{{ news.section.title }}
বাঙালি মুসলিম পরিচয় ও সংস্কৃতিকে নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করা সময়ের দাবিঃ ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক বলেছেন, একটি জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহার আসলে একটি সভ্যতারই ঘোষণা। এটি বলে দেয় রাষ্ট্র কী ধরনের মানুষ গড়তে চায়, কী মূল্যবোধকে কেন্দ্রে রাখতে চায়। কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ইশতেহার তৈরি হলে নাগরিককে দেখা হয় ভোক্তা বা শ্রমিক হিসেবে, সভ্যতার উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়। তাই বাঙালি মুসলিম পরিচয় ও সংস্কৃতিকে নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করা সময়ের দাবি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আইএসআরসি ট্রাস্ট আয়োজিত বাংলাদেশের মানুষ কেমন নির্বাচনী ইশতেহার চায় শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র কি পরিচয় ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে চায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বাঙালি মুসলমান পরিচয় ও সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহারগুলোতে এই বিষয়টি প্রায় অনুপস্থিত। তাই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে বাঙালি মুসলিম আইডেন্টিটি ও কালচারকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ একই সঙ্গে বাঙালি এবং মুসলিম। এটি কোনো কৃত্রিম পরিচয় নয়, এটি প্রায় এক হাজার বছরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অভিজ্ঞতার ফল। বাংলা ভাষা এসেছে এই ভূখণ্ডের মাটি, নদী, কৃষি ও লোকজ জীবনের ভেতর দিয়ে। আর ইসলাম এসেছে নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা, সামাজিক ন্যায় ও সাম্যের দর্শন নিয়ে। এই দুইয়ের সংমিশ্রণেই তৈরি হয়েছে বাঙালি মুসলিম সংস্কৃতি। অতএব, বাঙালি ও মুসলিম পরিচয়কে পরস্পরের বিরোধী হিসেবে দেখানো আসলে বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এটি মূলত উপনিবেশিক ও পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক বিভাজনের ফল। যদি একটি রাষ্ট্র বলে আমাদের কোনো সাংস্কৃতিক পরিচয় নেই, আমরা কেবল উন্নয়ন চাই তাহলে বাস্তবে সেই রাষ্ট্র ধীরে ধীরে বিদেশি সাংস্কৃতিক ধারা, ভোগবাদী জীবনদর্শন ও বাজারকেন্দ্রিক মূল্যবোধের অধীন হয়ে পড়ে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক সিনিয়র সচিব ড. কে এম কবিরুল ইসলাম বলেন, জেন-জি যেমন বাংলাদেশ চায় সেরকম ইশতেহার চায় বাংলাদেশের মানুষ। জেন-জি এর আত্মত্যাগের কারণেই আজকে আমরা বাংলাদেশের মানুষ কেমন নির্বাচনী ইশতেহার হয় সেটা আলোচনার সুযোগ পেয়েছি। তাই বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলকে ইশতেহারে নতুন প্রজন্মের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্ম ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। কোটার বিরুদ্ধে তারা রাস্তায় নামলেও তাদের প্রতিরোধের পেছনে ছিল দুর্নীতির বিরোধিতা, নাগরিক অধিকার, ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার অধিকার সহ নানা বঞ্চনার প্রতিবাদে তারা ফ্যাসিস্ট হঠাও তথা এক দফার ঘোষণা করে। বাংলাদেশের আপামর জনতা দেশের সংস্কারের ব্যাপারে যা চায় সেটাকে সকল রাজনৈতিক দলকে ইশতেহারে আনতে হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সবার সমান সুযোগের যে অভাব সেটি নিরসন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতি, নাগরিক ও মানবিক অধিকার ইশতেহারে আসতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে বাধা বিশেষ করে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও বিপুল সংখ্যক যুবসমাজকে যদি দক্ষ করে গড়ে না তোলা যায় তাহলে দেশের উন্নতি হবেনা।
অনুষ্ঠানে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও ব্যবসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বলেন, ইশতেহার একটি প্রতিশ্রুতি কিন্তু দলগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেটি মনে রাখেন না। নির্বাচনের আগেই নারী হেনস্থা ও হত্যাকান্ড শুরু হয়ে গেছে। যা নির্বাচনের জন্য অশনি সংকেত। জনাব তারেক রহমানের উচিত হবে চাল ডাল ফ্যামিলি কার্ড না দিয়ে আপনার উশৃংখল কর্মীদের থামানো।
পলিসি এক্সপার্ট দেওয়ান এ এইচ আলমগীর বলেন, ইশতেহারে অতিদারিদ্রতা দূরীকরনে কি ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে তা জনগনকে জানানো উচিত রাজনৈতিক দলগুলোকে। যুব সমাজকে কর্মদক্ষ করে তোলার ইশতেহার থাকতে হবে। যুবসমাজের অদক্ষতায় তারা দেশে বিদেশের কোথাও কোন ভালো চাকরি পায়না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন এর সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক ড. নুরুল্লাহ, ড. মাসুদুর রহমান, নাজমুল হোসাইন, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, পিএইচডি গবেষক সুমাইয়া রাবেয়া প্রমুখ।