{{ news.section.title }}
পশ্চিমবঙ্গে এগিয়ে বিজেপি; তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম ও পদুচেরিতে কারা?
ভারতের পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত একটি অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা সোমবার (৪ মে) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে একযোগে এই গণনা চলায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। প্রাথমিক প্রবণতায় একদিকে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট কয়েকটি রাজ্যে এগিয়ে থাকলেও, অন্যদিকে শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোও নিজেদের ঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এবারের ভোট গণনাকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী বিজেপি এগিয়ে রয়েছে প্রায় ১৮০ আসনে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ১১১ আসনে। যদিও গণনা এখনো সম্পূর্ণ হয়নি, তবুও এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। দীর্ঘদিনের শাসকদল তৃণমূলের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপি প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি করতে পারছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও কড়া। প্রাথমিক ফলাফলে ডিএমকে এগিয়ে আছে ৬৬টি আসনে, যেখানে আঞ্চলিক নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসা টিভিকে এগিয়ে আছে ৬১টি আসনে। এনডিএ জোট সেখানে ৩৮টি আসনে এগিয়ে থাকায় ত্রিমুখী লড়াই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শেষ রাউন্ডের গণনার ওপর।
কেরালায় ইউডিএফ জোট ৫৯টি আসনে এগিয়ে থেকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে, যেখানে এলডিএফ ৪৭টি আসনে এবং এনডিএ ৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। কেরালার ক্ষেত্রে সাধারণত দুই প্রধান জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও এবার এনডিএ কিছুটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে এনডিএ ৫০টি আসনে এগিয়ে থেকে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ৩৫টি আসনে এগিয়ে থাকায় সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনও শেষ হয়নি। আসামে বিজেপির প্রভাব অব্যাহত থাকবে কি না, তা চূড়ান্ত ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
অন্যদিকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পদুচেরিতে এনডিএ ৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে, যেখানে ডিএমকে ও কংগ্রেস জোট ৩টি আসনে এগিয়ে আছে। ছোট আকারের হলেও এই অঞ্চলের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতে জোটগত সমীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে, এবারের ভোট গণনা ভারতের রাজনৈতিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা ও অপেক্ষা দুই-ই তুঙ্গে থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।