জামায়াতের আমিরের টুইটকে কেন্দ্র করে জাবিতে সমন্বিত ঝাড়ু মিছিল

জামায়াতের আমিরের টুইটকে কেন্দ্র করে জাবিতে সমন্বিত ঝাড়ু মিছিল
  • Author, জাবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

‎বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রকাশিত এক পোস্টের প্রতিবাদে সমন্বিত ঝাড়ু মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীরাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে বিশ্বিবদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে বটতলায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এসময় তাদেরকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

‎‎ঝাড়ু মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীসহ বিশ্বিবদ্যালয়ের শতাধিক  নেতাকর্মী উপস্থিত ছিল।

‎‎সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জাবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দা অন্যনা ফারিয়া বলেন, "নারীদের অপমান, অবমাননাকর ভাষা ও দমন করার যে প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। লক্ষ লক্ষ নারী পরিবার ও দেশের জন্য পরিশ্রম করেন। তাদের কুক্ষিগত বা পশ্চাৎপদ করার কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। নারী-পুরুষ সবাই একসাথে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। যারা প্রতিনিধিত্বের দাবি করে তাদের নীরবতা ও হুমকিমূলক বক্তব্য নারীর মর্যাদাকে আরও ক্ষুণ্ন করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, এই অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে।
‎ছাত্র শক্তির সেক্রেটারি নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচারনা শুরু থেকে দেখছি, নারীদেরকে বিভিন্ন জায়গায় হেনস্থা ও অবমাননা করা হচ্ছে।আজ জামায়াতের নেতা কর্মজীবী নারীদের প্রস্টিটিউট আখ্যা দিয়েছে,যা নির্বাচন পরবর্তী নারীদের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আমরা সকল জায়গায় হওয়া নারীদের অবমাননা ও সহিংসতা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

‎জাবি শাখা ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক সোহাগি সামিয়া বলেন, সারা দেশে নির্বাচন চললেও নারীদের অবমাননা করে যারা রাজনীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। দেশের ৫১ শতাংশ নারীকে অপমান করে কেউ কীভাবে ভোট চাইতে পারে, এটা স্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। দেড় বছরে নারীর বিরুদ্ধে অবমাননা ও সহিংসতার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে।

‎তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নারীসম্মান ও প্রতিরোধের দেশ। নারীবিদ্বেষী রাজনীতির বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ একটি সতর্কবার্তা। নারীর মর্যাদার প্রশ্নে আমরা কখনোই নীরব থাকব না।


সম্পর্কিত নিউজ