{{ news.section.title }}
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বিজিপি নেতাকর্মীদের হাতে খুন ৪ মুসলিম
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ফের রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে মুসলিম পরিচয়ের কয়েকজন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী রয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূল একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমসসহ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কলকাতার বেলেঘাটা এলাকায় তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট বিশ্বজিৎ পট্টনায়েককে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে বীরভূম জেলার নানুরে তৃণমূল কর্মী আবির শেখকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। নিহত আবির শেখ মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। তার পরিবারের দাবি, বিজেপি সমর্থকরা তাকে একা পেয়ে হামলা চালায়। তবে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বলে দাবি করেছে।
অন্যদিকে হাওড়ার উদয়নরায়ণপুর ও রাজারহাট নিউটাউন এলাকায় দুই বিজেপি কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থকরা তাদের কর্মীদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে। এ নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই কলকাতার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু এলাকায় মোটরসাইকেল বহর নিয়ে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, মুসলিম অধ্যুষিত কয়েকটি এলাকায় রাতভর উত্তেজনা বিরাজ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে সামাজিক মাধ্যমে সতর্কতামূলক বার্তা শেয়ার করেন এবং ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, রাজ্যজুড়ে তাদের কয়েকশ দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। তার দাবি, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। অন্যদিকে বিজেপি বলছে, তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পতাকা পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। আসানসোল, রানিগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়াসহ বেশ কয়েকটি জেলায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
কলকাতার কিছু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিবারগুলো শিশুদের ঘরের বাইরে যেতে দিচ্ছে না এবং অনেক এলাকায় দোকানপাটও আগেভাগে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নতুন কিছু নয়। তবে এবারের ঘটনায় রাজনৈতিক সংঘর্ষের পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাজ্যের পরিস্থিতি এখন কোন দিকে যায়, সেটিই দেখছে দেশটির রাজনৈতিক মহল।