নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক সহিংসতা: আসক

নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক সহিংসতা: আসক
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ বাংলা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন যত কাছাকাছি আসছে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ তত বেশি অস্থির ও সহিংস হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার ও আইনগত সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আসক থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা, নিহত এবং আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, নির্বাচনী উত্তেজনার সঙ্গে সঙ্গে সহিংসতার প্রবণতাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

আসকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশে মোট ১৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারান ৪ জন এবং আহত হন ২৬৮ জন। তবে পরবর্তী মাস জানুয়ারিতে পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। ওই এক মাসেই নথিভুক্ত হয় ৭৫টি সহিংসতার ঘটনা, যেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ জন এবং আহত হন অন্তত ৬১৬ জন।

জানুয়ারি মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে আসক জানায়, পুরো মাসজুড়েই সহিংসতার তীব্রতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে সংঘটিত ৮টি ঘটনায় নিহত হন ৫ জন এবং আহত হন ২৬ জন। ১১ থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে ১৮টি সহিংস ঘটনায় প্রাণ হারান ২ জন, আহত হন ১৭৬ জন। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারি সময়ে, যখন ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়। এই ১১ দিনে ঘটে ৪৯টি সহিংসতার ঘটনা, যাতে নিহত হন ৪ জন এবং আহত হন ৪১৪ জন।

ঝুঁকিতে সাংবাদিকরা

রাজনৈতিক অস্থিরতার এই প্রেক্ষাপটে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংবাদকর্মীরাও নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছে আসক। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ডিসেম্বর মাসে যেখানে ১১ জন সাংবাদিক হামলা বা হয়রানির শিকার হন, জানুয়ারিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ জনে।

দেশে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র। সংস্থাটি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ ধৈর্য, সংযম ও সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আসক আরও বলেছে, আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।


সম্পর্কিত নিউজ