{{ news.section.title }}
তারেক রহমানের পরিকল্পনায় বিএনপি আজ দেশে সন্ত্রাসী হামলা শুরু করেছেঃ শিবির নেতা
- Author, চবি প্রতিনিধি
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি–জামায়াতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির। সমাবেশে “তারেক রহমানের পরিকল্পনায় আজ দেশে সন্ত্রাসী হামলা শুরু হয়েছে” এমন অভিযোগ তুলে শিবির নেতা হাবিবুল্লাহ খলেদ।
রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বর (জিরো পয়েন্ট) থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শাহজালাল হল, শাহ আমানত হল, সোহরাওয়ার্দী হল, আলাওল হল ও এ এফ রহমান হল প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্মরণ চত্বরে এসে সমাবেশে রূপ নেয়। এতে প্রায় দেড় শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলে “লন্ডনের কমলা, সন্ত্রাসীদের সামলা”, “আমার ভাই শহীদ কেন, খাম্বা তারেক জবাব দে”, “লীগ গেছে যেই পথে, দল যাবে সেই পথে”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের অফিস সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ বলেন, ৫ আগস্টের পর একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে এবং নির্বাচন সামনে রেখে আবারও মানুষ হত্যা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম তাদের দেশ নেতা দেশে আসার পর হয়তো সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করবেন। কিন্তু আমরা দেখলাম গতকাল ঢাকা-৮ আসনের একজন প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে, তার আগের দিন ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। আজ সকালে একজন নারীর ওপরও হামলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যে দলের দীর্ঘদিনের প্রধান একজন নারী, সেই দলের নেতাকর্মীরা কীভাবে একজন নারীর ওপর হামলা করে—এটা দেশবাসীর প্রশ্ন। দেশের নেতা দেশে এসে সারাদেশে বক্তব্য দিলেও এসব হামলার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। দেশ নেতার পরিকল্পনায় আজ দেশে সন্ত্রাসী হামলা শুরু হয়েছে।”
সমাবেশে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি মো. পারভেজ। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠন নিয়মিত সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপকর্মে জড়িত ছিল। বাধা পেলে মানুষ খুন করত। একই ধারাবাহিকতায় এখন এগোচ্ছে ছাত্রদল, বিএনপি ও যুবদল।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জুলাইয়ে আমরা যেভাবে জীবন দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করেছি, ঠিক সেভাবেই আবারও আপনাদের বিতাড়িত করা হবে। আপনারা ভাবছেন একটি দল চলে যাওয়ায় সব দখল করবেন। ছাত্রজনতা ঘুমিয়ে নেই। যে জেন জি প্রজন্ম জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছে, তারা প্রয়োজনে আবারও রক্ত দিতে প্রস্তুত।”
পারভেজ আরও বলেন, “দলীয় অন্তর্কোন্দলের হত্যাকাণ্ড থেকে বেরিয়ে এসে আজ নিজেদের দলের বাইরের মানুষ হত্যা করে আপনারা প্রমাণ করেছেন, সামনে আপনারা হাসিনার বাহিনীতে পরিণত হতে যাচ্ছেন। ছাত্রজনতা ও ছাত্র শিবির বেঁচে থাকতে বাংলাদেশে আর কোনো হাসিনা হতে দেওয়া হবে না।”
তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর যিনি নিজেদের দলের লোকের ভয়ে দেশে আসতে পারেননি, সেই পলাতক দেশে এসে বলেছেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। আজ মানুষ হত্যার মাধ্যমে সেই প্ল্যান প্রকাশ্যে এসেছে। আমরা এই সন্ত্রাসী প্ল্যান বাস্তবায়ন হতে দেব না।” বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আরও বলেন, “হাসিনাকে দিল্লি পাঠানো হয়েছে। আপনাকে দিল্লিতেও যেতে দেওয়া হবে না।সীমান্তে একেকজন প্রহরী হিসেবে কাজ করবে , সীমান্তে ধরে ঝুলিয়ে দিবে ।”
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা শেরপুরে নিহত মাওলানা রেজাউল করিমের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন এবং দেশে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।