৯ ঘণ্টা পর 'সেইফ এক্সিট' দেয়া হলো চবির সেই আওয়ামীপন্থী শিক্ষককে

৯ ঘণ্টা পর 'সেইফ এক্সিট' দেয়া হলো চবির সেই আওয়ামীপন্থী শিক্ষককে
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে প্রায় ৯ ঘণ্টা আটকে রাখার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ‘সেইফ এক্সিট’ দেয়। চাকসু নেতৃবৃন্দের আপত্তির মধ্যেই শনিবার রাত ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে প্রক্টরের গাড়িতে করে তাকে ক্যাম্পাস থেকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে চাকসুর কয়েকজন নেতা আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে আইন অনুষদের পেছনের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাকে উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের দপ্তরে নেওয়া হয়। সেখানে উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক), প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী এবং চাকসু নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাত ৯টার দিকে চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতার আপত্তির মুখেও প্রক্টরের গাড়িতে করে ওই শিক্ষককে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিতে দেখা যায়। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমান বলেন, মাদকের বিষয়ে যে স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছে, সেগুলো তার নয়। তিনি জানান, তিনি হলুদ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই কারণে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে হয়েছিল। তবে হলুদ দলের কোনো সাংগঠনিক পদে তিনি ছিলেন না বলেও দাবি করেন।

দিকে চাকসু প্রতিনিধিরা তার মোবাইল ফোন যাচাই করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার দাবি করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কেউ কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, তবে তিনি নিজ থেকে কখনো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে কোনো কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি। চাকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন, তারা প্রায় আড়াই ঘণ্টা থানায় বসে মামলা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া মামলা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রোমান শুভ শিক্ষার্থীদের তুলে এনে মামলা দিতেন। সহকারী প্রক্টর থাকাকালীন সময়ে জুবায়ের নামে এক শিক্ষার্থীকে ধরে এনে মামলা দেওয়া হয়েছিল, যার কারণে তার জীবনের প্রায় আড়াই বছর নষ্ট হয়েছে। আইন বিভাগে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার আন্দোলন হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এ ঘটনায় ভিন্নমত পোষণ করেছেন চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক। তিনি বলেন, চাকসু নেতৃবৃন্দ যেভাবে রোমান শুভকে আটক করেছেন, তা দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে সমর্থনযোগ্য নয়। রোমান শুভ প্রশাসনের আশ্রয়ে ক্যাম্পাসে আছেন।

নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার মুখে এই ঘটনা ঘটেছে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। তিনি আরও বলেন, রোমান শুভকে নিয়ে হঠাৎ চাকসুর নেতারা সক্রিয় হলেও নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে তারা নীরব। এদিকে চাকসুর নেতৃবৃন্দ মামলা করতে হাটহাজারী থানায় গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত নয়। সুস্পষ্ট অভিযোগ নিয়ে গেলেও শুরুতে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। পরে চাকসু প্রতিনিধিদের চাপে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অভিযোগ গ্রহণ করেন বলে জানা যায়। তবে প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী জানান, হাসান মোহাম্মদ রোমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তা হাটহাজারী থানায় চলমান রয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রক্টরিয়াল বডির শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় এবং তার নিরাপত্তা বিবেচনায় তাকে ক্যাম্পাস থেকে নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত নিউজ