বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে চবির শাটল ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, প্রশ্নে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত

বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে চবির শাটল ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়, প্রশ্নে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

নির্ধারিত শিডিউল অমান্য করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শাটল ট্রেনের গন্তব্য পরিবর্তনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্বাচনী সমাবেশে অংশগ্রহণের সুবিধার্থে শাটল ট্রেন চট্টগ্রাম স্টেশন পর্যন্ত বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নিয়মিত যাত্রী শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

রোববার ২৫ জানুয়ারি সকালে ক্যাম্পাস থেকে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া শাটল ট্রেনটির নিয়মিত গন্তব্য ছিল ষোলশহর স্টেশন। প্রচলিত সূচি অনুযায়ী সেখানে পৌঁছে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ট্রেনটির ক্যাম্পাসে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন ট্রেনটি ষোলশহর অতিক্রম করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে ষোলশহর থেকে ক্যাম্পাসমুখী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় পড়েন এবং প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।

চট্টগ্রাম শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী শাটল ট্রেনের মাধ্যমে যাতায়াত করে থাকেন। শিডিউল পরিবর্তনের কারণে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা ও ক্লাস টেস্টে অংশ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে ক্ষোভ প্রকাশ পায় এবং দায় নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

কলা অনুষদের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “আজকে শাটল নিয়ে গেলো জোর করে সমাবেশে যাওয়ার জন্য। শিক্ষার্থীদের সময় যে নষ্ট হলো এর দিকে নজর নাই। সামনে সুযোগ পেলে সমাবেশে যাওয়ার সময় শাটল না নিয়ে, শিক্ষার্থীদের হল থেকে আর বাসা থেকে সমাবেশে নিয়ে যাবে না এমন কোনো নিশ্চয়তা তো নাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “শহরমুখী ৮:৪০ এর শাটল ও ক্যাম্পাসমুখী ৯:৩০ এর শাটল টাইমিং বিপর্যয় হয়েছে। প্রশাসন কি করে? চাকসু কি করে? চাকসুর এজিএস ও শাটলে করে সমাবেশে যোগ দিলো।”

এ ঘটনায় চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিককে দায়ী করে যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আজকে ৮.৪০ এর শাটল ষোলশহর থেকে বটতলী আসা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে এবং সেই ঘটনার জন্য আমাকে দায়ী করা হচ্ছে। বাস্তবিক সত্য হলো, শাটলের বটতলী আসা নিয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য ছিলো না। শাটল বটতলী নিয়ে আসার সাথে আমি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত ছিলাম না।” তিনি আরও বলেন, “একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে শাটল আমার কথায় বটতলী চলে আসবে আমি নিজেকে এত ক্ষমতাবান মনে করিনা। আমার সেই এখতিয়ারও নেই, জীবনে কখনো এমন কাজ করার প্রশ্নই আসে না।”

চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, “শাটল ট্রেন কেবল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য এটি নির্দিষ্ট সময় ও শিডিউল মেনে চলে। কিন্তু আজকে আমরা দেখেছি সকাল ৮.৪০ মিনিটে ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটি যেটার গন্তব্য ছিল ষোলশহর কিন্তু সেটি ষোলশহর ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম স্টেশন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা পরবর্তীতে জানতে পারি বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী পরিবার অংশগ্রহণের কারণে এটি করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “নিয়ে যাওয়ার কারণে ষোল শহর থেকে সব সময় যারা ক্যাম্পাসের সাড়ে নয়টায় ছাট হলে যাওয়া আসা করে তারা ভোগান্তির শিকার হয়। এখানে প্রায় এক ঘন্টার অধিক সময় শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেকের ক্লাস, পরীক্ষা ও ক্লাস টেস্ট ছিল কিন্তু তারা সঠিক সময় মত অংশগ্রহণ করতে পারেনি এজন্য আমার কাছে অনেক অভিযোগ জানিয়েছে। আমি যেহেতু চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন সম্পাদক বিষয়টি আমাকে জানানো উচিত ছিল কিন্তু এ ব্যাপারে আমাকে কোন কিছু জানানো হয়নি।” তিনি এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাইবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ারদি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের একজন শিক্ষকের অনুরোধে শাটল ট্রেনের গন্তব্য ষোল শহর হতে বটতলী স্টেশন (চট্টগ্রাম স্টেশন) পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।” তিনি জানান, “গতকাল রাত সাড়ে তিনটায় আবেদনটি রেলওয়ে কে পাঠানো হয় কিন্তু এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আমি অবগত করতে পারেনি এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।” ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে শিক্ষার্থীদের দ্রুত জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। 


সম্পর্কিত নিউজ