{{ news.section.title }}
রোজ এন্টাসিড খেয়ে ক্লান্ত? গ্যাসের সমস্যার উৎস কি তবে মগজে!
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
প্রতিদিনের জীবনে পেট ফাঁপা, গ্যাস বা বমি ভাবকে আমরা খুব সাধারণ বিষয় হিসেবেই মনে করি। বেশিরভাগ সময়ই এর জন্য দায়ী করা হয় অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনকে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা এই চিরাচরিত ধারণাটিকে আমূল বদলে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পেটের সমস্যার গোড়া শুধু পাকস্থলীতে নয়, বরং এটি গভীরভাবে জড়িয়ে আছে আমাদের মস্তিষ্কের সাথেও।
অন্ত্র এবং মস্তিষ্কের এই অদৃশ্য অথচ শক্তিশালী যোগাযোগ মাধ্যমকে বলা হয় ব্রেন-গাট এক্সিস। এটি এমন এক অবিচ্ছেদ্য সংযোগ, যেখানে মস্তিষ্ক এবং অন্ত্র প্রতিনিয়ত একে অপরের সাথে রাসায়নিক সংকেত বিনিময় করে চলছে। ফলে আমাদের মানসিক উদ্বেগ বা স্ট্রেস যেমন হজমে গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে, ঠিক তেমনি অন্ত্রের অস্বস্তি প্রভাব ফেলতে পারে আমাদের মেজাজ বা হরমোনের ওপরও। অর্থাৎ, পেটের সুস্বাস্থ্য কেবল খাবারের প্লেটে নয়, বরং মানসিক প্রশান্তির ওপরও অনেকটাই নির্ভরশীল।
আমাদের অন্ত্রে থাকা গুড ব্যাকটেরিয়া (Gut Microbiota) মস্তিষ্কে সিগন্যাল পাঠায়, যা হজম, ইমিউন সিস্টেম এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যখন এই ব্যালান্স বিঘ্নিত হয়, তখন গ্যাস, পেট ফাঁপা, বদহজম বা এমনকি চাপ-উদ্বেগের সমস্যাও দেখা দেয়।
গ্যাস বা ফোলাভাবের মূল কারণসমুহ:
☞ খাবারের প্রভাব:উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন লেন্টিল, ডাল বা ব্রোকলি হজমে একটু সময় নেয়। আবার কার্বনেটেড পানীয় বা বেশি চিনি থাকলে ফারমেন্টেশন বেড়ে যায়।
☞ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য: অন্ত্রে গুড ব্যাকটেরিয়া কমলে হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত আসে। প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার, যেমন দই বা কিমচি ব্যালান্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
☞ স্ট্রেস ও মানসিক চাপ: মানসিক চাপ হলে মস্তিষ্কের সিগন্যাল বদলায়। এটা অন্ত্রে গ্যাস উৎপাদন বা পেট ফোলানোর প্রবণতা বাড়াতে পারে।
নিয়ন্ত্রণে করণীয় :
⇨ খাবার ধীরে খান এবং ভালোভাবে চিবিয়ে নিন।
⇨ বেশি কার্বনেটেড ড্রিংক বা ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন।
⇨ প্রোবায়োটিক ও ফাইবারযুক্ত খাবার রাখুন। যেমন দই, ওটস, কলা।
⇨ স্ট্রেস কমাতে ধ্যান, হালকা ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন।
⇨ঘুমের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন। পর্যাপ্ত ঘুম গাট-মস্তিষ্ক সংযোগকে সমর্থন দেয়।
গবেষকরা বলছেন, পেটের সমস্যা শুধু খাবারের ফলেই হয় না। পাশাপাধি যদি অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়া ও মস্তিষ্কের সংকেত ঠিক থাকে তাহলে গ্যাস, ফোলাভাব বা বদহজম অনেকটাই কমানো যায়। তাই শুধু ওষুধ নয়, লাইফস্টাইল, খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক স্বাস্থ্য একসাথে নিয়ন্ত্রণ করাটাও জরুরি।