ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেসব খাবার খাবেন

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেসব খাবার খাবেন
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত
  • Author, জাগরণ নিউজ ডেস্ক
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

রক্তে যেন কোনোভাবেই ব্লাড সুগার না বাড়ে, সেই ভয়ে অনেকেই শর্করা একেবারে কমিয়ে দেন। বিশেষ করে উপমহাদেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাসে শর্করা কমে গেলে বিষয়টি বেশ কঠিন হয়ে ওঠে। ভাত, রুটি বা সিরিয়াল বাদ দিলে অনেকেরই মনে হয় পেট ভরে খাওয়ার সুযোগ আর থাকছে না।

কিন্তু বাস্তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে এমন সমস্যার কথা নয়। ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার তালিকা খুব ছোট করার প্রয়োজন নেই। বরং সঠিক নির্বাচন ও পরিমিত অভ্যাসের মাধ্যমে তারাও তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারেন। আজ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক কিছু খাবারের কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলো খেলে বারবার ক্ষুধা লাগার আশঙ্কাও কমে।

কাঁচা বা সেদ্ধ সবজি খাওয়ার অভ্যাস করুন
ডায়াবেটিস রোগীদের পেট ভরে খাওয়া যাবে না, এই ধারণা ঠিক নয়। আমাদের দেশে নানা ধরনের সবজি সহজেই পাওয়া যায়। আলু বা অতিরিক্ত শর্করাযুক্ত সবজি এড়িয়ে চলাই ভালো। তবে টমেটো, শসা, বেগুন, মাশরুম ও বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি নিয়মিত খাওয়া উচিত। এগুলো কাঁচা বা সেদ্ধ করে খাওয়া যায়। যাদের ওভেন আছে, তারা চাইলে কিছু সবজি রোস্ট করেও খেতে পারেন। আমাদের দেশেও বেগুন পুড়িয়ে ভর্তা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে, তাই এই ধরনের রান্না নতুন কিছু নয়।
রোস্ট করার সময় অল্প অলিভ অয়েল বা খাদ্যোপযোগী নারিকেল তেল ব্যবহার করা ভালো।

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার রাখুন
যেসব ফল ও সবজিতে আঁশ বেশি থাকে, সেগুলো শর্করার ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করতে পারে। বাদাম, মটরশুঁটি, শিমজাতীয় খাবার ও ভুট্টায় প্রচুর ফাইবার রয়েছে। এছাড়া বাঙ্গি ও তরমুজের মতো ফলও উপকারী। আঁশজাতীয় খাবার পেটে দীর্ঘ সময় থাকে, হজম ভালো রাখে এবং রক্তে সুগার দ্রুত বাড়তে দেয় না। মিষ্টি আলু রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

চিনি ছাড়া চা পান করুন
চায়ে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ব্ল্যাক টি ও গ্রিন টি এ ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। সাধারণ ব্লেন্ড চা দিয়েও রঙ চা বানিয়ে সকালে ও রাতে চিনি ছাড়া পান করলে শরীর চাঙা থাকে এবং বাড়তি ক্যালোরিও যোগ হয় না।

পরিমিত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন
ডায়াবেটিস রোগীদের চর্বি একেবারে বাদ দিতে হবে, এমন নয়। তবে ক্ষতিকর ও অতিরিক্ত চর্বি এড়িয়ে চলা জরুরি। অলিভ অয়েল দিয়ে সালাদ, কিংবা হালকা রোস্ট করা লিন মিট খাওয়া যেতে পারে। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় ফ্যাটও পূরণ হবে।

প্রোটিন খাওয়ায় বাধা নেই
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রোটিনও গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোন ধরনের প্রোটিন গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটিই মূল বিষয়। অতিরিক্ত লাল মাংস এড়িয়ে চলাই ভালো। মুরগি, কোয়েল বা কবুতরের মতো লিন মিট খাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি বাদাম থেকেও ভালো মানের প্রোটিন পাওয়া যায়।

চিনি ছাড়া হালকা শরবত
মাঝেমধ্যে শরবত খাওয়ার ইচ্ছা হওয়াটাই স্বাভাবিক। সব ফলের শরবত উপযোগী না হলেও বাঙ্গির শরবত বা লেবু চিপে বানানো পানীয় চিনি ছাড়া খাওয়া যেতে পারে। শুধু পানি নয়, লেবু ও বিট লবণের হালকা স্বাদে পানীয় তৈরি করলে তৃষ্ণা মেটে এবং মনও তৃপ্ত হয়।

উপমহাদেশের মতো শর্করাভিত্তিক খাদ্যসংস্কৃতিতে ডায়াবেটিস রোগীদের কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করতেই হয়। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগা কমে এবং তৃপ্তি নিয়ে খাওয়াও সম্ভব। ভাতের পরিমাণ কমিয়ে সবুজ সবজি ও আঁশজাতীয় খাবার বাড়ালেই স্বাস্থ্য ভালো রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।


সম্পর্কিত নিউজ