{{ news.section.title }}
পেশী-জয়েন্টের ব্যথা: অবহেলা নয়, কারণ ও প্রতিকার জানুন
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ঘুম থেকে ওঠার পর পিঠের আড়ষ্টতা কিংবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হাঁটুর তীব্র যন্ত্রণা!পেশী ও জয়েন্ট বা হাড়ের জোড়ের ব্যথা এখন আর কেবল বয়স্কদের সমস্যা নয়। দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপের সামনে বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে শোয়া কিংবা কায়িক পরিশ্রমের অভাব আমাদের তরুণ প্রজন্মকেও ঠেলে দিচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথার দিকে। কিন্তু এই ব্যথা কি কেবল ক্লান্তি, নাকি ভেতরে লুকিয়ে থাকা বড় কোনো প্রদাহের লক্ষণ?
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, পেশী ব্যথা বা মায়ালজিয়া মূলত পেশীর ভেতরে ক্ষুদ্র চোট, ক্লান্তি বা প্রদাহের কারণে হয়। অতিরিক্ত ভারবহন, দীর্ঘসময় একই ভঙ্গিতে বসা বা অপ্রচলিত ব্যায়াম পেশীতে ক্ষুদ্র আঘাত সৃষ্টি করে। এই ক্ষুদ্র আঘাতগুলো কোষের ক্ষয় ও প্রদাহকে ত্বরান্বিত করে, যার ফলে ব্যথা ও শক্তি কমে যায়। পেশীতে ল্যাকটিক অ্যাসিডের সাময়িক জমাট বাঁধাও এক ধরনের তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে জয়েন্ট ব্যথা বা আর্থ্রালজিয়া প্রায়শই সংযোগকারী টিস্যু ও হাড়ের ক্ষয় বা প্রদাহের সঙ্গে যুক্ত। জয়েন্টের ভেতরের কার্টিলেজ হলো নরম লেপ, যা হাড়কে একে অপরের সঙ্গে ঘষা-ঘষি থেকে রক্ষা করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্টিলেজের প্রাকৃতিক ক্ষয় শুরু হয়। তবে একে শুধু বয়সের বিষয় বলা যথেষ্ট হবে না। অতিরিক্ত ওজন, অনিয়মিত ব্যায়াম, জৈবিক সমস্যা বা অপ্রতুল পুষ্টি ইত্যাদি জয়েন্টের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। কখনও কখনও হাড় ও জয়েন্টে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয় বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণও দেখা দেয়। এছাড়াও শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে তা জয়েন্টে জমা হয়ে তীব্র যন্ত্রণার সৃষ্টি করে।
আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা ক্রনিক স্ট্রেস থেকেও শরীরে পেশীর সংকোচন ও ব্যথা হতে পারে। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের প্রভাব কোষের প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা ব্যথা তীব্র করে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক বিশ্রাম ও সুষম খাদ্য পেশী ও জয়েন্টের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
ক্লান্তি বা ব্যথা কমাতে হালকা ব্যায়াম, যেমন হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকর। ব্যায়াম পেশীর রক্ত চলাচল বাড়ায়, টিস্যুকে পুষ্টি দেয় এবং জয়েন্টের নমনীয়তা রক্ষা করে। তবে ব্যথা তীব্র হলে বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নির্দিষ্ট জয়েন্টে প্রদাহ থাকলে হালকা বরফ বা গরম কম্প্রেস কখনো কখনো আরাম দিতে পারে।
পুষ্টিও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্যালসিয়াম, ভিটামিন D, ম্যাগনেসিয়াম, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার কার্টিলেজ ও পেশীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা রক্ষা করে। বিশেষ করে ভিটামিন C ও প্রোটিন টিস্যুর মেরামত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
পেশী ও জয়েন্ট ব্যথা শুধু বয়সজনিত নয়। অনিয়মিত জীবনধারা, দীর্ঘ সময় এক ভঙ্গিতে বসা, ওজনের চাপ, সঠিক পুষ্টির অভাব, অপ্রচলিত ব্যায়াম এবং মানসিক চাপ সব মিলেমিশেই ব্যথার প্রকৃত কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ব্যথা উপেক্ষা করলে তা ক্রমশ তীব্র হয়ে যেতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ব্যথানাশক ওষুধের (Painkiller) ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে ব্যথার মূল কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।প্রতিরোধমূলক চর্চা, যেমন- নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পানি, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট দৈনন্দিন জীবনকে ব্যথামুক্ত রাখতে সাহায্য করে।তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, হঠাৎ ফোলা, জয়েন্টে গরম বা লালচে ভাব দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম ।
সতর্কতা, সচেতনতা এবং নিয়মিত যত্নের সমন্বয়ই পেশী ও জয়েন্টের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে পারে। মনে রাখতে হবে স্বাস্থ্যের প্রতিটি ছোট পদক্ষেপই ভবিষ্যতের বড় উপকার।