{{ news.section.title }}
শিশু জন্মের আগেই সাবধান! হৃদরোগের ঝুঁকি এড়াতে এখনই জানুন
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
হৃদরোগ শুধু বয়স্কদের হয় - এমন নয়, শিশুদেরও হৃদরোগ হতে পারে। সাধারণত তা জন্মগত ত্রুটির কারণে হয়ে থাকে। জন্মের আগে বা জন্মের পর শিশুর হৃদযন্ত্রে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেক সময় আবার জন্মগত হৃদরোগ জন্মের কয়েক মাস পর অথবা শিশু বড় হলে এই সমস্যা প্রকাশ পায়। শিশুদের হৃদ্রোগ সাধারণত জন্মগত হলেও কিছু ক্ষেত্রে জন্মের পর বা বয়স বাড়ার সঙ্গে বাতজ্বর, কাওয়াসাকি ডিজিজ, হার্টের সংক্রমণ, প্রদাহ ও ভিটামিন বি১-এর ঘাটতি থেকে রোগটি দেখা দেয়।
মায়ের গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি
১. মায়ের ডায়াবেটিস বা রক্তচাপ যদি গর্ভাবস্থায় ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণে না থাকে।
২. গর্ভের প্রথম দিকে মায়ের রুবেলা, ভাইরাল জ্বর বা গুরুতর সংক্রমণ হলে।
৩. গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া, ধূমপান বা মদ পান করলে।
৪. গর্ভের প্রথম তিন মাসে ফোলিক অ্যাসিড ও পুষ্টিকর খাবারের অভাব হলে।
৫. গর্ভাবস্থায় মদ, তামাক বা অন্যান্য মাদকের ব্যবহার শিশুর হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৬. অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে বসবাস মানুষের মধ্যে বাতজ্বর ও বাতজ্বরজনিত হৃদ্রোগের আশঙ্কা বাড়ায়।
শিশুর হৃদ্রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো
১. শিশু দুধ খেতে খেতে খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে বা মাঝপথে খাওয়া বন্ধ করে দেয়।
২. বয়স অনুযায়ী শিশুর ওজন ও উচ্চতা ঠিকমতো বাড়ে না।
৩. কান্নার সময় দম আটকে যাওয়া।
৪. অল্প পরিশ্রমেই (হাঁটা, খেলা) শিশু হাঁপিয়ে পড়ে বা বসে পড়ে।
৫. দুধ খাওয়ার সময় বা কান্নার সময় শ্বাস দ্রুত চলে বা শ্বাসকষ্ট হয়।
৬. ঘন ঘন নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি বা বুকের সংক্রমণে ভোগে।
৭. শিশু বয়স অনুযায়ী ঠিকমতো বেড়ে ওঠে না এবং অন্য শিশুর তুলনায় ছোট মনে হয়।
হৃদরোগের চিকিৎসা
প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে একটিও দেখা দিলে শিশুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর হৃদরোগ আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। আর যদি শিশুর হৃদরোগ ধরা পড়ে, তাহলে রোগের ধরন এবং কোন পর্যায়ে আছে তা জানা প্রয়োজন।
চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে সঠিক যত্ন নিলে হৃদরোগের সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। হৃদ্রোগে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ধীর হতে পারে, ঘন ঘন নিউমোনিয়া বা অন্যান্য সংক্রমণে ভুগতে পারে এবং হার্টের ভালভে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত ডাক্তারের চেকআপ, পুষ্টিকর খাবার ও যথাযথ যত্ন নেওয়া জরুরি। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।