{{ news.section.title }}
বিশ্ববাজারে বিটকয়েনের দামেও পতন নেপথ্যে রহস্য কী ?
- Author,
- Role, জাগরণ নিউজ বাংলা
-
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান আর্থিক ব্যবস্থায় নগদ অর্থের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করতে পারেন-এমন জল্পনা শুরু হওয়ায় শুক্রবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণেরও পর বিটকয়েনের দামও পতন দেখা দিয়েছে। এতে ক্রিপ্টোকারেন্সিটির দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
এদিকে, ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডলারের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ক্রিপ্টোকারেন্সির জন্য সহজ প্রবাহ ও বন্ধুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণের একটি স্বর্ণযুগ আসবে-এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে কঠিন সময় পার করছে বাজারটি। অক্টোবরে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকে শীর্ষ ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন এরই মধ্যে নিজের মূল্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে।এতে করে বিট কয়েণের উপর মানুষের আস্থা কমছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিটকয়েনের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ৩০০ ডলারে। আগের সেশনের পতনের ধারাবাহিকতায় এই দরপতন টানা চতুর্থ মাসের লোকসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা গত আট বছরের মধ্যে বিটকয়েনের সবচেয়ে দীর্ঘ ক্ষতির ধারা বলছে বিশ্লষকরা।
বাজারে বিক্রির চাপ আরও বেড়েছে ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ার্শকে বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ট্রাম্পের পছন্দ হতে পারে-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর। ওয়ার্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন এবং ফেডের ব্যালেন্স শিট ছোট করার দাবিও তুলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় ব্যালেন্স শিট থেকে বিটকয়েন ও অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি সুবিধা পেয়ে থাকে। কারণ, ফেড যখন অর্থবাজারে তারল্য সরবরাহ করেছিল, তখন এসব অনুমাননির্ভর সম্পদের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল।
সিডনির উইলসন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের পোর্টফোলিও কৌশলবিদ ড্যামিয়েন বোয়ি বলেন, ব্যালেন্স শিট সম্প্রসারণের বিপক্ষে আলোচনা শুরু হলেই স্বর্ণ, ক্রিপ্টোকারেন্সি এমনকি বন্ডের মতো সম্পদেও বিক্রির চাপ দেখা যায়।
এদিকে, ইথারও দুই মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৪৮ ডলারে।গত বছরের দরপতনের পর থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলো দিকনির্দেশনা খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। স্বর্ণ এবং কখনো কখনো শেয়ারবাজার বড় উত্থান দেখালেও ক্রিপ্টো বাজার সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি।
ক্রিপ্টো অপশন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম ডিরাইভ ডট এক্সওয়াইজেডের গবেষণা প্রধান শন ডসন বলেন, কিছু পারস্পরিক সম্পর্ক এখনো থাকলেও ‘এআই উচ্ছ্বাস নিয়ে শঙ্কা’ শুক্রবারের এই বিক্রির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতার পেছনে মাইক্রোসফটের শেয়ারদরও একটি প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল ব্যয়ের তথ্য প্রকাশের পর রাজস্ব প্রত্যাশার সামান্য ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ১০ শতাংশ পড়ে যায়, যা রাতারাতি বিশ্ব বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।সামনে কি হতে চলছে সময়ই বলে দিবে। তবে বিটকয়েন নিয়ে সারা বিশ্বে উত্তেজনা রয়েছে।