চাকসুর সংবাদ সম্মেলনঃ

চবি শিক্ষক রোমান শুভর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় চাকসুর নারী নেত্রীদের ওপর সংঘবদ্ধ সাইবার বুলিং

চবি শিক্ষক রোমান শুভর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় চাকসুর নারী নেত্রীদের ওপর সংঘবদ্ধ সাইবার বুলিং
  • Author, চবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া, নিজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদকসেবন ও শিক্ষার্থী হেনস্তাসহ নানা অভিযোগে থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় চাকসুর নারী নেত্রীদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ সাইবার আক্রমনসহ কৃ্ত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি, ভিডিয়ো বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরিত্রহনন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ তুলেছে চাকসুর নেতৃবৃন্দ।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১টায় চাকসু ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবীব। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছে। এদের মধ্যে আইন অনুষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাসান মোহাম্মদ রোমান শুভ অন্যতম, যার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।

চাকসু জানায়, রোমান শুভর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত শেষ না করে তাকে ভর্তি পরীক্ষার সময় হল গার্ড হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সর্বশেষ বি ইউনিট পরীক্ষার দিন তার উপস্থিতি নিশ্চিত হলে চাকসু নেতৃবৃন্দ আইন অনুষদের ডিনের সঙ্গে কথা বলতে যান। এ সময় রোমান শুভ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করে প্রক্টর অফিসে হস্তান্তর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, প্রশাসনের কাছে বারবার মামলা দায়েরের অনুরোধ জানানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরবর্তীতে চাকসু প্রতিনিধিরা বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা করতে গেলে চার ঘণ্টা অবস্থান করেও মামলা রুজু করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ দায়ের করেই ফিরে আসতে হয়।

চাকসু দাবি করে, কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন বা সহিংসতা ছাড়াই অভিযুক্তকে প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনাটিকে ‘মব’ আখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। এতে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় চাকসুর সহ-ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস রিতা ও অন্যান্য নারী নেত্রীদের লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘবদ্ধ সাইবার বুলিং চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, চরিত্রহনন, এআই প্রযুক্তি দিয়ে ভুয়া ভিডিও তৈরি এবং প্রকাশ্য হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি চাকসুর।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, প্রক্টরিয়াল প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্যে রোমান শুভর ডিজিটাল ডিভাইসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলে চাকসু। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী নিয়োগ সংক্রান্ত সকল তথ্য প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে চাকসু চার দফা দাবি জানায়-
০১. রোমান শুভর বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন ও প্রতিবেদন প্রকাশ,
০২. তদন্তাধীন অবস্থায় তাকে সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি,
০৩. সাইবার বুলিং ও হুমকির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা,
এবং 
০৪. বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রত্যাহার ও সংশোধন।

চাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, নিষিদ্ধ সংগঠন ও অনৈতিক রাজনীতির বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। চাকসুকে যোক্তিক দাবির সাথে প্রশাসন  সহযোগিতাপূর্ণ আচরণ না করলে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আন্দোলন করবো। 
 

সম্পর্কিত নিউজ