জামায়াত আমিরের ‘নারীবিদ্বেষী পোস্ট’ ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ

জামায়াত আমিরের ‘নারীবিদ্বেষী পোস্ট’ ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ
  • Author, চবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। রোববার রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে কাটা পাহাড় সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে শোনা যায়। তারা স্লোগানে বলেন, “নারী নয় পতিতা-শফিক তুই ক্ষমা চা”, “আমার সোনার বাংলায় নারী হেনস্থাকারীদের ঠাঁই নাই”, “দেশের শক্তি অর্ধেক নারী শফিক তুই জানস নাকি”। এ ছাড়া “ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ কিক আউট”, “মোল্লাতন্ত্রের বিষদাঁত ভেঙে দাও”, “রাজাকারের ঠিকানা এ বাংলায় হবে না”সহ আরও একাধিক স্লোগানে ধর্মের নামে নারীবিদ্বেষী রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিতর্কিত পোস্টকে ‘হ্যাক’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তারা বিশ্বাস করেন না। আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, এত দ্রুত একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে আবার ফিরে আসার দাবি প্রশ্নবিদ্ধ। তারা বলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে নারীদের অবমাননা করা একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “একটি গণতান্ত্রিক দেশে কর্মজীবী মা-বোনরাই সমাজ ও রাষ্ট্রের চাকা সচল রাখছেন। সেখানে তাদের নিয়ে এমন কটূক্তি চরম নিন্দনীয়। ইসলামে নারীর সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, অথচ সেই নারীদেরই অপমান করা হচ্ছে। আমরা এই বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি।”

স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রুতি রাজ চৌধুরী বলেন, “৫ আগস্টের পর যে দেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, এই ধরনের বক্তব্যে সেই স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। যারা নিজেদের নামের সঙ্গে ইসলাম ব্যবহার করে, তারাই আবার নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে। তারা কোনো দায় স্বীকার করছে না। জনগণের সামনে তাদের আসল চেহারা তুলে ধরতে হবে।”

সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ঘোষণা দেন, ধর্মের নামে নারীবিদ্বেষ ও বিদ্বেষমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।


সম্পর্কিত নিউজ