{{ news.section.title }}
ইবিতে নির্বাচনের আগে নিয়োগ না করার দলীয় সিদ্ধান্তে সভাপতির অনুপস্থিতি, ভেস্তে গেল নিয়োগ বোর্ড
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামানের অনুপস্থিতির কারণে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়েছে।
অনুপস্থিত ওই শিক্ষক বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) ইবি শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় (২৫ জানুয়ারি) নির্ধারিত সময়ের দুই ঘন্টা পর নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করার ঘোষণা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেশনজট নিরসনে প্রশাসন সীমিত পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রাখতে চাইলেও কেন এমন হঠাৎ করেই নিয়োগ বোর্ড বাতিল করেছে তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।
জার্নালিজম বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভাগটি শিক্ষক সংকটে ভুগছে এই সংকটকালীন মুহূর্তে আবারও নিয়োগ বোর্ড স্থগিত এর বিষয়টি আমাদেরকে হতাশ করেছে।
জানা যায়, রবিবার সকাল ১০টা থেকে নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইউট্যাবের সিদ্ধান্তের কারণে ড. রশিদুজ্জামান বোর্ডে উপস্থিত হননি। ফলে বোর্ডের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা স্থগিত করা হয়। নিয়োগ পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। পরবর্তীতে স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।
প্রার্থীদের কয়েকজন জানান, নিয়োগ পরীক্ষা দিতে এসে তারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে আগেই বিষয়টি জানাতে পারতেন। একই সঙ্গে, যে শিক্ষকের অনুপস্থিতির কারণে পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে, তারও তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তারা।
এ বিষয়ে ড. রশিদুজ্জামানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার অধিকতর স্বচ্ছতার স্বার্থে জাতীয় নির্বাচনের আগে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ রাখার পক্ষে তারা মত দিয়েছেন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজকের বোর্ডে উপস্থিত হননি। নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তার মতে, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ হলেও ইবির প্রেক্ষাপটে নির্বাচনের আগে কোনো নিয়োগ না হওয়াই তাদের প্রত্যাশা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বোর্ডের বাকি তিন সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং প্রার্থীরাও নির্ধারিত সময়ে এসেছিলেন। বিভাগের সভাপতি আগের দিন পর্যন্ত উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি আসেননি। দলগত সিদ্ধান্তের কারণেই তিনি বোর্ডে যোগ দেননি বলে জানা গেছে। তার অনুপস্থিতির কারণেই বোর্ডটি স্থগিত করতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, ড. রশিদুজ্জামানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং নিয়মতান্ত্রিক ভাবে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।