কবে হতে পারে ঈদুল আজহা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত

কবে হতে পারে ঈদুল আজহা? সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত
ছবির ক্যাপশান, জাগরণ ছবি

আসন্ন ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়; জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপরই ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করবে।

বুধবার (৬ মে) এক প্রতিবেদনে গালফ নিউজ জানায়, এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেছেন, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী ১৪৪৭ হিজরির জিলহজ মাস শুরু হতে পারে আগামী ১৮ মে সোমবার। সে হিসাবে আরাফার দিন পড়তে পারে ২৬ মে মঙ্গলবার এবং ঈদুল আজহা হতে পারে ২৭ মে বুধবার।

 

এর আগে শারজাহ স্পেস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি হাবও চাঁদ দেখার সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একই ধরনের পূর্বাভাস দেয়। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা ২৭ মে বুধবার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গালফ নিউজের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামি তারিখগুলোর ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় সরকারি চাঁদ দেখা ঘোষণার ওপর নির্ভর করে।

 

সাধারণত সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশে আগামী ২৮ মে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে। তবে বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা এবং জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের ওপরই দেশের ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে।

 

ঈদুল আজহা মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এটি হজের আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। আরাফার দিন হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। যারা হজে থাকেন না, তাদের জন্যও এই দিন ইবাদত, দোয়া, তাওবা ও রোজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

 

কুরবানি ঈদের মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর আদেশের সামনে আত্মসমর্পণ, ত্যাগ ও তাকওয়া। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর নির্দেশ পালনে নিজের প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানির জন্য প্রস্তুত হয়েছিলেন। পরে আল্লাহ ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে একটি পশু কুরবানির ব্যবস্থা করে দেন। সেই স্মরণেই মুসলমানরা ঈদুল আজহায় কুরবানি আদায় করেন। ইসলামিক রিলিফের ব্যাখ্যায়ও বলা হয়েছে, কুরবানি হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও আত্মত্যাগের স্মারক।

 

তবে কুরবানির মূল উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, নিয়তের শুদ্ধতা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কুরবানির গোশত পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বার্তাও ছড়িয়ে পড়ে। তাই ঈদুল আজহার প্রস্তুতির পাশাপাশি মুসলমানদের জন্য এই দিনগুলোর ইবাদত, দান, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।


সম্পর্কিত নিউজ