, ফকল্যান্ড, সাউথ জর্জিয়া, ট্রিস্টান দা কুনহা, সেন্ট হেলেনা ও অ্যাসেনশনের মতো দূরবর্তী আটলান্টিক দ্বীপ ও এলাকা। বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও ক্রু নিয়ে যাত্রা করা এই জাহাজে প্রথমে একজন ডাচ যাত্রী অসুস্থ হয়ে মারা যান। পরে তাঁর স্ত্রীও অসুস্থ হয়ে মারা যান। আরও একজন জার্মান নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজে থাকা আটজন অসুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন, ছয়জনের ক্ষেত্রে ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং দুজন সন্দেহভাজন হিসেবে পর্যবেক্ষণে আছেন। ইউরোপের জনস্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জাহাজের সব যাত্রীকে আপাতত উচ্চঝুঁকির সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করছে। উপসর্গহীন যাত্রীদের নিজ নিজ দেশে বিশেষ পরিবহনে পাঠিয়ে সেলফ কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। সাধারণ বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তাঁদের পাঠানো হচ্ছে না।
হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সংক্রমিত ইঁদুরের মল, প্রস্রাব, লালা অথবা দূষিত ধুলাবালির সংস্পর্শে এলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। ইঁদুরের কামড় থেকেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে, যদিও তা তুলনামূলক কম। ঘর, গুদাম, অফিস বা বন্ধ জায়গা পরিষ্কার করার সময় যদি সেখানে ইঁদুরের উপস্থিতি থাকে, তাহলে ঝুঁকি বাড়ে।
তবে কোভিড-১৯ এর মতো নতুন বৈশ্বিক মহামারির আশঙ্কা আপাতত দেখছে না আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। কারণ হান্টাভাইরাস সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসের মতো সহজে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। কিছু ক্ষেত্রে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের নজির থাকলেও তা বিরল। এ কারণেই জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কম বলা হচ্ছে, তবে যাত্রীদের নজরদারি, পরীক্ষা ও আইসোলেশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সতর্কতার অংশ হিসেবে।
এ ঘটনার পর অনেক দেশ সেইসব যাত্রীকে খুঁজে বের করছে, যারা ক্রুজের কোনো পর্যায়ে জাহাজ ছেড়ে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। কারণ ভাইরাসটির ইনকিউবেশন সময় এবং গুরুতর শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা বিবেচনায় দেরিতে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর, দুর্বলতা, মাংসপেশিতে ব্যথা, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য এই ঘটনার বড় শিক্ষা হলো, অজানা সংক্রমণ নিয়ে আতঙ্ক নয়, বরং যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করা জরুরি। একই সঙ্গে বাসা, অফিস, দোকান, গুদাম ও খাবার সংরক্ষণের জায়গা ইঁদুরমুক্ত রাখা দরকার। খাবার ঢেকে রাখা, ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার করা, ইঁদুরের মল বা মৃত ইঁদুর খালি হাতে না ধরা এবং পরিষ্কারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করা নিরাপদ অভ্যাস।
এদিকে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু শিশু হাম ও সংশ্লিষ্ট জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সরকার দেশজুড়ে হাম-রুবেলার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। তাই বিদেশি ভাইরাসের আতঙ্কে নজর আটকে না রেখে দেশের চলমান জনস্বাস্থ্যঝুঁকির দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
বিশেষজ্ঞদের বার্তা পরিষ্কার, হান্টাভাইরাস নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন, আতঙ্ক নয়। তবে ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা, দ্রুত চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।