টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে গেলে পুরুষের যেসব সমস্যা হয়

টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে গেলে পুরুষের যেসব সমস্যা হয়
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

পুরুষত্বের স্থায়িত্ব কে না চায়। তবে হরমোনের তারতম্যের কারণে অনেক সময় পুরুষের গোপন ক্ষমতায় কমবেশি দেখা যায়। পুরুষত্বের জন্য দায়ী প্রধান হরমোন হলো টেস্টোস্টেরন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ফলেই পুরুষদের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রোপজ নামের একটি স্বাভাবিক জৈবিক পরিবর্তন ঘটে।

টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে কমে যায় না। বরং কয়েক বছর ধরে ধীরে ধীরে এর পরিবর্তন ঘটে। একপর্যায়ে পুরুষত্বের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য লোপ পেতে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকেই অ্যান্ড্রোপজ বলা হয়।

অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন একরাম জানান, টেস্টোস্টেরনের অভাবে পুরুষের যৌন চাহিদা, মানসিক শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসে। সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতিবছর গড়ে এক শতাংশ করে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে। ৭০ বছর বয়সে অনেক পুরুষের শরীরে এই হরমোনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। কারও ক্ষেত্রে তা আরও কম হতে পারে।

টেস্টোস্টেরন হরমোন কমে গেলে পুরুষদের মধ্যে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যৌন আচরণে পরিবর্তন আসে এবং অনেকের ক্ষেত্রে অণ্ডকোষের আকার ছোট হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি যৌন দুর্বলতাও দেখা দেয়।

মানসিক দিক থেকেও বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। কর্মস্পৃহা কমে যায়, কাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন অনেকে। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয়। যৌবনের সময়কার উদ্দীপনা, মানসিক শক্তি ও সব জয় করার আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে কমে যায়। মনোযোগে সমস্যা দেখা দেয়, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে পারে এবং কেউ কেউ বিভিন্ন মাত্রার বিষণ্ণতায় ভুগতে পারেন।

তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ধরনের উপসর্গ সব সময় টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার কারণেই হয় এমন নয়। থাইরয়েডের সমস্যা, বিষণ্ণতা, অতিরিক্ত মদ্যপান কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এমন লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া এবং অ্যান্ড্রোপজ হওয়া কোনো রোগ নয়। এটি জীবনের একটি স্বাভাবিক পরিবর্তিত ধাপ। বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিয়ে জীবনের এই নতুন পর্যায়কে আনন্দময় করে তোলাই হওয়া উচিত। শেষ বয়সে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় টেস্টোস্টেরন আবার আগের মাত্রায় ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকে না।

তবে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। যদি উপসর্গগুলো বয়সজনিত না হয়ে অন্য কোনো রোগ বা ওষুধের কারণে হয়ে থাকে, তাহলে তার সমাধান সম্ভব।

জীবনাচরণে পরিবর্তন আনা জরুরি। পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চা শারীরিক শক্তি ও মানসিক উদ্দীপনা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বিষণ্ণতার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ টেস্টোস্টেরন কমে গেলে কর্মস্পৃহা ও মানসিক উদ্দীপনা কমে যায়, মেজাজ খিটখিটে হতে পারে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজ, নেশা বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণও বিষণ্ণতার ফল হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন প্রতিস্থাপন চিকিৎসায় উপকার পাওয়া যায়। তবে এই চিকিৎসার কার্যকারিতা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ