জবির স্টাফ বাসে ওঠায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ

জবির স্টাফ বাসে ওঠায় নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার অভিযোগ
  • Author, জবি প্রতিনিধি
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) স্টাফ বাসে করে ক্যাম্পাসে আসার সময় তিন শিক্ষার্থী এক কর্মকর্তার হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক খন্দকার হাবিবুর রহমান।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে চিটাগং রোড থেকে জবি রুটের ১৩ নং বাসে হেনস্তার ঘটনা ঘটে। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযোগ জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন-চিটাগাং রোড থেকে আসা একাউন্টিং বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম হিমাদ্র, কাজলা থেকে আসা ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইইআর) বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মিতু আক্তার এবং শনির আখড়া থেকে আসা দর্শন বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত স্টুডেন্ট বাসটি মিস করায় তারা স্টাফ বাসে উঠেছিলেন। এ সময় বাসে থাকা এক কর্মকর্তা তাদের পরিচয় জানতে চান এবং আইডি কার্ড দেখতে চান। আইডি কার্ডের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লোকাল বাসে চলাচলের কথা বলেন।

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান বলেন, “স্টুডেন্ট বাস মিস করায় আমরা স্টাফ বাসে উঠেছিলাম। উনি প্রথমে আমার পরিচয় জানতে চান, এরপর আইডি কার্ড দেখতে চান। কার্ড দেখে বলেন-এর তো কোনো মেয়াদ নেই, এই কার্ড নিয়ে আর কখনো আমাদের বাসে উঠবেন না। আরেক আপুর আইডি কার্ড প্রায় পাঁচ মিনিট নিজের কাছে রেখে দেন।”

একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম হিমাদ্র বলেন, “বাসে ওঠার পর উনি বলেন, আমি নাকি প্রতিদিন এই বাসে উঠি। আমি বলেছি, আজই প্রথম উঠেছি, কারণ স্টুডেন্ট বাস মিস হয়েছে। তখন তিনি বলেন, তুমি আর এই বাসে আসবা না, লোকাল বাসে ভাড়া দিয়ে আসবা। এই বাস তোমাদের জন্য না।"

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিকল্প বাসে উঠতে হয়। সে ক্ষেত্রে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য ও অপমানজনক। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাসে উপস্থিত আরেকজন কর্মকর্তা ও সহকারী রেজিস্ট্রার হালিম বলেন, “ঘটনাটি ঘটেছে সত্য। তবে কেন এমন আচরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। আমরা প্রায়ই স্টুডেন্ট বাস মিস করা শিক্ষার্থীদের স্টাফ বাসে আসতে দেখি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, “যেকোনো শিক্ষার্থীর প্রয়োজন আমাদের আগে বিবেচনায় নেওয়া উচিত, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। বাস মিস করলে কাজলা বা শনির আখড়া থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি আরও কষ্টকর হয়। আমাদের সবার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করা। কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক যদি এ ধরনের দুর্ব্যবহার করে থাকেন, তবে তার শাস্তি হওয়া উচিত। এমনকি আমার ক্ষেত্রেও হলে শাস্তি হওয়া উচিত।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা হওয়ায় অভিযোগ পাওয়ার পর উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাবিবুর রহমান বলেন, “তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না, সেটা নিশ্চিত করতেই আইডি কার্ড নিয়েছিলাম। তবে যেভাবে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কথার মিল পাচ্ছি না।” পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাওয়ার কথা বলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “বাসে আরও অনেকে ছিলেন, চাইলে তাদের কাছে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে-আমি এমন কিছু বলেছি কি না।”

সম্পর্কিত নিউজ