থাইরয়েড কী ও করণীয়

থাইরয়েড কী ও করণীয়
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

গলার সামনের থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাক ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থির কার্যক্রমে সমস্যা হলে নারী–পুরুষ ও শিশু সবার শরীরেই জটিলতা দেখা দিতে পারে।

গলার সামনের দিকে অবস্থিত থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরে থাইরয়েড হরমোনের প্রধান উৎস। এই হরমোন শরীরের প্রতিটি কোষ, টিস্যু ও অঙ্গের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে। বিপাকের হার, হৃদ্‌যন্ত্রের কর্মক্ষমতা, হজমপ্রক্রিয়া, পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্য স্বাভাবিক রাখতে থাইরয়েড হরমোনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে থাইরয়েডের সমস্যা হলে শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

থাইরয়েডের ধরন
থাইরয়েড সমস্যার মধ্যে প্রধান দুটি হলো-হরমোনের স্বল্পতা বা হাইপোথাইরয়েডিজম এবং হরমোন অতিরিক্ত নিঃসরণ হওয়া বা হাইপারথাইরয়েডিজম। এ ছাড়া থাইরয়েড ফুলে যাওয়া (গলগণ্ড), থাইরয়েড টিউমার ও থাইরয়েড ক্যানসারও হতে পারে।

কারণ
থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে আয়োডিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আয়োডিনের ঘাটতি হলে হরমোন কম তৈরি হয় বা থাইরয়েড ফুলে যেতে পারে। জন্মগতভাবে থাইরয়েড গ্রন্থির ত্রুটি থাকলেও সমস্যা দেখা দেয়। পরিবারের কারও থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে পরবর্তী প্রজন্মের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার ত্রুটি ও অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার কারণেও থাইরয়েড আক্রান্ত হতে পারে।

লক্ষণ
হাইপোথাইরয়েডিজমে নারীদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। লক্ষণের মধ্যে রয়েছে অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি, সব সময় ক্লান্তি, অনিয়মিত বা দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাসিক, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, চুল ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বারবার গর্ভপাত ও বন্ধ্যত্ব। শিশুদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়া, বয়ঃসন্ধি বিলম্ব ও মানসিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, হাত কাঁপা, উদ্বেগ, অতিরিক্ত ঘাম, ঋতুচক্রে কম রক্তক্ষরণ, পেশিশক্তি কমে যাওয়া এবং চোখ বড় হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

রোগ নির্ণয়
উপসর্গ না থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তে ফ্রি থাইরক্সিন ও টিএসএইচ (থাইরয়েড-স্টিমুলেটিং হরমোন) পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনে থাইরয়েডের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা, গলার আলট্রাসনোগ্রাফি ও রেডিও-আয়োডিন আপটেক পরীক্ষা করা হতে পারে। ক্যানসারের সন্দেহ হলে বায়োপসি প্রয়োজন হয়। নারীদের সন্তান নেওয়ার আগে এবং গর্ভাবস্থায় উপসর্গ না থাকলেও থাইরয়েড পরীক্ষা করানো নিরাপদ বলে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দেন।

চিকিৎসা ও করণীয়
হাইপোথাইরয়েডিজমে সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি বা আজীবন ওষুধ সেবন করতে হয়। নিয়মিত পরীক্ষা করে ওষুধের মাত্রা সমন্বয় জরুরি। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। থাইরয়েডজনিত যেকোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন চিকিৎসকেরা।
 

তথ্য দিয়েছেন: ডা. মারুফা মোস্তারী, সহকারী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়


সম্পর্কিত নিউজ