আবারও বাড়ল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার

আবারও বাড়ল বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ৩৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে আবারও ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা যাচ্ছে। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই রিজার্ভে ইতিবাচক অগ্রগতি এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৫৮১ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা প্রায় ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারের সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রোববার (১২ জুলাই) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ (Balance of Payments Manual-6) হিসাব পদ্ধতিতে দেশের নিট বা ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ৯৪২ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, অর্থাৎ প্রায় ৩১ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার।

 

অর্থনীতিতে দুটি ধরনের রিজার্ভ হিসাব বেশি গুরুত্ব পায়। এর মধ্যে গ্রস রিজার্ভ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত, আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী নিট রিজার্ভ হলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি দায়, ঋণ ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ এই বিপিএম-৬ পদ্ধতিতেই রিজার্ভ প্রকাশ করছে।

 

এর আগে গত ৭ জুলাই মে-জুন মেয়াদের এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর দেশের গ্রস রিজার্ভ কমে ৩৬ হাজার ৫১৯ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলারে।

 

তবে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে গ্রস রিজার্ভ প্রায় ৬২ মিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভ প্রায় ৭২ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, আকুর বিল পরিশোধের ধাক্কা দ্রুত সামাল দিতে সক্ষম হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভ বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স। সাম্প্রতিক সময়ে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয়, বৈদেশিক সহায়তা এবং ডলার বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিস্থিতিও রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী থাকলে আমদানি ব্যয় পরিশোধ, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ, ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা সহজ হয়। ফলে রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রণোদনা, রপ্তানি আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও এই প্রবণতা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার বাড়তে শুরু করায় আমদানি সক্ষমতা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যাচ্ছে।


সম্পর্কিত নিউজ