ফলাফল ঘোষণার আগেই মিয়ানমারে সেনা সমর্থিত দলের বিজয় দাবি

ফলাফল ঘোষণার আগেই মিয়ানমারে সেনা সমর্থিত দলের বিজয় দাবি
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

মিয়ানমারে সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই নিজেদের বিজয় দাবী করেছে।

গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দলটির উচ্চপদস্থ সূত্র সংবাদ সংস্থা এএফপিকে এই কথা বলেন।

মিয়ানমারে এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল পেতে চলতি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যেই ইউএসডিপি দাবি করেছে যে সরকার গঠনের জন্য তারা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।

এদিকে বিরোধীদল ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে ‘পাতানো’ এবং ‘প্রহসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিসহ (এনএলডি) আরও বেশ কতক বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেনি। যার জন্য আন্তর্জাতিক মহল এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

জান্তা সরকার দাবি করে যে এই নির্বাচনের মাধ্যমে তারা জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু ইয়াঙ্গুনের সাধারণ বাসিন্দারা বলছেন, এখানে জান্তা নিজেই খেলোয়াড় এবং নিজেই রেফারি।
বিশ্লেষকরা বলছে, ইউএসডিপি মূলত সেনাবাহিনীর একটি ‘নাগরিক মুখোশধারী প্রক্সি দল’ হিসেবে কাজ করছে।

তিন ধাপের নির্বাচনের প্রথম দফা শুরু হয় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় ধাপ ১১ জানুয়ারি সম্পন্ন হয় এবং গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) তৃতীয় ও শেষ ধাপের ভোটগ্রহণ হয়।
তবে এই নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেনি বলে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠেছে কারণ যুদ্ধকবলিত বহু অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীরা ভোটকেন্দ্র খুলতে দেয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটস তাদের এক প্রতিবেদনে মিয়ানমারের বর্তমান যুদ্ধকালীন ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। তারা উল্লেখ করেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও গেরিলাদের দমন করতে জান্তা সরকার আকাশপথের হামলায় প্যারামোটর ও জাইরোকপ্টারের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে চলেছে। ফলে বেসামরিক মানুষের হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক মহল এই নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকার না করলে মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান আরও পিছিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিলে মিয়ানমারে নতুন সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। তবে এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। বরং সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের চলমান লড়াই দেশটিকে আরো গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ